×

প্রথম পাতা

৩টি ধরনই সক্রিয়

ডেঙ্গুর প্রকোপ ফের বাড়তে পারে

Icon

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। কখনো বৃষ্টি হবে, আবার কখনো রোদ। এটি এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযুক্ত সময় ও পরিবেশ। মশার ঘনত্ব নির্ণয়ের জরিপও বলছে বর্ষা মৌসুমে এডিস মশা বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রোগী বাড়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। এদিকে আগামী মাস অর্থাৎ জুলাই মাস থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রতি বছর জুন থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের মৌসুম শুরু হয়- যা সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে গিয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করে।

কীটতত্ত্ববিদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, এ বছর ডেঙ্গু বেশ ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের কিছু জেলায় যেমন- চট্টগ্রাম, বরিশাল, বরগুনা, কক্সবাজার, চাঁদপুর, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও খুলনায় ডেঙ্গুর ব্যাপক সংক্রমণ হতে পারে। আর এখনকার বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা দুটিই এডিস মশা প্রজননের জন্য উপযোগী। জুলাইয়ের শেষ ভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পহেলা জানুয়ারি থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ৫৪৭ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৪৩ জন। ২০২৩ সাল ছাড়া বাংলাদেশে বছরের প্রথম ছয় মাসে এতসংখ্যক রোগী ভর্তি হয়নি। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এত মৃত্যুও ছিল না। গত বছর একই সময়ে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৬২ জন। মৃতের সংখ্যা ছিল ৪৭। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ডেঙ্গুর ৪টি ধরনের মধ্যে এ বছর ৩টি ধরনই সক্রিয়। ফলে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, আবহাওয়ার যে পরিস্থিতি তাতে এ বছর মশার উৎপাত গত বছরের চেয়ে বেশি হবে। মশা বাড়লে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়বে। ডেঙ্গুতে ভর্তি রোগীর অনুপাতে মৃত্যু বেশি। মৃত্যু কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে ডেঙ্গুর ভয়াবহতার বিপরীতে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা খুব অপ্রতুল। গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে উঠলেও সেখানে যথেষ্ট পরিমাণ জনবল-সরঞ্জাম নেই। অসুখ হলেই মানুষ বড় বড় হাসপাতালে ভিড় করছে। ঢাকায় আসছে। চিকিৎসাব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া মৃত্যু কমানো সম্ভব নয়।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা করছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামও।

ড. কবিরুল বাশার জানান, ঢাকাসহ বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলা, উপজেলা, পার্বত্য বান্দরবান এমনকি গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ডেঙ্গু বিস্তৃত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের তথ্য উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, ঢাকার পর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁদপুর, নরসিংদী, মাদারীপুর, বরিশাল, বরগুনা ও পিরোজপুর জেলায় এডিস মশার ঘনত্ব বেশি। এসব জেলা থেকে প্রায় প্রতিটি জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকার কারণে খুব দ্রুতই অন্যান্য জেলায় এরা বিস্তৃত হয়ে ডেঙ্গু ছড়াতে থাকবে। যেসব এলাকায় এডিস মশার ঘনত্ব বেশি সেসব এলাকায় আগামী মাসেই বাড়তে শুরু করবে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। এখনই সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে এটি ভয়াবহ হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম পদক্ষেপ নিতে হবে। এ পদক্ষেপের অন্যতম হলো এডিস মশার প্রজননস্থল অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণ করা। পৃথিবীর কোনো দেশই জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সফল হয়নি। শুধু ঢাকায় নয়, দেশের প্রতিটি জেলা ও পৌরসভায় সবারই প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App