×

প্রথম পাতা

ফাঁস হচ্ছে গরু মাফিয়া ইমরানের হাঁড়ির খবর!

হোমড়া-চোমড়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে প্রতারণার ব্যবসা

Icon

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ফাঁস হচ্ছে গরু মাফিয়া  ইমরানের হাঁড়ির খবর!

কাগজ প্রতিবেদক : পর্যায়ক্রমে বেরিয়ে আসছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বছিলার সাদিক অ্যাগ্রোর হাঁড়ির খবর। নামে খামার হলেও তার ব্যবসার আড়ালে রয়েছে গরু পাচার ও প্রতারণা। নানা কায়দায় লাখ থেকে কোটি টাকায় কুরবানির পশু বিক্রি করে আলোচনায় আসা এই ফার্মের মালিক মোহাম্মদ ইমরান হোসেনের খুঁটির জোর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যিনি রামচন্দ্রপুর খাল দখল ও ভরাট করে সীমানার ভেতরে গড়ে তুলেছিলেন এই খামার। তবে দখলদারির সব জেনেও বাধা দেয়নি কেউ। উপর মহলে ইমরানের যোগাযোগ থাকায় এতদিন চুপ ছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও (ডিএনসিসি)। ‘উচ্চবংশীয় মর্যাদা সম্পন্ন গরু’ বলে ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা ও ছাগলকাণ্ডে সমালোচিত হওয়ায় এখন সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে ডিএনসিসি। অথচ কয়েকদিন আগেও ইমরানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। ডিএনসিসি মেয়রের ভাতিজা, ইসলাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাকের আহমেদের সঙ্গে ইমরানের সখ্যতা পুরনো।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) সহসভাপতি এ কে এম নাজিব উল্লাহ কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদের জামাতা। এই সংগঠনের সভাপতি ইমরান হোসেনের ঘনিষ্ট বন্ধু নাজিব উল্লাহ। তারা দুই বন্ধু মিলে শ্রীমঙ্গলে কৃষিমন্ত্রীর সংবর্ধনার আয়োজন করেন। গত ২০ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইমরান। অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

২০০৮ সালে বছিলায় কয়েকটি গরু নিয়ে সাদিক অ্যাগ্রোর যাত্রা শুরু। কয়েক বছরের মধ্যেই এর ব্যাপ্তি বাড়তে থাকে। তখন থেকেই প্রভাবশালীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে শুরু করেন ইমরান। বাড়তে থাকে গরুর চাহিদা। দেশি গরুর চাইতে বিদেশি জাতের গরুর গ্রাহক তৈরি করেন তিনি। যাতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন কোটিপতিরা। অবৈধপন্থায় আয়ের সুযোগ রয়েছে এমন একটি শ্রেণি সাদিক অ্যাগ্রোর নিয়মিত ক্রেতায় পরিণত হলে তিনি ভারত, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ থেকে গরু আনা শুরু করেন। ভারত থেকে অল্প টাকায় গরু এনে লালন পালন করে গড়ে তুলেন নিজের ফার্মে। যার অনেকটাই অবৈধ কায়দায়, তথ্য গোপন করে। গরু-ছাগল-দুম্বা বিক্রি করে আলোচনায় আসায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় ও উত্তর সিটি করপোরেশনের নজর কারেন তিনি। রাঘবোয়ালরা তার ক্রেতা হওয়ায় অনেকেই ইমরানের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেন। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তারা তার ঘনিষ্ট হয়ে উঠেন। আমলা, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের অনেকে তার ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠে। কার্গো বিমানে গরু আনতে বাড়তি ছাড় পেতে অনেককে তিনি দেন গরু উপহার। নির্বিঘেœ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে গরু-ছাগল আনতে ইমরান ম্যানেজ করেন সংশ্লিষ্টদের। যদিও অনেকেই কুরবানির পশু ফাও নেননি। তারা ইমরানের উপর আস্থা রেখে নামমাত্র মূল্য দিয়েছেন বলে একাধিক খামারি দাবি করেছেন। এভাবে সবার নজর কেড়ে বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হয়েছেন ইমরান হোসেন। ২০১৭ সালে বিডিএফএর সভাপতি হওয়ার পর থেকেই গরু ব্যবসার প্রসার ঘটান তিনি।

মোহাম্মদপুর এলাকার জনপ্রতিনিধিদের প্রায় সবাই তার ঘনিষ্ট। রাজনৈতিক নেতা, আমলা, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগে গরু চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন ইমরান। পুলিশের সাবেক আইজি ড. বেনজীর আহমেদ, একজন ডিআইজি ও এনবিআরের আলোচিত কর্মকর্তা মতিউর রহমানও তার ঘনিষ্ঠ।

চট্টগ্রাম ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ওমর বলেন, ইমরান আগে বিমানবন্দর দিয়ে গরু আনতেন। ২০২১ সালে তার চালান ধরা পড়ার পর আর বিমানবন্দর দিয়ে গরু আনেন না। এখন আমেরিকা থেকে গরু প্রথমে থাইল্যান্ডে আনেন। এরপর সেখান থেকে সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে বাংলাদেশে এনে বিক্রি করেন।

এদিকে গতকাল শনিবার সকাল থেকেই বছিলায় তৃতীয় দিনের মতো উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ডিএনসিসি। মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ হাউজিংয়ের ওই এলাকায় রামচন্দ্রপুর খাল দখল ও ভরাট করে সীমানার ভেতরে এই খামার গড়ে তোলা হয়েছিল।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App