×
Icon ব্রেকিং
রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ

প্রথম পাতা

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গড়াল রান-অফ ভোটে

পেজেশকিয়ানের বিজয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনায় উৎসাহী সংস্কারপন্থিরা

Icon

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পেজেশকিয়ানের বিজয়ের উজ্জ্বল  সম্ভাবনায় উৎসাহী সংস্কারপন্থিরা

কাগজ ডেস্ক : ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শীর্ষে থাকা দুই প্রার্থীর কেউ ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় রান-অফ ভোটের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে। দ্বিতীয় দফার এই ভোট হবে আগামী ৫ জুলাই। এগিয়ে থাকা দুই প্রার্থী- মাসুদ পেজেশকিয়ান ও সাঈদ জালিলি এতে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবেন। গতকাল শনিবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে ভোটে পেজেশকিয়ানের জেতার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হওয়ায় ৪ বছর ধরে ভোট বর্জন করে আসা সংস্কারপন্থিরাও উৎসাহী হয়ে উঠতে শুরু করেছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পর পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট বেছে নিতে গত শুক্রবার দেশটিতে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৪ জন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করলেও ভোট গণনায় লড়াইটা এসেছে ঠেকে দুই প্রার্থীর মধ্যে। এর মধ্যে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন একমাত্র মধ্যপন্থি প্রার্থী মাসুদ পেজেশকিয়ান আর তারপরেই আছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার বলয়ভুক্ত কট্টরপন্থি প্রার্থী সাঈদ জালিলি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, মধ্যপন্থি আইনপ্রণেতা মাসুদ পেজেশকিয়ান ২ কেটি ৪০ লাখ ভোট পেয়ে প্রতিদ্ব›দ্বী কট্টরপন্থি কূটনীতিক সাঈদ জালিলি থেকে ১ কোটিরও বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। জালিলি পেয়েছেন ৯৪ লাখের চেয়ে কিছু বেশি ভোট।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বে গঠিত গার্ডিয়ান কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ৬ জনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল। পরে দুই কট্টরপন্থি নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে লড়াই করেন ৪ প্রার্থী। এর মধ্যে ৩ জন কট্টরপন্থি এবং একজন তুলনামূলক সংস্কারপন্থি। জালিলি ও পেজেশকিয়ান ছাড়া অপর দুই প্রার্থী হলেন মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং মোস্তফা পুরমোহাম্মদি। তারা দুজনই কট্টরপন্থি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ১০ লাখ। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৪০ শতাংশ ভোটার। ১৯৭৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর সবচেয়ে কম ভোটার উপস্থিতি ছিল এ নির্বাচনে।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী

যদি ন্যূনতম ৫০ শতাংশ ভোট না পান, তবে নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়ায়। প্রথম দফার নির্বাচনে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দুই প্রার্থীর মধ্যে তখন প্রতিদ্ব›িদ্বতা হয়। প্রথম দফার ফল ঘোষণার পর প্রথম যে শুক্রবারটি আসে, সেদিনই দ্বিতীয় দফার ভোট হয়। অর্থাৎ আগামী ৫ জুলাই পেজেশকিয়ান এবং জালিলির মধ্যে লড়াই হবে।

লড়াই এখন মধ্য আর কট্টরপন্থির : গত ১৯ মে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে মারা যাওয়ায় ওই শূন্য পদে আগাম নির্বাচন হয়। চাপে থাকা অর্থনীতি, আর খর্ব হওয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতা নিয়ে জনঅসন্তোষ সত্ত্বেও বিপুল ভোট পড়বে বলে দাবি করছিল ইরানের কট্টরপন্থি প্রশাসন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

ইরানের কট্টর ধর্মীয় নীতির সমালোচকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি নির্বাচনে ভোটারদের কম উপস্থিতিই প্রমাণ করে, দেশটির শাসনব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। ২০২১ সালের ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৪৮ শতাংশ এবং মার্চে পার্লামেন্ট নির্বাচনে ৪১ শতাংশ ভোট পড়েছিল।

মধ্যপন্থি পেজেশকিয়ান ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি বিশ্বস্ত হলেও পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, অর্থনৈতিক সংস্কার, সামাজিক উদারীকরণ এবং বহুদলীয় রাজনীতির পক্ষে। শুক্রবার ভোট দেয়ার পরও তিনি বলেছেন, আমরা হিজাব আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিন্তু নারীদের কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ কিংবা অমানবিক আচরণ করা উচিত নয়। এ সময় তিনি কুর্দি তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুর প্রসঙ্গ টানেন। ইসলামী পোশাক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের নীতি পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন মাশা আমিনি। ২০২২ সালে পুলিশি হেফাজতেই তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরানি জনগণ। সে সময় প্রথমবারের মতো ব্যাপক জনরোষ দেখতে পায় দেশটির ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠী। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ সালের আন্দোলনে ৭১ শিশুসহ ৫০০ জন নিহত, কয়েকশ মানুষ আহত এবং কয়েক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভোটে পেজেশকিয়ানের জেতার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হওয়ায় ৪ বছর ধরে ভোট বর্জন করে আসা সংস্কারপন্থিরাও উৎসাহী হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। সংস্কারপন্থিদের অধিকাংশই তরুণ ভোটার। ৪৫ বছর বয়সি স্থপতি পিরোজ বলেন, আমি মনে করি পেজেশকিয়ান ঐতিহ্যগত এবং উদার উভয় চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। ভোট বর্জনের পক্ষে ৫৫ বছর বয়সি লেখক শাহারজাদ আফ্রাশেহ বলেছেন, তরুণদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে, তরুণদের রাস্তায় হত্যা করা হচ্ছে, আমরা এত সহজেই এসব ভুলে যেতে পারি না, এতকিছুর পর ভোট দেয়াটা অযৌক্তিক।

১৯৯৭ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন মাসুদ পেজেশকিয়ানের। তিনি এর আগে মধ্যপন্থি হাসান রুহানিকেও সমর্থন করেছিলেন, যিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার পর পশ্চিমের সঙ্গে ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তি সাক্ষরের উদ্যোগ নেন। তবে ৩ বছর পর চুক্তির আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দেয়, যা এখনো চলছে। পেজেশকিয়ান পারমাণবিক চুক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করে পশ্চিমের কাছ থেকে আসা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কও স্বাভাবিক করতে চান তিনি।

তবে যিনিই প্রেসিডেন্ট হোন না কেন, তিনি পারমাণবিক কর্মসূচি কিংবা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিভিন্ন মিলিশিয়া গ্রুপগুলোকে সহায়তা দেয়ার নীতি রাতারাতি বদলে ফেলবেন, তেমনটা আশা করা যায় না। কারণ ইরানের চূড়ান্ত ক্ষমতা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির (৮৫) হাতে। তাই নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন দেশটির নীতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে না। খামেনি আগেই বলে দিয়েছেন, সবগুলোই রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বিষয়। তারপরও দেশটির প্রেসিডেন্ট সরকার পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন এবং পররাষ্ট্র ও আঞ্চলিক নীতিতে অনেকটাই প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App