×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

প্রথম পাতা

জরিপ বলছে- ৬৫০ আসনের মধ্যে জিততে পারে ৪৩০টি

বড় জয়ের অপেক্ষায় লেবার পার্টি

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বড় জয়ের অপেক্ষায় লেবার পার্টি

কাগজ ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগেই কিয়ার স্টারমারের লেবার পার্টির কাছে একপ্রকার পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে কনজারভেটিভ পার্টি। ক্ষমতাসীন দলটি বলেছে, বিরোধী দলে থাকা লেবাররা রেকর্ড ভাঙা জয়ের পথে রয়েছে। এদিকে সব ধরনের জরিপ ও বিশ্লেষকদের মতও বলছে, প্রায় দেড় যুগ পর ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টিকে হটিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে লেবার পার্টি।

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও নর্দান আয়ারল্যান্ডসের ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোট গ্রহণ চলে একটানা রাত ১০টা পর্যন্ত। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় ৯টার মধ্যেই অধিকাংশ আসনের ফলাফল জানা যাবে। এর আগে কেন্দ্র ফেরত জরিপেও পাওয়া যাবে জয়-পরাজয়ের সম্ভাব্য চিত্র।

হাউস অব কমন্সের ৬৫০ সদস্যকে নির্বাচনের জন্য প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার রয়েছে। জয়ী দলকে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ৩২৬টি আসন পেতে হবে। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেয়ার আগে ফটো আইডি বা শনাক্তকরণ ছবি দেখাতে হয়েছে ভোটারদের। এক্ষেত্রে পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বয়স্ক বা অক্ষম ব্যক্তির বাস পাস এবং ওয়েস্টার ৬০+ কার্ডসহ মোট ২২ ধরনের আইডি কার্ড গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। অবশ্য উত্তর আয়ারল্যান্ডে ২০০৩ সাল থেকেই ভোট দেয়ার জন্য আইডি দেখাতে হয়। সেখানে ৯ ধরনের আইডি কার্ড দেখানো যায়।

৯৫টি দল ও স্বতন্ত্র মিলে রেকর্ড ৪ হাজার ৫১৫ প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। তাদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৩৪ জন, যাদের প্রচার ঘিরে ১০ লাখের বেশি ব্রিটিশ-বাংলাদেশির মধ্যে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ।

চিরাচরিত প্রধান দুই প্রতিদ্ব›দ্বীর বাইরে এবার ভোটের মাঠ গরম করেছে এমন দলগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে- জাতীয় পর্যায়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটস পার্টি, ইউকে রিফর্ম, গ্রিন পার্টি এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে স্কটল্যান্ডভিত্তিক স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি), নর্দান আয়ারল্যান্ড ভিত্তিক ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) ও ওয়েলসভিত্তিক প্লেইড সিমরু।

৪৪ বছর বয়সি প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক গতকাল সকাল সকাল উত্তর ইংল্যান্ডে তার নির্বাচনী এলাকা রিচমন্ডের একটি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। ভোটকেন্দ্রের বাইরে স্ত্রী অক্ষতা মূর্তির হাত ধরে ক্যামেরাবন্দিও হয়েছেন তিনি।

ভোটের আগেই হেরে যাওয়ার সুর : কিয়ার স্টারমার ও কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক উভয়েই গত বুধবার ভোটের আগে শেষ দিনের মতো প্রচারণা চালান। উভয়েই ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, বিপক্ষ দল জিতলে অর্থনীতির অবস্থা শোচনীয় হয়ে

পড়বে। স্টারমার ভোটারদের বাসায় বসে না থেকে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ রচিত হবে ব্যালটে। শুধু আপনাদের ভোটের মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব হবে।

কিন্তু দলের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফলাফলের পূর্বাভাসের মুখে কনজারভেটিভরা ক্ষতি সীমাবদ্ধ রাখার দিকেই মনোযোগ দিয়েছিল। লেবার সরকারের মোকবিলায় কার্যকর বিরোধী দল হয়ে উঠতে তাদের পর্যাপ্ত আসন দরকার বলে প্রচারণা চালিয়েছে তারা। কনজারভেটিভ মন্ত্রী মেল স্ট্রাইড বিবিসিকে বলেন, আমি পুরোপুরি মেনে নিচ্ছি এই মুহূর্তে জরিপে যা বোঝা যাচ্ছে তাতে লেবারদের বৃহত্তম জয় দেখতে হতে পারে, বৃহত্তম সংখ্যাগরিষ্ঠতা যা এই দেশ এর আগে দেখেনি। স্ট্রাইডের মন্তব্যের বিষয়ে সুনাকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি দ্বিমত না করে আইটিভিকে বলেন, আমি প্রত্যেকটি ভোটের জন্য কঠিন লড়াই করছি।

৪৩০টি আসন জিততে পারে লেবার পার্টি : ২০১৯ সালে বরিস জনসন সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর এটিই যুক্তরাজ্যে প্রথম সাধারণ নির্বাচন। গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক নির্ধারিত সময়সীমার ৬ মাস আগেই এই নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিলেন।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, ঋষি সুনাকের এই ‘বাজি’ কাজে লাগেনি, বরং তার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ছয় সপ্তাহের নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় এবং এর আগের দুই বছরের সব জনমত জরিপ বলছে, শোচনীয় পরাজয়ের মুখোমুখি হতে চলেছে তার দল।

বিশ্লেষকদের মতে, ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারের (৬১) আগমন মোটামুটি নিশ্চিত। সর্বশেষ ২০০৫ সালে মধ্য-বামপন্থি লেবার পার্টি সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল। তবে এবার যুক্তরাজ্য ও দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জিততে চলেছে লেবার পার্টি- এমনটাই পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

জরিপের ফল বলছে, কনজারভেটিভ পার্টির ১৪ বছরের গোলযোগপূর্ণ শাসনামলের অবসান এখন সময়ের ব্যাপার। ভোটের পর প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকসহ সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে বিদায় নিতে হতে পারে। এ রকম ঘটলে তিনিই হবেন যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি সাধারণ নির্বাচনের পর নিজের পদ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র দ্য সান, ফাইনান্সিয়াল টাইমস, দ্য ইকোনমিস্ট, দ্য সানডে টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য ডেইলি মিরর এরই মধ্যে লেবার পার্টির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি পত্রিকা প্রথাগতভাবে ডানপন্থি কনজারভেটিভ দলকে সমর্থন জানিয়ে এলেও এবার ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থান নিয়েছে। ইউগভ, ফোকালডাটা ও মোর ইন কমন নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত তিনটি বড় আকারের জরিপে বলা হয়েছে, লেবার পার্টি অন্তত ৪৩০ আসন পেতে যাচ্ছে। ১৯৯৭ সালে টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি ৪১৮টি আসনে জয়ী হয়ে তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছিল।

কনজারভেটিভরা এবার তাদের ইতিহাসে সর্বনি¤œ ১২৭টি বা এর চেয়েও কম আসন পেতে পারে।

পূর্বাভাস সঠিক হলে আজ ঋষি সুনাক রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজার সঙ্গে দেখা করবেন স্টারমার এবং সেসময় চার্লস তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের পরবর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেয়ার আমন্ত্রণ জানাবেন। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে স্টারমার ডাউনিং স্ট্রিটে তার নতুন কার্যালয়ে যাবেন। সেখানে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দেয়ার আগে বক্তব্য রাখবেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App