×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

প্রথম পাতা

সমাবেশে মির্জা ফখরুলের হুঁশিয়ারি

খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রশ্নে আপস হবে না

Icon

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 খালেদা জিয়ার মুক্তি  প্রশ্নে আপস হবে না

কাগজ প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে সরকারের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই- দেশনেত্রীকে মুক্ত করুন। অন্যথায় সরকারকে যে কোনো পরিণতির জন্য তৈরি থাকতে হবে। এ দেশের মানুষ কখনোই খালেদা জিয়াকে এভাবে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি অবস্থায় চলে যেতে দেবে না।

গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে মির্জা ফখরুল এ হুঁশিয়ারি দেন। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। বেলা আড়াইটায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশে শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে এই দেশ বর্বর, লুটেরা সরকারের হাতে একটুও নিরাপদ নয়। একদিকে তারা ভোটের অধিকার হরণ করেছে, অন্যদিকে আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যিনি গণতন্ত্রের সঙ্গে একাত্ম, তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আটক করে রেখেছে।

সরকার হটানোর ছাড়া বিকল্প আর কোনো পথ নেই- মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, এই সরকার থাকা মানে হচ্ছে, আমাদের দেশ, গণতন্ত্র, দেশের মানুষ ধ্বংস হওয়া। তাই নিজেদের রক্ষা করতে হলে আমাদের আগামীতে সরকারকে পরাজিত করতে চলমান আন্দোলন অবশ্যই আরো তীব্র থেকে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

সমাবেশে নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়ক ছাড়িয়ে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্টুরেন্ট মোড় থেকে ফকিরেরপুল মোড় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তাদের হাতে হাতে ছিল খালেদা জিয়ার ছবিসহ প্ল্যাকার্ড।

এর আগে সকাল থেকেই মেঘ, রোদ, বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঢাকা মহানগরসহ আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। অনেকের মাথায় লাল ফিতা ও লাল-সবুজ ক্যাপ দেখা গেছে।

দুই আন্দোলনকে একীভূত করতে এগুতে হবে : মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাদের গণতন্ত্র ও আন্দোলনের প্রতীক। তাকে বাঁচাতে হলে তাকে রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের বেঁচে থাকার অধিকারকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাই তো অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কাছে আহ্বান জানাতে চাই, আসুন। আজকে আমরা যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছি, লড়াই করছি, যুগপৎ আন্দোলন করছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে একইভাবে একীভূত করে সোচ্চার আওয়াজ তুলি।

দেশের স্বার্থ ভারতকে বিলিয়ে দিয়েছে : বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেছে। দেশের আইন ও পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থের বিরোধী। আমরা এই স্বার্থবিরোধী চুক্তি প্রত্যাখান করছি। তিনি বলেন, আমরা পানি চাই, আমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যা চাই, সীমান্তে হত্যা বন্ধ চাই। তিনি বলেন, এই সরকার সব কিছু বিলিয়ে দিয়েছে। শেখ হাসিনা এত গর্ব করে বলছেন, আমি সব উজাড় করে দিয়েছি। আমাদের প্রশ্ন- তাহলে বাংলাদেশ কী পেল?

খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে কোনো আপস নেই : সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের চোর-ডাকাত-বাটপার-বদমাইশ সবাই মুক্তি পেয়ে যায়, আর দেশনেত্রীকে প্রধানমন্ত্রী মুক্তি দিতে চান না। তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, দেশনেত্রীর মুক্তির স্বার্থে কোনো আপস কারো সঙ্গে হবে না। তার মুক্তির দাবিতে আরো কর্মসূচি আসছে। এই আন্দোলন কোথায় গিয়ে থামবে বলা যায় না। এ সময় দলীয় প্রদানের মুক্তির আন্দোলন জোরদার করতে নেতাকর্মীর প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশনেত্রী এখনো আমাদের মাঝে মুক্ত নন, এখনো তিনি কারাগারে। তিনি সঠিক চিকিৎসাও পান না যেটা মানুষের মৌলিক অধিকার। আমরা যখন নেমেছি, শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করব তাকে মুক্ত করার। তিনি বলেন, আমার নেত্রী ৭ বছর যাবত মঞ্চে আসেন না, ৭টি বছর যাবত তার কণ্ঠ জনগণ শুনতে পায় না। তাই আসেন, বক্তৃতা থামান, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে ঘরে ফেরেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে আজ আইনের শাসন বলে কিছু নেই। যেখানে আইনের শাসন নেই, যেখানে অন্যায় আইন হয়ে যায়। যেখানে মানবাধিকার নেই, যেখানে বিরোধী দলসহ ভিন্নমতকে রুদ্ধ করে রাখে, যেখানে জীবনে নিরাপত্তা নেই, যেখানে জেলখানায় মানুষের মৃত্যু হয়, সেই দেশে শুধু প্রতিবাদ করে এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটনো যাবে না। যেখানে অন্যায় আইনে পরিণত হয়ে যায় সেখানে প্রতিরোধ কর্তব্য হয়ে পড়ে। আজকে প্রতিরোধ অনিবার্য। দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে প্রতিরোধে নামতে হবে।

প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পরিচালনায় সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, আহমেদ আজম খান, আসাদুজ্জামান রিপন, কেন্দ্রীয় নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক, ফরহাদ হালিম ডোনার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App