×

প্রথম পাতা

পোশাক শিল্পের ৩ সংগঠন

কালো টাকা সাদা করা ব্যবসায়ীদের দাবি নয়

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 কালো টাকা সাদা করা ব্যবসায়ীদের  দাবি নয়

কাগজ প্রতিবেদক : আগামী অর্থবছর থেকে তৈরি পোশাক শিল্পে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে অর্ধেক করার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও বস্ত্র মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ। একই সঙ্গে জানিয়েছে, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো দাবি তাদের ছিল না। ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে- অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করে ব্যবসায়ীদের এই তিন শীর্ষ সংগঠন বলছে, এমন কোনো দাবি অর্থমন্ত্রীর কাছে জানানো হয়নি।

গত শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে’। আপনাদের পক্ষ থেকে আসলেই এমন কোনো দাবি ছিল কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে ওই তিন ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতিই বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের এ সংক্রান্ত কোনো দাবি ছিল না।’ রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গতকাল শনিবার তারা এ দাবি করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি এস এম মান্নান, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী।

বিজিএমইএ সভাপতি এস এম মান্নান বলেন, শুল্ক শূন্য শতাংশ থেকে ১ শতাংশ নির্ধারণ নতুন বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বা শিল্পাঞ্চলের বাইরে বিনিয়োগ করার জন্য আরো ৫ বছর যেন সময় দেয়া হয়, সেই দাবিও আমরা জানিয়েছি। এই সুযোগ যদি না দেয়া হয়, তাহলে বিনিয়োগে বড় বাধা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না এবং রপ্তানি আয়ও বাড়বে না। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল বাজেটে পোশাক শিল্পের জন্য সহায়ক কিছু নীতি সহায়তা থাকবে। বিশেষ করে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং এটিকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে আমাদের গভীর প্রত্যাশা ছিল। তা হয়নি। আগামী অর্থবছর থেকে তৈরি পোশাক শিল্পে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে অর্ধেক করার দাবি জানাই।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, মজুরি খরচে সরকারি সহায়তা না দিলে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের টিকে থাকা সম্ভব নয়। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করার পাশাপাশি এনবিআরের হয়রানি বন্ধ করা দরকার।

সংবাদ সম্মেলনে আরো কিছু প্রত্যাশা জানায় তিন সংগঠন। যেমন- বাজেটে প্রণোদনার ওপর আয়কর অব্যাহতি, শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য ও সেবা ভ্যাটমুক্ত রাখা, এইচএস কোড ও ওজন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করা, ইআরকিউর ওপর আয়কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, অগ্নি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে আমদানি কর রেয়াত, পোশাক শিল্পের ঝুট থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং রিসাইকেল ফাইবার সরবরাহের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের ঘোষণা আসবে। কিন্তু এসব ঘোষণা না আসায় হতাশা প্রকাশ করা হয়।

সংগঠন তিনটি মনে করে, শিল্প টিকে থাকলে রাজস্ব আসবে, নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। গত অর্থবছর বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪৭ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের। ভবিষ্যতে রপ্তানি বৃদ্ধির আরো সম্ভাবনা আছে। সরকারের অব্যাহত সহযোগিতায় রপ্তানিতে কাক্সিক্ষত সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে করহার না বাড়িয়েও রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব। এতে অর্থনীতি বেশি উপকৃত হবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, করোনা মহামারি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ভূ-রাজনৈতিক কারণে সৃষ্ট বিশ্বমন্দা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং তা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশে সুদের হার বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে এসেছে। একই সঙ্গে পণ্যের দরপতন হয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় ৫ বছরে দফায় দফায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে পোশাক শিল্প একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা বলে, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে আমাদের পোশাক রফতানি প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে। শুধু মে মাসেই কমেছে ১৭ শতাংশ। আমরা মজুরি ৫৬ শতাংশ বাড়িয়েছি, কিন্তু আমাদের মূল্য বাড়েনি। বরং গত ৯ মাসে আমাদের প্রধান পণ্যগুলোর দরপতন হয়েছে ৮ থেকে ১৮ শতাংশ। শিল্প যখন এ রকম একটি সংকটময় পরিস্থিতিতে রয়েছে, তখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল সিংহভাগ রপ্তানি আয় অর্জনকারী পোশাক শিল্পকে সহায়তা দেয়া এবং এর মাধ্যমে রিজার্ভ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা।

তিনটি সংগঠনের দাবি, কাস্টমস আইন ২০২৩-এর ১৭১ ধারায় আমদানি করা পণ্যের এইচএস কোড ভুল হলে যে ২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ জরিমানার বিধান করা হয়েছে, সেটা প্রত্যাহার করা হোক। ভুলের জন্য অতি উচ্চ হারে মাশুল নেয়া কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়। পাশাপাশি নতুন কাস্টমস আইন বাস্তবায়নের আগে সব অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ বলেছে, তাদের মূল দাবিগুলো আমলে নেয়া না হলেও কিছু কিছু প্রস্তাব শিল্পের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সেগুলো হলো- আগে ভ্যাট আপিলের ক্ষেত্রে দাবিকৃত অর্থের ২০ শতাংশ জমা দিতে হতো, সেটা কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৭টি বিভিন্ন টেক্সটাইল পণ্য রেয়াতি হারে আমদানির সুবিধা দেয়া। এছাড়া শিল্প কারখানায় ৫০ টন বা অধিক ক্ষমতার চিলার আমদানির ক্ষেত্রে সর্বমোট কর ১০৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। আগে এটি ১ শতাংশ রেয়াতি হারে আমদানির বিধান ছিল। তারা আবারো এই রেয়াতি হারে আমদানির অনুমোদন দেয়ার অনুরোধ জানান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App