×

প্রথম পাতা

ঈদে ঘরে ফেরা

মহাসড়ক ভালো, তবুও শঙ্কা

Icon

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 মহাসড়ক ভালো, তবুও শঙ্কা

দেব দুলাল মিত্র : বর্ষাকাল শুরু না হওয়ায় দেশের সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা এখন ভালো অবস্থায় রয়েছে। ৭০ শতাংশের বেশি সড়কে খানাখন্দ, ভাঙাচোরা, জলাবদ্ধতা না থাকায় রাজধানী থেকে দেশের সব জেলা শহরে নির্বিঘেœই চলাচল করছে যানবাহন। এই অবস্থায় আসন্ন ঈদযাত্রায় সড়ক পথে নির্বিঘেœই ঘরমুখো মানুষ যাতায়াত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সুষ্ঠুভাবে সড়ক ব্যবস্থাপনা করতে না পারলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে এবং যানজটের ভোগান্তি বাড়বে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঢাকা-সিলেটসহ যেসব মহাসড়কে প্রশস্তকরণের কাজ চলছে, সেসব সড়কে যানজটের আশঙ্কা রয়েই গেছে। ঈদযাত্রা শুরু হলে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশ সড়কে ২৪ ঘণ্টা তৎপর না থাকলে ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

সড়কের অবকাঠামোগত অবস্থা ভালো থাকলেও বিভিন্ন মহাসড়কের প্রায় দেড় শতাধিক স্থান ভোগান্তির জন্য চিহ্নিত হয়ে আছে। সরু সড়ক, বিশৃঙ্খলভাবে রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা, রাস্তার ওপর যাত্রী ওঠানামা করানো, ইউটার্ন, গরুর হাঁট, সড়কের ওপর যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকা, টোলপ্লাজায় ধীরগতিসহ বিভিন্ন কারণে এসব এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

সাভারের আশুলিয়া, গাজীপুরের চন্দ্রা মোড়, জয়দেবপুর মোড়, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, ঢাকার হানিফ ফ্লাইওভার, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি, ডেমরা মোড়, কাঁচপুর, নরসিংদীর মাধবদী, তারাবো, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কমপক্ষে ৮ স্থানে সবচেয়ে বেশি যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের সব মহাসড়কের বেশির ভাগেরই অবস্থা বেশ ভালো। বর্ষাকাল এখনো শুরু হয়নি। সড়কে জলাবদ্ধতা না থাকায় ৭০ ভাগের বেশি মহাসড়ক ভালো অবস্থায় রয়েছে। আগামী ১৭ জুন কুরবানির ঈদ ধরে নিয়েই দেশের সব মহাসড়কের মেরামত কাজ চলছে। ঈদযাত্রা শুরুর আগেই এসব কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোজার ঈদের মতো এবারো ঈদের লম্বা ছুটি হবে এবং সড়কে চাপ হবে। ফলে ধাপে ধাপে যাত্রীরা স্বস্তিতেই ঘরে ফিরতে পারবেন।

সওজ এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সবুজ উদ্দিন খান বলেন, সারাদেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন সড়ক-মহাসড়ক অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে। ঈদযাত্রায় নির্বিঘেœ যানবাহন চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। অনেক বছর ধরে ঈদের সময় সড়ক ভালো রাখতে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। এবার বর্ষা মৌসুম এখনো শুরু না হওয়ায় সব সড়কের অবস্থা ভালো। কোনো সড়ক খানাখন্দ, ভাঙাচোরা অবস্থায় নেই। জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও নেই। আরো যেসব সংস্থা আছে তারা সবাই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিতে পারলে এবারের ঈদযাত্রায় সড়কে ভোগান্তির কোনো সম্ভাবনা আমি দেখছি না।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে বের হওয়ার প্রতিটি সড়কের অবস্থা ভালো। ঢাকা সিলেট মহাসড়কে লেন বাড়ানোর কাজ চললেও মূল সড়কে এর কোনো প্রভাব ঈদযাত্রায় পড়বে না। মূল সড়ক খুবই ভালো আছে, মূল সড়কের দুই পাশে কাজ চলছে। শৃঙ্খলার সঙ্গে চলাচল করলে যানজট হবে না। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অবস্থাও ভালো, এই সড়কের কোথাও খানাখন্দ, ভাঙাচোরা নেই। ঢাকা-গাজীপুর সড়কের অবস্থা গত বছরের চেয়ে এবার অনেক ভালো। ঢাকা-মাওয়া বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ে সব সময়ই নিবিঘœ যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত, এবারো এর ব্যাতিক্রম হবে না।

সবুজ উদ্দিন খান আরো বলেন, ঈদযাত্রায় সাভারের আশুলিয়া সড়কে সমস্যা হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান থাকায় রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে ও কেটে ফেলা হয়েছে। বিভিন্ন অংশে উঠে গেছে পিলার। আরো পিলার উঠবে। এতে খানাখন্দ, ভাঙাচোরা, ছোটবড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে এই সড়কে ডাইভারসন আছে। আমরা এই সড়ক ব্যবহার না করে উত্তরবঙ্গের সব যানবাহনকে গাজীপুর সড়ক ব্যবহার করে চলাচলের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়া ভোগান্তি এড়াতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা সেতুর টোলপ্লাজায় যানজটের বিষয়টি মাথায় রেখে সেখানে ৯টির পরিবর্তে এবার ১২টি গেট চালু রাখার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজায় ৯টির পরিবর্তে ১২টি চালু রাখা হবে। উত্তরবঙ্গের সড়কগুলোর অবস্থাও ভালো। ঈদযাত্রায় এই মহাসড়কের লেন উন্নয়নের কাজের কারণে ভোগান্তি হবে না। সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে; তবে এখানে গতবারের মতো অবস্থা নেই, সব ক্লিয়ার করা হয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা মোড়ের সড়কের অবস্থাও ভালো।

সওজএর প্রকৌশলীরা জানান, সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা ভালো থাকলেও ঈদযাত্রায় যানজটের ভোগান্তি পিছু ছাড়ে না। যানজট নিরসন করা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের দায়িত্ব। ব্যস্ত সড়কের পাশে গরুর হাট, বাজার, মার্কেট ও বাসস্ট্যান্ডে এলোপাথাড়িভাবে যানবাহন রাখার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ফোরলেন উন্নয়নের কাজ চলছে। কাঁচপুর থেকে নরসিংদী পর্যন্ত এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর বিশ্বরোড এলাকায় সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থা। স্বাভাবিক সময়ে এই সড়কের যাত্রীদের যাতায়াতের সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ঈদযাত্রা শুরু হলে সড়কে যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজটও বাড়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর এলাকাটি এখন এই রুটের যাত্রী ও চালকদের কাছে ভোগান্তির অপর নাম। সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চললেও ঢাকা-বগুড়া-রংপুর মূল মহাসড়কের অবস্থাও এখন ভালো। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কোথাও কোনো সমস্যা নেই। দুই লেনের সংকীর্ণ ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের প্রধান সমস্যা। সড়ক প্রশস্তকরণের প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও জমি অধিগ্রহণে জটিলতায় সব ধরনের যানবাহন ধীর গতিতেই চলতে হয়। পদ্মাসেতু পার হয়ে ভাঙা চৌরাস্তা পর্যন্ত নিবিঘেœ যাওয়া যায়। তারপরই দুই লেনের সড়কের কারণে যানবাহনের গতি কমে যায়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কোথাও ভাঙাচোরা, জচলাবদ্ধতা ও খানাখন্দ নেই। বিআরটি প্রকল্পের কাজের বেশ অগ্রগতির ফলে বিমানবন্দর থেকে এই মহাসড়কে নির্বিঘেœই যানবাহন চলাচল করতে পারছে। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় গত বছর দেড় কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খারাপ ছিল, তবে এবার অবস্থা ভালো বলে জানা গেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App