×

প্রথম পাতা

৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ আজ

Icon

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি  টাকার বাজেট পেশ আজ

কাগজ প্রতিবেদক : ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত করেছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এটি হবে তার প্রথম বাজেট উপস্থাপন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা চতুর্থ মেয়াদের প্রথম বাজেট। প্রথম বাজেটে তিনি সর্বক্ষেত্রেই সাশ্রয়ের দিকে মনোযোগী হয়েছেন। বাজেটের আকার থেকে শুরু করে ঘাটতি, ভর্তুতি সব ক্ষেত্রেই সাশ্রয়ের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু উদার চিত্তে খেয়াল করেননি কর কীভাবে বাড়ছে। অর্থাৎ প্রায় সব ক্ষেত্রে কর বাড়ানো হচ্ছে। করের সঙ্গে ভ্যাট যেন ভাই ভাই অবস্থানে। অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তার প্রথম বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ১০ বছর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছেন। নতুন অর্থবছরের বাজেটের আকার দাঁড়াচ্ছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যয়ের অর্থ জোগাতে সরকারের রাজস্ব আয় থেকে আসবে ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এ ঘাটতি বাংলাদেশের মোট জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী তার নতুন বাজেটের ঘাটতি বিদেশি অর্থায়ন ও অভ্যন্তরীণ ঋণের মাধ্যমে পূরণ করার পরিকল্পনা করেছেন। দুই লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পূরণে অনুদান পাওয়া যাবে ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ফলে প্রকৃত ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এ ঘাটতি পূরণে নীট বিদেশি ঋণ পাওয়া যাবে ৯০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। বাকি ঘাটতি থাকবে এক লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। এ ঘাটতি ব্যাংক ব্যবস্থাসহ অভ্যন্তরীণ ঋণের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেয়া হবে এক লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। পরে তা কমিয়ে সাড়ে ৬ শতাংশ করা হয়। যদিও উন্নয়ন সহযোগীরা এই

প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশের কাছাকাছি প্রক্ষেপণ করেছে। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা বলবেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমানে দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এ মূল্যস্ফীতি।

‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। এদিন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এ বাজেট উপস্থাপন করা হবে। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৩ তম বাজেট।

আয় বাড়াতে রাজস্ব খাতে বড় ধরনের সংস্কার করা হবে আগামী অর্থবছরে। এ লক্ষ্যে আজ ৬ জুন থেকেই কার্যকর করা হবে নতুন কাস্টমস আইন-২০২৩। সেই সঙ্গে মেইড ইন বাংলাদেশের নীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়া হবে। অর্থাৎ পণ্য উৎপাদনে দেশকে স্বয়ং সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে দেশে উৎপাদিত পণ্যকে সংরক্ষণ করা হবে। সেইসঙ্গে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার উপযোগী হিসেবে দেশকে গড়ে তুলতে সব ধরনের প্রণোদনা ও কর ছাড় তুলে নেয়ার ঘোষণা দেবেন অর্থমন্ত্রী।  

প্রস্তাবিত সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে সরকারের পরিচালন ব্যয় হবে ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় হবে ২ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা। আবার পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে বড় ব্যয়ই যাচ্ছে ঘাটতি পূরণে নেয়া ঋণের সুদ পরিশোধে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ৯৩ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে বেশি ব্যয় হবে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাধ্যমে। এডিপির মাধ্যমে ব্যয় হবে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।

এবারের বাজেট বাস্তবায়নেও সরকারের প্রধান আয়ের উৎস রাজস্ব আয়। নতুন অর্থবছরে মোট রাজস্ব প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যা ছিল ৫ লাখ কোটি টাকা। রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ শতাংশ। নতুন রাজস্ব প্রাপ্তির মধ্যে বরাবরের মতো এবারো বেশির ভাগ আয় করার দায়িত্বটি থাকবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এনবিআরকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এবার চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আয় করতে হবে এনবিআরকে। নন-এনবিআর থেকে আসবে আরো ১৫ হাজার কোটি টাকা। আর কর ছাড়া প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App