×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

প্রথম পাতা

বন্যা পরিস্থিতি

খাবার-বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

Icon

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

খাবার-বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

কাগজ প্রতিবেদক : দুদিন ধরে সিলেট ও সুনামগঞ্জে কমেছে বৃষ্টিপাত। উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামাও কিছুটা কমেছে। ফলে কমতে শুরু করেছে নদনদীর পানি। বৃহস্পতিবারের চেয়ে গতকাল শুক্রবার বেশ কয়েকটি নদীর পানিও বিভিন্ন পয়েন্টে কমেছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পাঁচ দিন পর গতকাল রৌদ্রোজ্জ্বল সকাল স্বস্তি এনেছে বন্যায় নাজেহাল সিলেট ও ভাটির জেলা সুনামগঞ্জের মানুষের মনে। তবে দুর্ভোগ কমেনি বন্যাকবলিতদের। দুই জেলায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানি বা জলাধার বানের পানিতে একাকার হয়ে দূষিত হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট পানিতে এখনো ডুবে আছে, নষ্ট হয়ে গেছে। দুর্গত মানুষের তুলনায় ত্রাণ বিতরণ করা হয় নগন্য, তা-ও শুধু শহর এলাকায়। ফলে বিশাল এলাকার দুর্গত মানুষ ত্রাণ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যেরও।

এদিকে ভারি বর্ষণ ও উজানের নেমে আসা পানিতে রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলাসহ সব নদনদীর পানি বাড়া অব্যাহত রয়েছে। বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। ফলে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। পানি ঢুকেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। নতুন করে এসব অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ শুরু হয়েছে।

সিলেট : গত ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট ও উজানে কোথাও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতও হয়নি। এ সময়ে মাত্র ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে সিলেট আবহাওয়া অফিস। গতকাল বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোথাও বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি। এতে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পাঁচ দিন পর রোদ ওঠায় স্বস্তি আরো বেড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, আজ নতুন করে

বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত সিলেটের সুরমা নদীর কানাইঘাট ও সিলেট পয়েন্টে এবং কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ, শেওলা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। কানাইঘাট পয়েন্টে শূন্য দশমিক ৬৫ সেন্টিমিটার, সিলেট পয়েন্টে শূন্য দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার, অমলশিদ পয়েন্টে শূন্য দশমিক ৬১ সেন্টিমিটার, শেওলা পয়েন্টে শূন্য দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১ দশমিক ০২ সেন্টিমিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে শূন্য দশমিক ২৪ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।

এদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নগরের ২৩টি ওয়ার্ডসহ জেলার ১৩টি উপজেলাই কমবেশি প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত গ্রামের সংখ্যা ১ হাজার ৬০২। ৩৬১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন ২১ হাজার ৭৮৬ জন। এছাড়া নগর ও জেলায় বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ৯ লাখ।

একাধিক বানভাসি জানান, পানি কমতে শুরু করলেও এখনো অনেক বাড়িঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি আছে। অনেক গ্রামীণ রাস্তা এখনো পানির নিচে। উপজেলার ভেতরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। চুলা ও নলকূপ তলিয়ে থাকায় বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ খাবার ও সুপেয় পানির কষ্টে ভুগছেন। গোচারণভূমি প্লাবিত হওয়ায় গো-খাদ্যেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি না হওয়ার কারণে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৩টি ওয়ার্ডসহ জেলার ১৩ উপজেলার ১৩০ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে বন্যাকবলিত হয়েছেন ৯ লাখ ৫৭ হাজার ৪৪৮ বাসিন্দা। এ অবস্থায় সিলেটের ১৩ উপজেলার ৬৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬১ আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৭৮৬ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

গত ২৯ মে ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটে বন্যা দেখা দেয়। ৮ জুনের পর থেকে বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। সর্বশেষ সোমবার শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টিতে আবার জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকারে দেখা দেয়। ২০২২ সালের মে মাসে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে নগরে বন্যা দেখা দিয়েছিল।

র‌্যাবের ত্রাণ বিতরণ : গতকাল সিলেটের জৈন্তাপুর থানার কানজর এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রভৃতি বিতরণ করেছে র‌্যাব-৯। পাশাপাশি বিভিন্ন পানিবন্দিদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরে সহায়তা করছেন র‌্যাব সদস্যরা।

সুনামগঞ্জ : ঈদের আগের দিন রাতেই হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে সৃষ্টি হওয়া বন্যার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা শহর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার পানি ধীরগতিতে কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। পাঁচ দিন পর গতকাল শুক্রবার রোদের দেখা মিলেছে। এতে স্বস্তি এসেছে মানুষের মনে।

এদিকে পানি কমলেও দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যাকবলিতদের। যারা বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছিলেন তারা বাড়িঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে বন্যার পানিতে তলিয়ে ও ভেসে গেছে বাড়িঘরের ধান-চাল, আসবাব, গৃহপালিত পশু। সেই সঙ্গে তলিয়ে গেছে পুকুরের মাছ ও ফসলিজমি। রাস্তাঘাট বানের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজারসহ সাত উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়নের ১০১৮টি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এমনকি পানিবন্দি হয়ে এখনো চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন জেলার ৮৮টি ইউনিয়নের প্রায় ৮ লাখ মানুষ।

জেলা সদরের সঙ্গে এখনো সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার। এছাড়া ছাতক, দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুরসহ কয়েকটি উপজেলার সঙ্গে দুর্গম এলাকার ৪০টিরও বেশি গ্রামের সরাসরি সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা বিছিন্ন রয়েছে এখনো।

এদিকে ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে পানিবন্দি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে গেলেও সেখানে তাদের পড়তে হয়েছে নানা ভোগান্তিতে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বন্যার্তদের অভিযোগ, সরকারিভাবে পর্যাপ্ত শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায়নি। মিনারা বেগম ও তানজিলা বেগম বলেন, ভেবেছিলাম আশ্রয়কেন্দ্রে আসার পর হয়তো কষ্ট কিছুটা কমবে। কিন্তু এখানে আসার পর থেকে প্রয়োজনীয় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ছিলাম। এখন নতুন করে পড়েছি ভোগান্তিতে। বাড়িঘরে গিয়ে নতুন করে সবকিছু গোছাতে হবে। ঘরে থাকা চাল, ডাল, আসবাব সবকিছুই তো বানের জলে ভেসে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সুনামগঞ্জের নদীর পানি কমছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সুনামগঞ্জের প্রধান নদী সুরমায় পানি বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, যা এর আগের দিন ছিল ২ সেন্টিমিটার। তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো ৩-৪ দিন সময় লাগবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো পূর্বাভাস নেই।

লালমনিরহাট : রংপুর অঞ্চলে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার প্রধান নদী তিস্তা ও ধরলা। তিস্তা নদীর পানি তৃতীয় দিনের মতো শুক্রবার কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাঁচ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটছে। তিস্তা নদীর ৫০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কমপক্ষে ৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। নদীপাড়ের মানুষের ঘরবাড়িতে হাঁটুপানি, কোথাও কোথাও কোমরপানি উঠেছে। পানিবন্দি মানুষ রান্না করতে পারছে না। কোথাও কোথাও নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ঘর বাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন মানুষ। এসব জেলার নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। বন্যা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পেটের পীড়া দেখা দিয়েছে।

দোয়ানির তিস্তা ব্যারেজের সবগুলো জলকপাট খুলে উজানের পানি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ব্যারেজ রক্ষায় রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। ধরলা নদীর পানি শিমুলবাড়ি পয়েন্টে কিছুটা কমেছে। উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা অবনতির দিকে গেছে। সরকারি সহায়তা প্রয়োজনের চেয়ে অপ্রতুল।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (বাপাউবো) সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের দুধকুমার, তিস্তা ও ধরলা নদীসমূহের পানি বাড়তে পারে। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে এবং রংপুর জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

এ বিষয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৌলা বলেন, গজলডোবায় পানি ছেড়ে দেয়ার কারণে তিস্তার পানি বাড়ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রাখা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম : শুক্রবার সকাল ৬টায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বাপাউবোর তথ্যমতে, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে ও ধরলা নদীর পানি তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলার পানি বাড়ার গতি ধীর হলেও তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।

এ দুটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী এবং রাজারহাট উপজেলার নদী তীরবর্তী নি¤œাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ বন্যায় প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে নিদারুণ কষ্টের মুখে পড়েছে।

তবে ব্রহ্মপুত্র চিলমারী ও নুন খাওয়া পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল দিনভর বৃষ্টিপাত না থাকায় মানুষের মাঝে অনেকটা স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তথ্যমতে, এসব এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বন্যাকবলিত মানুষকে কলাগাছের ভেলা ও ছোট ছোট নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিস্তীর্ণ এলাকায় পানির পানি ওঠায় আমন বীজতলাসহ শাকসবজি ও বাদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কাজকর্ম না থাকায় কর্মজীবী মানুষ ও বিপাকে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দু-একদিনের মধ্যে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পানি বাড়ায় পাঁচ-ছয়টি এলাকায় নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেলায় প্রায় ৪৫৩ হেক্টর ফসলিজমি বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এর মধ্যে আমন বীজতলা, মরিচ, আউশ ধান, পাট, চিনা, পটোল ক্ষেতসহ বিভিন্ন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে চাষিরা পটোল এবং মরিচ বাজারে বিক্রি করতে পারত। এখন গাছগুলো সব মরে যাবে।

জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, বন্যা মোকাবিলায় ১৩ লাখ টাকা, চাল ১৩ মেট্রিক টন, ঢেউটিন ২৫০ বান্ডেল, নৌকা ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া যদি কোনো প্রয়োজন হয় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, বন্যাকবলিত মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৯১ জন। উপজেলা পর্যায়ে ১৪৪ মেট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ ১০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ত্রাণ হিসেবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ৪০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে দুর্গত মানুষ আশ্রয় নেয়া শুরু করেছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে খাদ্য সহায়তা। ৪টি স্পিড বোট ও ২টি নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বন্যার্তদের উদ্ধারের জন্য। জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

গাইবান্ধা : তিস্তা নদীতে পানি বাড়ায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর, কাপাশিয়া, চন্ডিপুর ও তারাপুর ইউনিয়ন, সদর উপজেলার মোল্লারচর, গিদারি, ঘাগোয়া, কামারজানি ও ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি, ফুলছড়ি ও ফজলুপুর ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলের রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। এসব এলাকার বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আল হাসান জানান, নদীবেষ্টিত ইউনিয়নগুলোর চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নদীর পাড় সংলগ্ন যেসব ওয়ার্ড রয়েছে সেখানে গ্রুপভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ওসব এলাকায় শুকনা খাবার বিতরণের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

নীলফামারী : নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বুড়ি তিস্তা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ১০ গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সুন্দরখাতা, মধ্য সুন্দরখাতা, রূপাহারা, সিংপাড়া, মাইঝালির ডাঙাসহ প্রায় ১০টি গ্রামে বুড়ি তিস্তা নদীর পানি প্রবেশ করেছে। এসব গ্রামের প্রায় ১ হাজার বিঘা আবাদি জমি ও আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ডিমলা উপজেলা কৃষি অফিস।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এখন পানি না কমা পর্যন্ত সেখানে মালামাল নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়।

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে নবীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের বেশ কিছু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করায় হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। অন্যদিকে নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অনেকেই ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক। নতুন করে দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।

নেত্রকোনা : সপ্তাহ ধরে ভারি বৃষ্টির কারণে নেত্রকোনায় নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও শুক্রবার থেকে অন্যান্য নদনদীতে পানি ক্রমশই কমছে। শুধু ধনু নদীতে পানির প্রবাহ স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবার সারাদিন রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়া থাকায় জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। জেলার প্রধান প্রধান নদনদীর পানি বেড়ে লোকালয়ের রাস্তাঘাট ডুবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) : সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় রেলপথের কিছু স্থানে বন্যার পানি উঠে গেছে। কুলাউড়া জংশন ও ছকাপন রেলস্টেশনের মাঝখানে রেলপথে পানি ওঠায় ওই অংশে ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রেলওয়ের কুলাউড়া জংশন স্টেশনে দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মোজাম্মেল হক জানান, কুলাউড়া-সিলেট রেলপথের কুলাউড়া জংশন স্টেশন থেকে ছকাপন রেলস্টেশনে যেতে কিছু অংশ হাওরের কাছে পড়েছে। ভারি বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে হাওরের পানি উপচে সেখানে রেলপথ প্লাবিত হয়েছে। ওই স্থানে রেলের স্লিপারে পানি উঠে গেছে, তবে রেললাইন ভেসে রয়েছে। পানিতে স্রোত তেমন নেই। তবে পানি বেড়েছে। পানি বাড়ায় গতি আরো কমিয়ে ১০ কিলোমিটার করা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App