×

প্রথম পাতা

বাজেট নিয়ে উদ্বিগ্ন শিল্প খাত, বিনিয়োগে হতাশা

Icon

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট নিয়ে উদ্বিগ্ন শিল্প খাত, বিনিয়োগে হতাশা

মরিয়ম সেঁজুতি : নানারকম চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের প্রায় সব শিল্প খাত। দাম বাড়ার পরও ডলার সংকট পুরোপুরি কাটেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, শিল্পের কাঁচামাল থেকে শুরু করে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমছে। পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে শিল্পকারখানা। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। বাড়ছে না পণ্য রপ্তানির ক্রয়াদেশও। এর ফলে শিল্প কারখানার উৎপাদন কমছে। সুদের হার বাড়তে থাকায় ঋণ নিতে ব্যয় বেড়েছে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি। নানামুখী সংকটের মধ্যে বেসরকারি খাতে নতুন বিনিয়োগ ও বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণে গতি নেই।

অর্থনীতির এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটের এসব পদক্ষেপ এরই মধ্যে বেসরকারি খাতে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের ঋণ নিতে ব্যাংকনির্ভরতা বাড়ায় বেসরকারি বিনিয়োগে ঋণ প্রাপ্তিকে কঠিন করে তুলতে পারে। আবার শুল্ক আরোপের ফলে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে বেসরকারি খাতে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ভোরের কাগজকে বলেন, বাজেটে ব্যবসায়ীদের দেয়া প্রস্তাবের প্রতিফলন নেই। প্রস্তাবিত বাজেটে ১ শতাংশ এআইটি (অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স) কেটে নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা কোনোভাবেই মানা যায় না। তিনি বলেন, এ প্রস্তাব শিল্পের জন্য সবচেয়ে খারাপ দিক। বাজেটে সরকার ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে। সরকার ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তখন শিল্প খাত ঋণ পেতে জটিলতায় পড়বে। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক আরোপের বিষয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে বাজেটে কিছুই নেই। বরং যারা বিনিয়োগ করেছে তাদেরও বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। রপ্তানির প্রধান জায়গাগুলোতেই কিছু নেই। দুয়েকটি বিষয় ভালো ছিল। যেমন- প্রোডাক্ট ডাইভার্সিফাই করতে আমাদের যে দাবি ছিল, এটার একটি ভালো দিক আছে। ৫০ টনের বেশি ইন্ডাস্ট্রিজ এয়ার কুলার আনলে ডিউটি কমানো হয়েছে। তবে আমাদের মূল প্রস্তাব ছিল সোর্স ট্যাক্স কমানো এবং কাস্টমসের হয়রানি বন্ধ করা। অথচ এ বিষয়ে তেমন কোনো দিকনির্দেশনা বাজেটে প্রতীয়মান হয়নি। এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, বর্তমানে বেশির ভাগ রপ্তানিকারকরা আইসিইউতে আছে। সেখান থেকে ফিরে আসার জন্য সরকারের সহযোগিতা দরকার। সেখানেই কিছু নেই। বর্তমানে যে পদ্বতিতে সোর্স ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ে সরকার বেশকিছু পণ্য ও সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ও শুল্ক (কাস্টমস) বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এসব সুপারিশ শিল্প খাতের বিনিয়োগে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পমালিকরা। একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে দেশের অর্থনীতি নিয়ে গবেষণাকারী সংস্থাগুলোও।

দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বাজেটে মূলধনি যন্ত্রাংশ আমদানিতে শিল্প উদ্যোক্তাদের আর শুল্ক অব্যাহতি থাকছে না। সরকার শূন্য শতাংশ শুল্ক থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর শুল্ক আরোপ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর ১ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোনো ডেভেলপার উন্নয়ন কাজে পণ্য আমদানি করলে তাকেও ১ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। মূলধনি যন্ত্রাংশ আমদানি করার ক্ষেত্রে এসআরও সংশোধন করে কিছু পণ্য তালিকা থেকে বাদ দেয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, অর্থনীতির বেশির ভাগ সূচক নিয়েই বর্তমানে দুশ্চিন্তা রয়েছে। তার মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ অন্যতম। অনেক দিন ধরেই সরকারি বিনিয়োগ দ্রুত হারে বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগ সে তুলনায় বাড়ছে না। অর্থনীতির এ সংকটময় সময়ে বিনিয়োগ দ্রুতগতিতে বাড়ানো না গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হবে, বাড়বে বেকারের সংখ্যা। সম্প্রতি বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, চ্যালেঞ্জিং সময়ে বাজেটটা দেয়া হয়েছে। অথচ এতে কোনো নতুনত্ব দেখছি না। আগের বাজেটের অঙ্ক শুধু এদিক- সেদিক করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, সংকোচনমূলক বাজেট, অথচ বাজেটের ঘাটতি দেখে সংকোচনমূলক মনে হয় না। আবার ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। সরকার যদি বেশি ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাত কীভাবে ঋণ পাবে? আর ব্যক্তিগত খাত ঋণ না পেলে কর্মসংস্থান হবে কীভাবে। এ অবস্থায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বিভিন্ন কারণে ব্যবসার খরচ বেড়েছে। তবে ব্যবসা সেভাবে বাড়েনি। মূলধন ঘাটতির কারণে বিদ্যমান ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ বা নতুন বিনিয়োগ অধিকাংশ ব্যবসায়ীর অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে চার ‘বাধা’ দেখছেন রপ্তানিকারকরা। তাদের চিহ্নিত বাধা চারটি হলো- স্টিল বিল্ডিং তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ সামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব; অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মূলধনী যন্ত্রাংশ ও নির্মাণসামগ্রীর আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ নির্ধারণ; জ্বালানি সাশ্রয়ী বাতির ওপর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশের প্রস্তাব করা এবং নতুন বন্ড লাইসেন্স ফি পঞ্চাশ হাজার টাকার স্থলে এক লাখ টাকা ও লাইসেন্স নবায়ন ফি বার্ষিক পাঁচ হাজার টাকার স্থলে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব। এ চার প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাধা তৈরি হবে বলে মনে করছে আমদানি রপ্তানিকারক সমিতি (ইএবি)।

সংগঠনটির সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, গত অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ছিল ৪৭ বিলিয়ন ডলার, ২০৩০ সাল নাগাদ আমরা ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছি। সরকারের অব্যাহত সহযোগিতায় আমরা রপ্তানি বাড়াতে পারলে কর হার না বাড়িয়েও রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব। এতে অর্থনীতি বেশি উপকৃত হবে। এজন্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত পোশাক ও বস্ত্র খাতের চলমান সব নীতিসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং বিকল্প নীতিসহায়তা প্রবর্তন না করা পর্যন্ত যেন চলমান নীতিসহায়তা কাটছাঁট না করা হয়, সে দাবি রাখছি। এ বিষয়ে তিনি ২৪টি প্রস্তাব তুলে দেন। এগুলো হচ্ছে- উৎসে কর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং এটিকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করা এবং আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত অব্যাহত রাখা; রপ্তানি খাতে নীতি সহায়তার ওপর আয়কর অব্যাহতি; শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সব পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট ও পরোক্ষ ট্যাক্স প্রত্যাহার করতে হবে; ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর বিকল্প সহায়তার ব্যবস্থা করা; এইচ এস কোর্ড ও ওজন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করা; অগ্নি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর কর রেয়াত; পোশাক শিল্পের ঝুট বা বর্জ্য সংগ্রহের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা এবং রিসাইকেল ফাইবার সরবরাহের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা উল্লখেযোগ্য।

বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, বর্তমান সরকার শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব। সরকার নিজে ব্যবসা করে না, তবে ব্যবসার পলিসি সাপোর্ট দেয়। প্রস্তাবিত বাজেটে শিল্পের বিভিন্ন খাতের কিছু দাবি দাওয়া আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যে বাজেট দেয়া হয়েছে, সেখানে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন আছে।

এদিকে, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) সভাপতি হুমায়ূন রশিদ বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে এখন ক্রান্তিকাল যাচ্ছে। ব্যবসা সহজীকরণে বাধা হয়ে আছে দুর্নীতি। বাজেটে সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন ছিল; কিন্তু এমন কোনো নীতিমালা আমরা বাজেটে পাইনি। মঙ্গলবার আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৪-২৫ প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি মনে করেন, বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব আরো জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য অর্জন করাও চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, বিশাল রাজস্ব সংগ্রহ করা হবে সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এমনিতেই দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকসহ রাজস্ব আহরণপ্রক্রিয়া বিশ্বব্যাপী বিরাজমান কঠিন পরিস্থিতির কারণে চাপের মুখে রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে ব্যবসাবাণিজ্য বান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আহরণের কার্যপদ্ধতিতে সংস্কার আনা জরুরি। সেই সঙ্গে কর-জিডিপির অনুপাত বাড়ানোর জন্য করের আওতা ও অনলাইনভিত্তিক সেবা বাড়ানো এবং উপজেলা পর্যন্ত কর অফিস বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ও সংগঠনটির উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, অর্থনীতিতে উত্তরণ না ঘটলে ২০২৬ সালে আমরা বিপদে পড়ে যাব। এ জন্য এখনই সংস্কার করে অর্থনীতির উন্নতি ঘটানো প্রয়োজন। এবারের বাজেট পরোক্ষ করমুখী হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষ কর আদায়ের ব্যাপারে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। প্রত্যক্ষ কর না বাড়লে বৈষম্য কমবে না।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জের করা ব্যবসা পরিবেশ সূচকে (বিবিএক্স) ২০২৩-২৪ সালের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সামগ্রিকভাবে দেশের ব্যবসা পরিবেশের সূচকের ১০০ নম্বরের মধ্যে স্কোর ছিল ৬১ দশমিক ৯৫। গত বছর সূচকের স্কোর কমে ৫৮ দশমিক ৭৫- এ নেমেছে। অর্থাৎ এক বছরে দেশে ব্যবসা পরিবেশের অবনতি ঘটেছে। ব্যবসা শুরু, জমির প্রাপ্যতা, আইনকানুনের তথ্যপ্রাপ্তি, অবকাঠামো সুবিধা, শ্রমনীতি, বিরোধ নিষ্পত্তি, বাণিজ্য সুবিধা, কর পরিশোধ, প্রযুক্তির ব্যবহার, ঋণের প্রাপ্যতা এবং পরিবেশগত নিয়মনীতি ও মান- এ ১০টি সূচকের ওপর ভিত্তি করে জরিপটি করা হয়েছে। ওই জরিপে আরো বলা হয়েছে, গত এক বছরে ব্যবসায়ীদের ব্যাংকঋণ পাওয়া আরো কঠিন হয়েছে। কর ও ভ্যাট পরিশোধে হয়রানি আগের মতোই রয়েছে। ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া আগের চেয়ে জটিল হয়েছে। এছাড়া আইনকানুনের তথ্যপ্রাপ্তি, অবকাঠামো সুবিধা, শ্রম নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসায় বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অবনতি হয়েছে।

এদিকে, ২০২২ সালে দেশে ৩৪৮ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের মধ্যে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছিল। আর গত বছর এসেছে ৩০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত বছর এফডিআই কম এসেছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ বা ৪৮ কোটি ডলার। মোট এফডিআইয়ের মধ্যে মূলধন বা নতুন বিনিয়োগ, পুনর্বিনিয়োগও কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে যেখানে ১০২ কোটি ডলারের নতুন বিনিয়োগ এসেছিল, গত বছর তা কমে ৭১ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর পুনর্বিনিয়োগ ২০২২ সালে ছিল ২৫১ কোটি ডলারের, গত বছর তা কমে হয়েছে ২২১ কোটি ডলার। পাশাপাশি পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া, জ্বালানি সংকট, মূলধন ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ইস্পাত ও সিমেন্ট খাতের কারখানাগুলোর বড় অংশ পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। তার মধ্যে বস্ত্র খাতে নতুন নিয়োগ বন্ধ। বিভিন্ন কারখানায় ছাঁটাই হচ্ছে প্রতিনিয়ত। শিল্পে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে। নতুন নিয়োগের বিষয়ে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নতুন নিয়োগ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যদিও প্রতিদিনই চাকরি খুঁজতে কারখানার বাইরে অনেকে আসছে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংক খাত, রাজস্ব খাত, স্বাস্থ্য খাত, শিক্ষা খাতে- বড় ধরনের সংস্কার করতে হবে। নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। না হলে এখনকার মতো অর্থ দেশে না এসে বিদেশে চলে যাওয়া অব্যাহত থাকবে। এতে সংকট আরো বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App