×

প্রথম পাতা

উভয়পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ জরুরি

শমশের মবিন চৌধুরী সাবেক পররাষ্ট্র সচিব

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 উভয়পক্ষের সঙ্গেই  যোগাযোগ জরুরি

কাগজ প্রতিবেদক : ভারতে আবার জোট সরকার ফিরে এলো। এবার জোট সরকার অন্যরকম। শুধু সরকার নয়, বিরোধী দলও জোটভুক্ত। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে দেশটির সরকার ও বিরোধী উভয়পক্ষের সঙ্গেই নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে। এতে সফলতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনে ‘ট্র্যাক টু ডিপ্লোমেসি’র শরণাপন্ন হতে হবে। বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক শমসের মবিন চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার ভোরের কাগজের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জোট নিয়ে অনেক কথা থাকলেও এবারের জোট অন্যবারের মত নয়। এবার ভোটের আগেই বিজেপি ‘এনডিএ’ এবং বিরোধীরা ‘ইন্ডিয়া’ জোট গঠন করে নির্বাচনে নেমেছে। এর ফলে বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ জোট প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যা পাওয়ায় তারাই সরকার গঠন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধীরা গতবারের চেয়ে বেশি আসন পাওয়ায় লোকসভায় শক্তিশালী একটি বিরোধী দল পাবে ভারত। সব মিলিয়ে জোট নিয়ে অনেক কথা থাকলেও এবারের জোটটি সম্ভবত স্থিতিশীল হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিরোধীদের আগের থেকে অনেক ভালো ফল বিজেপিকে কিছুটা চিন্তায় রাখবে। একই সঙ্গে যে বিজেপি গুজরাটের পর গত ১০ বছর ধরে উত্তরপ্রদেশকে দ্বিতীয় বাড়ি বলে চিহ্নিত করেছিল, সেই উত্তরপ্রদেশের বহু জায়গায় মানুষ বিজেপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এই বিষয়টিও তাদের চিন্তায় রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন এমন ফলাফল হয়েছে- এ প্রশ্নের জবাবে শমসের মবিন বলেন, অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরলে সংবিধান বদলে ফেলত। এজন্য ভোটাররা মোদিকেই জিতিয়েছেন কিন্তু দুই তৃতীয়াংশ আসন দেননি।

আপনি বলছেন ভারতে দীর্ঘদিন পর আবার জোট সরকার ফিরছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের নতুন সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিজেপি বা কংগ্রেস যে-ই ক্ষমতায় আসুক বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাদের নীতির পরিবর্তন ঘটে না। তবু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসায় ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে দুই দেশ মিলে কী ভূমিকা পালন করে তা দেখতে হবে। তিনি বলেন, ভারতে শুধু নতুন সরকার নয়, সেখানে বিরোধী দলের সঙ্গেও বাংলাদেশের নিবিড় যোগাযোগ রাখতে হবে। কারণ দেশটিতে এবার শক্তিশালী একটি বিরোধী দলের আবির্ভাব ঘটেছে। কাজেই তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া ভারতের কোনো রাজনৈতিক দলই বাংলাদেশ বিরোধী নয়। তাই পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে খুব একটা পরিবর্তন হবে না।

বাংলাদেশ সরকারকে উদ্দেশ করে শমসের মবিন বলেন, এই সরকারের মেয়াদেই গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। ২০২৬ সালে এই চুক্তির পুনর্নবীকরণ হবে। তিস্তা চুক্তি, অভিন্ন নদনদীর পানি ভাগাভাগি, সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলো নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে শেষ করতে হবে। প্রয়োজনে ‘ট্র্যাক টু ডিপ্লোমেসি’ ব্যবহার করতে হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App