×

প্রথম পাতা

আ.লীগের আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের

দুর্নীতিবাজদের কারো ছাড় নেই, ক্ষমা নেই

Icon

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 দুর্নীতিবাজদের কারো ছাড় নেই, ক্ষমা নেই

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজ কাউকে ছাড় দেয়া হবে না- মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি। দুর্নীতিবাজদের কারো ছাড় নেই, কারো ক্ষমা নেই। এটা শেখের বেটি। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে দেখিয়ে দেবেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি কতটা কঠোর হতে পারেন।

আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রস্তুত হতে হবে, তার আগে বলব, বাড়াবাড়ি করবেন না। ক্ষমতার দাপট কেউ দেখাবেন না। কাউকে ক্ষমা করা হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার অবস্থান শূন্য সহিংসতা নীতি।

বিএনপির সমালোচনা করে কাদের বলেন, দুর্নীতিবাজরাই এই দেশে বেশি দুর্নীতি করে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের মধ্যে কত যে দুর্নীতিবাজ একটু খুঁজে দেখুন, পেয়ে যাবেন। দুর্নীতিবাজ আছে আশপাশে। দুর্নীতিবাজের ক্ষমা নেই। বিএনপির দুর্নীতি নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই। কারণ, বিএনপি মানেই দুর্নীতিবাজ। জাতীয়তাবাদী দুর্নীতিবাজ দল, আমরা শক্তি আমরা বল।

তারেক রহমানের দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারেক রহমান পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। কী অভিযোগ? হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার। অভিযোগ দুর্নীতি; এখন বিএনপি নেতারা দুর্নীতি বিরেুদ্ধে কথা বলে। আপনাদের এক নম্বার নেতাই তো দুর্নীতিবাজ, হাজার হাজার টাকা পাচার করে আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছে। সব তদন্ত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সব তদন্ত হবে, কে কত টাকা বানিয়েছেন।

আন্দোলনের সহিংসতার উপাদান যুক্ত হলে খবর আছে, জানিয়ে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে কাদের বলেন, পরিষ্কার বলে দিতে চাই- আন্দোলন করছেন, করেন। তবে আন্দোলনে সহিংসতার উপাদান যুক্ত হলে খবর আছে। আবারো খেলা হবে। খেলা হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে, লুটপাটের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা বলেছিলাম বছরব্যাপী উদযাপন করব। সেখানে খবর হয় আমরা নাকি পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করছি। শুক্রবার সাইকেল র‌্যালি করেছি, বিএনপির কি কিছু ছিল? তাহলে কেন এই অপবাদ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দিচ্ছেন? আমরা সারা বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করব। আমাদের কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হবে। আগস্টের পর জেলা পর্যায়ে সমাবেশ হবে। সে সমাবেশে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখবেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, লন্ডনের বসে কর্মসূচি দেয় ‘মেইড ইন লন্ডন’। নতুন নেতৃত্ব পাঠায়, ফরমান আকারে। এই নেতৃত্বের নাম মেইড ইন লন্ডন। লন্ডনে বসে নেতা বানায়, কর্মসূচি দেয়। এই মেইড ইন লন্ডন কর্মসূচি মানে কী? বাংলাদেশের জনগণ এই মেইড ইন লন্ডন কর্মসূচি মানে? উপস্থিত নেতারা না বলে উত্তর দেন। খেলা কিন্তু হবে, ছেড়ে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, বিএনপি বড় বড় কথা বলে। বিএনপি নেতাদের আন্দোলনে যত জোর নেই, মুখের বিষে যত জোর। তাদের মুখের বিষ উগ্র। কিন্তু তাদের আন্দোলন কি? তাদের আন্দোলন ভুয়া। আন্দোলন দুই কূলের গাঙ। এতে আওয়ামী লীগ সরকার এটুকুও বিচলিত নয়।

বিএনপি দালালি করতে চেয়েছিলেন পাত্তা পাননি উল্লেখ করে কাদের বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি দালালি করতে চেয়েছিল- পারেননি, পাত্তা পায়নি। যত দোষ নন্দ ঘোষ আওয়ামী লীগের। আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব। আর আপনারা দাস হয়েও ভারতের সমর্থন চান। ক্ষমতার জন্য আপনাদের যে কারো দাসত্ব মেনে নিতে কোনো আপত্তি নেই। আমরা বন্ধু আছি, বন্ধুই থাকব। বিদেশে আমাদের সবাই বন্ধু; কেউ আমাদের প্রভু নেই। আপনাদের প্রভু আছে। প্রভুরা ক্ষমতায় বসাতে পারেনি। মনে আছে, কথায় কথায় নিষেধাজ্ঞা; কথায় কথায় ভিসানীতি। মিয়া আরেফি নাটক, বাইডেনের উপদেষ্টা।

বিএনপি ষড়যন্ত্র করে আজকে মিটিং দিয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কয়েকদিন আগে নির্বাচন হয়েছে, উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে দেশে এখন শান্তি দরকার। মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় নতুন সরকারের সময় দরকার। বিএনপিকে বলতে চাই, আবার ষড়যন্ত্র করে আজকে মিটিং দিয়েছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আমরা দেব না, এটা দেবে দেশের আইন, কোর্ট। কোর্ট যদি মুক্তি দেয় আমাদের আপত্তি নেই। আন্দোলন করে, সন্ত্রাস করে, অগ্নিসন্ত্রাস করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারবেন না।

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, আওয়ামী লীগ যতদিন থাকবে, শেখ হাসিনা যতদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, বাংলাদেশ নিরাপদে থাকবে।

অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসী তারেক রহমানকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় না বলেই আদালতের দরজায় যায় না। তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। তাকে মুক্ত করতে হলে আদালতের দরজায় যেতে হবে। অথবা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাইতে হবে। আন্দোলন করে কোনো লাভ নেই।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য একমাত্র আইনের পথ খোলা আছে। আইনি লড়াইয়ে হেরে গেলে রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার সুযোগ আছে। বিএনপি সেদিকে যাচ্ছে না। উল্টো সরকারকে অভিযুক্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের গডফাদার বিএনপি-জামায়াত সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বলতে চাই, আমরা সরকারে আছি, রাজপথে আছি, মানুষের সঙ্গে আছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ব এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। তবে রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশের দিনে ক্ষমতাসীন দলের এই আলোচনা সভাও সমাবেশে রূপ নেয়। বেলা ৩টায় সভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুরের পর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে পৃথক মিছিল নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত হন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমদ মন্নাফির সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সাঈদ খোকন, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সহসভাপতি শহীদ সেরনিয়াবাত, নুরুল আমিন রুহুল প্রমুখ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App