×

প্রথম পাতা

যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানাল হামাস

Icon

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ ডেস্ক : ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দেয়া সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। হামাসের পাশাপাশি তাদের ফিলিস্তিনি মিত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ ও প্রতিদ্ব›দ্বী গোষ্ঠী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষও নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত এ প্রস্তাবের পক্ষে সোমবার ১৪টি ভোট পড়ে। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে শুধু রাশিয়া ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র ‘পুরো ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি’র যে প্রস্তাব রেখেছে; তাতে হামাসের হাতে বন্দি জিম্মিদের মুক্তি, মৃত জিম্মিদের দেহাবশেষ হস্তান্তর এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে মুক্তি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জানিয়ে হামাসকেও তা মেনে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে খসড়ায়।

নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পরপরই এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, (ইসরায়েলি বাহিনীর) সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, বন্দি বিনিময়, গাজার পুনর্গঠন, বাস্তুচ্যুতদের তাদের আবাসস্থলে ফিরে যাওয়া, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন বা গাজা ভূখণ্ডের এলাকা হ্রাস প্রত্যাখ্যান এবং আমাদের জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা সরবরাহের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; হামাস একে স্বাগত জানায়। এই প্রস্তাবের নীতিগুলো আমাদের জনগণ এবং প্রতিরোধ বাহিনীর দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা এসব বিষয় বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় যুক্ত হতে ইচ্ছুক।

ইসলামিক জিহাদ গতকাল মঙ্গলবার সকালে পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রস্তাবে যা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সেগুলোকে ‘ইতিবাচকভাবে’ দেখছে তারা। ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও যুদ্ধবিরতির এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন যে তিনি হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। হামাসের পরাজয় না হওয়া পর্যন্ত শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে ইসরায়েল। হামাস পাল্টা বলেছে যে তারা এমন কোনো চুক্তি মেনে নেবে না যা যুদ্ধ শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত ৩১ মে যুদ্ধবিরতি চুক্তির রূপরেখাটি দেন। এতে তিন পর্বের যুদ্ধবিরতি পর পর্যায়ক্রমে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের কথা বলা হয়েছে। কয়েকটি দেশের সরকারের সঙ্গে ধনী দেশগুলোর জোট জি সেভেন এতে সমর্থন দিয়েছে।

ইসরায়েলকে বাধ্য করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব : হামাস কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি গতকাল বার্তা সংস্থা রয়র্টার্সকে বলেন, ইসরায়েল যেন চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলে তা নিশ্চিতের দায়িত্ব ওয়াশিংটনের। হামাস জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের খসড়া চুক্তি অনুযায়ী গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের কাছে আটক ফিলিস্তিনিদের মুক্তির বিষয়গুলো মেনে নিয়েছে।

তিনি বলেন, মার্কিন প্রশাসনের সামনে এখন অগ্নিপরীক্ষা। অঙ্গীকার অনুযায়ী ইসরায়েলকে অবিলম্বে যুদ্ধের অবসান করানো এবং নিরাপত্তা পরিষদের চুক্তির অন্যান্য শর্ত বাস্তবায়নে বাধ্য করা এখন তাদের দায়িত্ব।

নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুমোদনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মন্তব্য করেন, হামাসের এখন প্রমাণ করার সময় যে তারা আসলেই যুদ্ধবিরতি চায়।

এদিকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডবে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ ফিলিস্তিনিরা। দফায় দফায় হামলা চালিয়ে তাদের নিরাপদ আশ্রয় কেড়ে নেয়া হচ্ছে। অবরুদ্ধ এই উপত্যকার এমন কোনো স্থান বাকি নেই যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়নি।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে হামাস যোদ্ধাদের হামলায় ১ হাজার ১৯৪ জন নিহত হন। প্রায় আড়াইশ জনকে গাজায় নিয়ে জিম্মি করে হামাস। এই হামলার প্রতিশোধ হিসেবে সেদিনই গাজার বিরুদ্ধে নির্বিচার বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। পরে স্থলবাহিনীও এতে যোগ দেয়। গত ৮ মাসে ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা অন্তত ৩৭ হাজার ১২৪। আহতের সংখ্যা ৮৪ হাজার অন্তত ৭১২। হতাহতের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App