×

প্রথম পাতা

মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে বিচার শুরু ইউনূসের

Icon

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৫ জুলাই তারিখ ঠিক করেছেন আদালত। অভিযোগ গঠনের সময় ড. ইউনূসসহ অন্যরা নিজেদের নিরপরাধ দাবি করেন। তারা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চান।

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের লভ্যাংশের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং ওই অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুদক। মামলার বাকি আসামিরাও গ্রামীণ টেলিকমের কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এর আগে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের করা মামলায় গত ১ জানুয়ারি ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। ওই রায়ের বিরুদ্ধে শ্রম আপিল আদালতে আপিল করেছেন ইউনূস।

তিনি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে ইউনূস বলে আসছেন, তিনি ‘হয়রানির’ শিকার।

গতকাল বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এ আলোচিত মামলাটির চার্জ গঠনের বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য ছিল। নিয়ম অনুসারে আদালতে হাজির হন ড. ইউনূসসহ ১৪ আসামি। এরপর ইউনূস বাদে বাকি সব আসামিকে লোহার খাঁচার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বলেন বিচারক সৈয়দ আরাফাত হোসেন। তবে অন্য সব আসামির সঙ্গে স্বেচ্ছায় কাঠগড়ায় দাঁড়ান ড. ইউনূস। এরপর আইন অনুসারে সুযোগ থাকায় ড. ইউনূসসহ ১৪ আসামিই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতি চান। তবে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করেন। চার্জ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৫ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন আদালত।

শুনানি শেষে গণমাধ্যমে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় চার্জগঠন করা হয়েছে। এ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। এ ধারায় সর্বনিম্ন সাজা ১০ বছর। এছাড়া মানি লন্ডারিংয়ের যে ধারায় চার্জগঠন হয়েছে সেই ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১২ বছর এবং সর্বনিম্ন ৪ বছরের সাজার বিধান রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ধারায়ও শাস্তির বিধান রয়েছে। এ বিষয়টি সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে, মামলা নিষ্পত্তির পর আদালত পর্যালোচনা করবেন।

অন্যদিকে চার্জগঠনের আদেশে ক্ষোভ ফুটে ওঠে ড. ইউনূসের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুনের চেহারায়। এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে গণমাধ্যমকে জানান তিনি।

চার্জগঠনের আদেশে ক্ষোভের ছাপ দেখা যায় ড. ইউনূসের মুখেও। তিনি ওই আদেশসহ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, সারাক্ষণ খাঁচার ভেতর ছিলাম। আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ার আগে তাদের খাঁচার ভেতরে রাখা ন্যায্য হলো কিনা? আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বিষয়টা তা নয়। একটা সভ্য দেশে নাগরিককে কেন পশুর মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে? তিনি আরো বলেন, আমরা সারাজীবন মানুষের সেবা করে কাটিয়েছি। অর্থ আত্মসাৎ কেন করতে যাব? আমাকে নানা ধরনের কথা বলে হয়রানি করা হচ্ছে। আমাকে বলা হচ্ছে- সুদখোর, অর্থ আত্মসাৎকারী। আমি নাকি পদ্মা সেতুর টাকা আটকিয়ে দিয়েছি। এসব কথা বলে হয়রানি করা হচ্ছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম, পরিচালক আশরাফুল হাসান, পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম, এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান এবং সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান ও প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলাম।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App