×

প্রথম পাতা

যুক্তরাজ্যে নির্বাচন : জনমত জরিপে পূর্বাভাস

রেকর্ড জয় পাচ্ছে লেবার পার্টি

Icon

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রেকর্ড জয় পাচ্ছে লেবার পার্টি

কাগজ ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে আজ ৪ জুলাই সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। এই নির্বাচনে লেবার পার্টি রেকর্ডসংখ্যক আসনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর পর ক্ষমতায় ফিরতে যাচ্ছে বলে জনমত জরিপগুলোর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রথম সারির জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্ব সাম্প্রতিক জনমত জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির জনসমর্থন ৪০ দশমিক ৩ শতাংশ। তার বিপরীতে ঋষি সুনাকের নেতৃত্বে থাকা ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির জনসমর্থন ২০ দশমিক ৭ শতাংশ, যা লেবার পার্টির প্রায় অর্ধেক। আর অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যাদের জনসমর্থন ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু তাদের সমর্থন সারাদেশে সমানভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে সেই সমর্থনকে সংসদের আসনে পরিণত করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস- যারা আগে দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম দল ছিল জরিপ অনুযায়ী তাদের জনসমর্থন ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। তাদের টার্গেট করা আসনে মনোনিবেশ করে নির্বাচনে ভালো ফলাফলের বিষয়ে আশাবাদী লিবারেল ডেমোক্র্যাটস। আর গ্রিন পার্টির জনসমর্থন ৮ শতাংশ।

গত মঙ্গলবার জরিপ কোম্পানি সার্ভেশনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবারের ভোটে কিয়ার স্টারমারের লেবার পার্টি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ৬৫০ আসনের মধ্যে ৪৮৪টি আসনে জয় পাবে। এর আগে ১৯৯৭ সালে সাবেক নেতা টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি ৪১৮টি আসনে জয়ী হয়ে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছিল। কিন্তু এবার দলটি ওই ফলাফলকেও ছাড়িয়ে অনেক দূর যাবে বলে পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে। এর বিপরীতে গত ১৪ বছর ধরে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতায় থাকা কনজারভেটিভ পার্টি (টোরি) মাত্র ৬৪টি আসন পেতে পারে বলে জরিপের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এটি হতে পারে ১৮৩৪ সালে রক্ষণশীল এই দলটির প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল। ডানপন্থি রিফর্ম ইউকে পার্টি সাতটি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, সার্ভেশন তাদের বিশ্লেষণে মাল্টিলেভেল রিগ্রেশন ও পোস্ট-স্ট্রাটাফিকেইশন (এমআরপি) কৌশল ব্যবহার করেছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ের জনমত থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের বড় ধরনের নমুনাগুলোও পর্যালোচনা করা হয়। জরিপকারী সংস্থাগুলো বলেছে, এই মডেলে জরিপ চালানোর বদলে জরিপের তথ্যগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্য এমআরপি বিশ্লেষণগুলোও দেখিয়েছে, নির্বাচনে লেবার পার্টি এর চেয়ে আরো কম ব্যবধানে জয় পেতে যাচ্ছে, তবে সার্বিকভাবে কেউই এই ফলাফলের অন্যথা হবে বলে পূর্বাভাস দেয়নি। এর আগে রেডফিল্ড ও

উইলটন স্ট্র্যাটেজিসের যুক্তরাজ্যজুড়ে পরিচালিত নিয়মিত জরিপে নির্বাচনে লেবার পার্টি নিশ্চিত জয়ের পথে রয়েছে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।

ব্রিটিশ ভোটাররা দেশে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান দেখার জন্য একরকম প্রস্তুত।

কনজারভেটিভ (টোরি) দলের প্রবল প্রতিপক্ষ লেবার পার্টি জনগণের সামনে সতর্কতার সঙ্গে বার্তা দিলেও দলের ভেতরে ভেতরে রয়েছে আশা-উদ্দীপনার আমেজ। কারণ, লেবার নেতা কিয়ার স্টারমার, যিনি একসময় ছিলেন মানবাধিকার আইনজীবী, তার এবার আদালতকক্ষ থেকে সোজা ডাউনিং স্ট্রিটে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে। তিনি আছেন ক্ষমতায় আরোহণের দ্বারপ্রান্তে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক তার নানা চ্যালেঞ্জে ভরা প্রধানমন্ত্রিত্বের আমলে সবচেয়ে বড় জুয়াটি খেলেছেন আগাম নির্বাচন ডেকে। কিন্তু জরিপগুলোতে কনজারভেটিভ দলের সমর্থনে যে ধস দেখা গেছে, তার মোড় ঘুরাতে সুনাককে হিমশিম খেতে হয়েছে এবং তিনি পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে আছেন এমনটিই দেখা যাচ্ছে। অথচ লেবার নেতা স্টারমারকে তেমন কোনো ক্যারিশমা এবং তারকাগুণ ছাড়াই বিপুল জয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

অবশ্য আগের সব প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার কিংবা টনি ব্লেয়ারের মতো ক্যারিশমাটিক ব্যক্তিত্ব স্টারমারের না থাকলেও তিনি লেবার পার্টিকে নির্বাচনে জয় পাওয়ার যোগ্য করে গড়ে তুলেছেন। কনজারভেটিভ পার্টির নানা ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে লেবার দলকে উপরে টেনে তুলেছেন স্টারমার। ভোটারদের বারবারই সেই সব ব্যর্থতা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। গত শনিবারই এক সমাবেশে ভোটারদের তিনি বলেছেন, ‘তারা কী করেছে সেটি ভুলে যাবেন না। পার্টিগেট কেলেঙ্কারি ভুলে যাবেন না, কোভিড কন্ট্রাক্ট, মিথ্যাচার, ঘুষের কথা ভুলে যাবেন না’। এভাবে বেশকিছু মানুষের ভোট দলে টেনেছেন স্টারমার। বর্তমান জরিপগুলো তার দলের জয়ের যে পূর্বাভাস দিচ্ছে, তা যদি সত্য হয় তাহলে শেষ পর্যন্ত কনজারভেটিভ দলের ১৪ বছরের শাসনের যবনিকাপাত ঘটেই যাবে। আর সে জায়গায় শুরু হবে সাবেক ব্যারিস্টার কিয়ার স্টারমারের মধ্যবাম দলের নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন অধ্যায়।

নির্বাচনী প্রচারে স্টারমার ভোটারদের বলছেন, ‘আপনারা পরিবর্তন চাইলে লেবারকে ভোট দিন। যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ আপনার হাতে। আমরা পরিস্থিতির মোড় ঘুরাতে পারি। আমরা ব্রিটেনকে পুনর্গঠন করতে পারি’। প্রধানমন্ত্রী সুনাক নির্বাচন ঘোষণার পরপরই স্টারমার বলেছিলেন, এই ভোট দেশকে ভালো ভবিষ্যতের দিকে টেনে নেয়ার একটি সুযোগ।

ইংল্যান্ডের নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ইতিহাসের অধ্যাপক স্টিভেন ফিল্ডিং বলেন, ‘স্টারমারের উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষ যাতে লেবারের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার কোনো কারণ খুঁজে না পায় সেই চেষ্টা করা এবং তিনি এতে খুবই সফল হয়েছেন’।

ওদিকে, কনজারভেটিভরা (টোরি) ভোটারদের ‘সিøপ ওয়াক’ না করা এবং লেবারকে ‘বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ’ ভোট না দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। টোরিদের এই পাল্টা প্রচারের মুখে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে দলটি মানুষের সমর্থন টানার জন্য খুব একটা ঔদ্ধত্য দেখাতে চাইছে না। সে কারণে লেবার পার্টি প্রকাশ্যে সতর্কভাবে পা ফেলছে। কিন্তু দলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভেতরে ভেতরে বেশ আশাবাদী। আবার কিয়ার স্টারমার রাজনৈতিকভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে খুব বেশি সতর্ক বলে অভিযোগও উঠেছে। তবে পার্টির নেতারা তারপরও সন্তুষ্ট যে, লেবার পার্টির প্রচারের যে মূল চালিকাশক্তি সেটি গতিপথ থেকে ছিটকে পড়েনি। তারা জরিপে এগিয়ে থাকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য ধরে রাখতে পেরেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App