×

প্রথম পাতা

রাহুল গান্ধীর মন্তব্য

বুথফেরত জরিপ ‘মোদি মিডিয়া পোল’

Icon

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ ডেস্ক : ভারতে সাত দফার লোকসভা নির্বাচন শেষ। এখন অপেক্ষা শুধু ফলাফলের। তৃতীয়বারের জন্য কি নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএ জোট সরকার গঠন করবে, নাকি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ সব হিসাব উল্টে দেবে? এ নিয়ে ভারতজুড়ে চলছে জল্পনাকল্পনা। প্রথম সারির সবকটি বুথফেরত জরিপ (এক্সিট পোল) আভাস দিয়েছে যে, নরেন্দ্র মোদির দল ক্ষমতাসীন বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবার জয় পেতে যাচ্ছে। বিজেপি গত লোকসভা নির্বাচনের (২০১৯ সাল) চেয়েও এবার ভালো ফল করতে যাচ্ছে। ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ পেতে যাচ্ছে ৪০০ আসন- এমনই আভাস মিলছে বুথফেরত জরিপের (এক্সিট পোল) ফলাফলগুলোতে। ভারতের প্রথম সারির নিউজ চ্যানেল-সংস্থার এসব বুথফেরত জরিপ থেকে এটা স্পষ্ট যে, তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। ইন্ডিয়া জোট কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসছে না। আজতক ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর দিয়েছে। তবে বুথফেরত জরিপের এই ফলকে উড়িয়ে দিয়েছেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, এটি ‘মোদি মিডিয়া পোল’।

এবারের বুথফেরত জরিপের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একাধিক নিউজ চ্যানেল, সংবাদ সংস্থার এসব জরিপ এনডিএ জোটের আবার ক্ষমতায় ফেরার ইঙ্গিত দিলেও বিজেপি ও তার মিত্ররা ৪০০ এর বেশি আসন পাবে এমন ইঙ্গিত কেউই দেয়নি। তবে ম্যাজিক সংখ্যা ২৭২ ক্রস করে ৩০০ এর বেশি আসন এনডিএ এবার পাবে তা নিয়ে কার্যত একমত সবকটি নিউজ চ্যানেল ও সংস্থা।

ভারতীয় নিউজ চ্যানেল ও সংস্থাগুলোর প্রকাশিত কমপক্ষে সাতটি বুথফেরত জরিপ এই আভাস দিয়েছে যে, বিজেপি ও তার মিত্ররা লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৩৫০ থেকে ৪০০টির মতো আসন পেতে পারে। তবে এসব বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস মানতে নারাজ বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট।

ভারতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ইন্ডিয়া টুডে-এক্সিস মাই ইন্ডিয়া বুথফেরত জরিপের আভাস-৩৬১ থেকে ৪০১টি আসন পেতে পারে এনডিএ জোট। আর ১৩১ থেকে ১৬৬টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের। এবিপি-সিভোটার বুথফেরত জরিপের ফলাফল বলছে, এনডিএ জোট পেতে পারে ৩৫৩ থেকে ৩৮৩টি আসন। আর ইন্ডিয়া জোটের পাওয়ার সম্ভাবনা আছে ১৫২ থেকে ১৮২টি আসন। টুডেজ চাণক্যর এক্সিট পোলের ভবিষ্যদ্বাণী হলো এনডিএ জোট ৩৮৫ থেকে ৪০০ এর মতো আসন পেতে পারে। কংগ্রেস পেতে পারে অন্তত ৫০টি আসন। ইন্ডিয়া জোটের পাওয়ার সম্ভাবনা আছে সাকুল্যে ১০৭টি আসন। আর অন্যরা ৩৬টি আসন পেতে পারে। পোলস্টারের বুথফেরত জরিপ পূর্বাভাস দিয়েছে যে, এনডিএ জোট পাবে ৩৮৫ থেকে ৪১৫টি আসন। আর ইন্ডিয়া জোট পাবে ৯৬ থেকে ১১৮টি আসন। অন্যদিকে, টাইমস নাউ-ইটিজির বুথফেরত জরিপ আভাস দিয়েছে যে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ পেতে পরে ৩৫৮টি আসন আর ইন্ডিয়া জোট পেতে পারে ১৩২টি আসন।

সুতরাং এবিপি-সিভোটার, টুডেজ চাণক্য, ইন্ডিয়া টুডে-এক্সিস মাই ইন্ডিয়াসহ অধিকাংশ বুথফেরত জরিপের আভাস থেকে এটাই স্পষ্ট যে, এনডিএ ৩৫০টিরও বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে। আর ভোট শতাংশের হিসাবে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ ৪৫ শতাংশের কাছাকাছি এবং ইন্ডিয়া জোট ৪০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পেতে পারে। আর অন্যরা পেতে পারে ১৫ শতাংশ ভোট।

এটি মোদি মিডিয়া পোল- রাহুল গান্ধী : এদিকে বুথফেরত জরিপ নিয়ে মুখ খুললেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ভারতের সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি জানিয়েছেন, এর নাম এক্সিট পোল নয়। এর নাম হলো মোদি মিডিয়া পোল। এটা মোদিজির পোল। এটা তার ফ্যান্টাসি পোল। চলে যাওয়ার সময় রাহুলকে প্রশ্ন করা হয়, কত পেতে পারেন আপনারা? এই প্রশ্ন শুনেই ঘুরে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ২৯৫। এ কথা বলেই চলে যান রাহুল গান্ধী। এর বেশি আর কিছু তিনি বলেননি। এর আগে ‘ইন্ডিয়া’ জোট ২৯৫টির বেশি আসনে জিতবে বলে দাবি করেন কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। গত শনিবার শেষ ধাপের ভোট গ্রহণ শেষে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা বৈঠকে বসেছিলেন। সেই বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন কংগ্রেস সভাপতি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইন্ডিয়া জোট অন্তত ২৯৫ আসন পাবে। এর বেশিও হতে পারে; কিন্তু কম হবে না।’

বুথফেরত জরিপ ভুয়া : মমতা

এদিকে বুথফেরত জরিপকে ‘ফেক’ বা ভুয়া বলে অভিহিত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কর্মীদের শক্ত থাকার বার্তা দিয়ে ‘টিভি নাইন’ চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘আমাদের রাজ্য নিয়ে যেটা দেখাচ্ছে, তাকে আমি বিশ্বাস করি না, বিশ্বাস করি না, বিশ্বাস করি না। এটা একেবারে ফেক।’

লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বড় দল হতে চলেছে বিজেপি-সপ্তম দফার ভোট শেষে একাধিক বুথফেরত সমীক্ষায় এমনই তথ্য উঠে আসে। তবে তাকে ‘ফেক’ বলে অভিহিত করলেন মমতা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘সংবাদমাধ্যম কী করে বলে দিচ্ছে, ওই আসনে ও জিতবে, অমুক আসনে কে জিতবে... কত টাকার বিনিময়ে? আমি এই সংবাদমাধ্যমের হিসাব মানি না। কর্মীদের বলব শক্ত থাকতে। গণনা ভালো করে করতে, যা দেখিয়েছে সংবাদমাধ্যম, তার দ্বিগুণ পাব। প্রত্যেকটা আসন আমরা জিতব।’ তবে রাজ্যে তৃণমূল ঠিক কতগুলো আসন পাবে, তা নিয়ে অবশ্য কোনো সংখ্যা জানাননি মমতা।

‘এবার ৪০০ পার’- এই সেøাগান দিয়ে ভোটের মাঠে প্রচারণা শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যদি বুথফেরত জরিপের আভাস সঠিক হয় তাহলে এনডিএ এবার ৪০০ বা তার কাছাকাছি সংখ্যক আসন পাবে- এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস সঠিক হলে ব্যাপারটি এমন দাঁড়াবে যে ব্যাপক বৈষম্য, রেকর্ড বেকারত্ব, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির মতো বিষয়গুলো নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির ভোট কমাতে পারেনি বরং তা বেড়েছে। স্বাধীন ভারতে এর আগে আর কোনো প্রধানমন্ত্রীই টানা তিনবারের প্রতিবারই আসন সংখ্যা বাড়িয়ে লোকসভা নির্বাচনে জিততে পারেননি। ফলে মোদির জন্য সম্ভাব্য এই জয় এক বিরল ইতিহাসের জন্ম দিতে যাচ্ছে।

তবে বুথফেরত জরিপের আভাস অনুযায়ী সত্যি সত্যি তা হবে নাকি অন্য কিছু ঘটবে, তার জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে আগামী ৪ জুন ভোটের ফলাফলের দিকে। সেদিনই পরিষ্কার হয়ে যাবে আগামী ৫ বছরের জন্য ভারতের শাসনভার কাদের হাতে ন্যস্ত হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App