×

প্রথম পাতা

ইশতেহারের আলোকে সাজানো ‘স্মার্ট’ বাজেট

Icon

ঝর্ণা মনি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইশতেহারের আলোকে সাজানো ‘স্মার্ট’ বাজেট

বাজারমূল্য ও আয়ের মধ্যে সঙ্গতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ জনকল্যাণ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছিল টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ। দলের এবারের ইশতেহারে চমক জাগানিয়া স্লোগান- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ : উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’। এই ইশতেহারের আলোকেই সাজানো হয়েছে এবারের বাজেট। সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য ছিল উন্নয়ন। গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছে। সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেটে ক্ষমতাসীন দলের প্রতিশ্রæতিরই প্রতিফলন ঘটেছে।

এর আগে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা সংক্রান্ত বিশেষ সভায় বাজেটে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় সরকারপ্রধান জানতে চান- আগামী বাজেটে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন থাকছে কি না? জবাবে অর্থ বিভাগের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, বাজেটে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন রয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখেই আগামী বাজেটে জনগণের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া কর্মসংস্থান বাড়ানো, বিলাসবহুল জিনিসপত্র আমদানিতে নিরুৎসাহিত করা ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি সতর্কতার সঙ্গে প্রকল্প নেয়া হবে।

সরকার পক্ষের মতে, অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী আগামী অর্থবছরের জন্য যে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার ব্যয় পরিকল্পনা সাজিয়েছেন, সেখানেও তিনি ব্যয় করতে চান বেশি এবং আয়ের লক্ষ্য ধরেছেন কম। এজন্য বাজেটে অনুদান ব্যতীত ঘাটতি রেখেছেন ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। এবারের বাজেটে সরকারের মোট পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। আর উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। পরিচালন খাতের আবর্তক ব্যয়ের আকার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা।

এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গণমাধ্যমকে বলেছেন, অর্থনীতিকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনাই বাজেটে অগ্রাধিকারের বিষয়। পাশাপাশি নিত্যপণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং জীবনযাত্রার মান যেন সীমার মধ্যে থাকে, সেটিও নিশ্চিত করা হয়েছে। বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে প্রধান অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে। এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ছাড়াও ‘সবার জন্য খাদ্য’, পণ্য সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি অর্জন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। প্রতিটি গ্রামকে আধুনিকায়নকরণ, ডিজিটাল স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ফাস্ট ট্র্যাক অবকাঠামো প্রকল্প গুরুত্ব দেয়া, জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেয়ার মতো বিষয়কে অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে বাজেটে নাগরিকদের মতামত জানতে একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়। এই জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, বাজেটে বিবেচনার জন্য নাগরিকদের মধ্য থেকে যে ইস্যুগুলো উঠে আসে এর মধ্যে সবার আগে এসেছে শোভন কর্মসংস্থান (২১ দশমিক ৫৭ শতাংশ), শিক্ষা (১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ), সামাজিক সুরক্ষা (১২ দশমিক ৯ শতাংশ), অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ (৮ দশমিক ৩ শতাংশ), দক্ষতা উন্নয়ন (৭ দশমিক ৬০ শতাংশ), নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য (৬ দশমিক ২৮ শতাংশ), কৃষি (৬ দশমকি ২৬ শতাংশ), নারীর ক্ষমতায়ন (৬ দশমিক ১৯ শতাংশ), স্বাস্থ্য, শাসনব্যবস্থা, অবকাঠামো, শিক্ষা, আবাসন/পুনর্বাসন, জলবায়ু পরিবর্তন প্রভৃতি। পাশাপাশি এই জরিপে অংশগ্রহণকারী যুবারা যে অগ্রাধিকারের উল্লেখ করেছে এর মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান (২৬ দশমিক ১১ শতাংশ), শিক্ষা (২৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ), পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ (১৪ দশমিক ২৬ শতাংশ), এবং স্বাস্থ্যসেবা (৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ)।

বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াশিকা আয়শা খান। বাজেটে কর অবকাশ সুবিধা উঠিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, যেসব খাত দীর্ঘদিন কর অবকাশ সুবিধা পেয়ে আসছে, সেসব খাতে কর অব্যাহতির সুবিধা উঠিয়ে দেয়ার ব্যাপারটি খতিয়ে দেখছি। কয়েকটি খাত গত ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে কর অবকাশ সুবিধা পেয়ে আসছে। ফলে তারা যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং দেশের বাজার দখলে নিয়েছে। এ সুবিধা উঠিয়ে নিলে এসব খাতের উদ্যোক্তারা রপ্তানির প্রতি মনোযোগী হবেন। এতে বাড়তি সুবিধা হারাবে ঠিকই কিন্তু সেটি রপ্তানির মাধ্যমে পুষিয়ে নিতে পারবে। টেকসই অর্থনীতির স্বার্থে সেদিকে যাওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বাজেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা, যেমন- অর্থমন্ত্রী, অর্থ প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে অন্য কর্মকর্তারাও নতুন। এর সঙ্গে রয়েছে বৈশ্বিক বৈরিতা। এর পাশাপাশি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিও কঠিন এক সংকটকাল অতিক্রম করছে। সব মিলিয়ে ডলার বাজার, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, রিজার্ভ বাড়ানো, পণ্যমূল্য কমিয়ে জনগণকে স্বস্তিতে রাখার সংকট সমাধানের পথ দেখাতে হবে বাজেটে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। এর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নয়ন, রাজস্ব আদায় প্রভৃতি। এগুলোর উত্তরণ ঘটিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেটে মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রæতি দেয়া হয়েছে, সেগুলো পূরণের চেষ্টা রয়েছে বাজেটে। নিত্যপণ্য যাতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান যেন থাকে একটা সীমার মধ্যে, রয়েছে এমন চেষ্টাও।

টাইমলাইন: বাজেট ২০২৪-২৫

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App