×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

প্রথম পাতা

গাজা পরিস্থিতি

ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজারো শিশুর লাশ

Icon

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজার হাজার নিখোঁজ শিশুর লাশ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের শিশু নিরাপত্তা ও অধিকারবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইউনিসেফের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর টেড চাইবান। সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘ প্রধানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের ওপর বিশেষ সভায় বক্তৃতা করার সময় তিনি একথা বলেন। টানা ৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এরই মধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

টেড চাইবান বলেন, ২০২৩ সালে ৪ হাজার ৩১২ ফিলিস্তিনি এবং ৭০ জন ইসরায়েলি শিশু নিহত হয়েছে বা পঙ্গু হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে- যা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত হত্যা এবং পঙ্গুত্বের সমস্ত যাচাইকৃত ঘটনার ৩৭ শতাংশ। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা শিশুদের সংখ্যা এবং মানবিক সংস্থা ও ব্যক্তিদের সেখানে প্রবেশ করতে না দেয়ার অর্থ হলো গাজায় নিহত শিশুদের আরো হাজার হাজার ঘটনাকে প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি জাতিসংঘ।

এদিকে গাজায় চলমান ইসরায়েলি অভিযানের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশু নিখোঁজ হয়ে গেছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছে বিশ্বজুড়ে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। নিখোঁজ শিশুদের মধ্যে অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে, অনেককে আটক করা হয়েছে, অনেককে গণকবরে সমাহিত করা হয়েছে, আবার অনেকে তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

সেভ দ্য চিলড্রেনস-এর রিজিওনাল ডিরেক্টর ফর মিডল ইস্ট জেরেমি স্টোনার বলেন, পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জন কোথায় অবস্থান করছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। কোনো অভিভাবককে যেন তাদের সন্তানের মৃতদেহ খুঁজে বের করার জন্য ধ্বংসস্তূপ বা গণকবর খুঁড়তে না হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো শিশুর একা ও অরক্ষিত অবস্থায় থাকা উচিত নয়। কোনো শিশুকে আটকে রাখা বা জিম্মি করাও উচিত নয়।

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে যত মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে তার মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু। সেখানে প্রতিদিনই ছোট ছোট শিশুরা যুদ্ধের তাণ্ডবে প্রাণ হারাচ্ছে বা আহত হচ্ছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা আনরোয়া জানিয়েছে, ইসরায়েলের বর্বর হামলায় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় প্রতিদিন গড়ে ১০টি শিশু একটি অথবা দুটি পা হারিয়ে পঙ্গু হচ্ছে।

আনরোয়ার প্রধান ফিলিপ লাজারিনি সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহর থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই হিসাবের মধ্যে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের দেয়া তথ্য যোগ করা হয়নি। এ থেকে সহজেই বোঝা যায় যে, সেখানকার একটি শিশুর শৈশব কেমন হতে পারে।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মতে, হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হন। আরো প্রায় আড়াইশ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেদিন থেকেই গাজায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ মাসে কমপক্ষে ৩৭ হাজার ৭১৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে অন্তত ৮৬ হাজার ৩৭৭ জন।

লড়তে প্রস্তুত লেবাননের ফিলিস্তিনিরা : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ধ্বংসলীলা দেখে ক্ষুব্ধ লেবাননের ফিলিস্তিনিরা। তবে গাজার মতো লেবাননেও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করলে দেশটির বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই করতে প্রস্তুত রয়েছেন তারা। স¤প্রতি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সর্বাত্মক হামলার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে লেবাননের শরণার্থী শিবিরে বেশ কয়েকজন শরণার্থী আল-জাজিরাকে এ কথা জানিয়েছেন।

অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের সীমান্তে নিয়মিত গুলি বিনিময় করছে হিজবুল্লাহ। তারা বারবার বলেছে, গাজায় ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হলে তবেই সীমান্তে হামলা বন্ধ করবে তারা।

বৈরুতে শাতিলা ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে শরণার্থীদের অনেকে জানান, তারা ভীত নন। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহ ও এই অঞ্চলের অন্য প্রতিরোধ্য যোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে লড়বেন। তবে তাদের মনে পরিবার ও বেসামরিকদের নিয়ে ভয় কাজ করছে। তারা আশঙ্কা করছেন, গাজার মতো লেবাননের ঘন জনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরেও হামলা চালাবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

শাতিলায় পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন-জেনারেল কমান্ড (পিএফএলপি-জিসি)-এর সদস্য আহেদ মাহার বলেন, ইসরায়েলি সেনাদের কোনো নৈতিকতা নেই। তারা মানবাধিকার মানে না এবং শিশুদের অধিকারের কথাও বিবেচনা করে না। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শুধু প্রতিশোধ নিতে জানে।

শাতিলায় বড় হওয়া ২৯ বছর বয়সি আবু আলি বলেন, ১৯৪৮ সালের নাকবার সময় ফিলিস্তিন থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি লেবাননের ১২টি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়। তখন থেকেই তাদের মনে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি রয়েছে। তিনি জানান, লেবাননে যদি বড় ধরনের কোনো যুদ্ধ হয় তবে তিনি ও তার মা প্রয়োজনীয় কিছু বস্তু নিয়ে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তের দিকে ছুটে যাবেন। তিনি মনে করেন, যুদ্ধ হলে অসংখ্য ফিলিস্তিনি একবার হলেও ফিলিস্তিনে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করবে।

আবু আলি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, যুদ্ধ শুরু হলে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে বোমা ফেলবে ইসরায়েল এবং তারা এই বলে নিজেদের পক্ষে সাফাই দেবে যে, সেখানে প্রতিরোধ যোদ্ধারা ছিল, যেমনটা তারা গাজায় করেছে।

লেবাননে ফিলিস্তিনিরা আইনি বৈষম্যের শিকার হচ্ছে এবং দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে উল্লেখ করে আবু আলি বলেন, লেবাননে ফিলিস্তিনিদের শরণার্থী শিবিরগুলো ধ্বংস হয়ে গেলে রাষ্ট্রহীন শরণার্থীদের নিজ দেশ ফিলিস্তিনে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। আমি হয় ফিলিস্তিন, নয় ইউরোপে যেতে পারব। তবে ইউরোপে যেতে হলে আমাকে ১০ থেকে ১২ হাজার ডলার পাচারকারীদের দিতে হবে। এটি কখনোই সম্ভব নয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App