×

প্রথম পাতা

সিলেটে বন্যা

পানি কমলেও দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যার্তদের

Icon

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

খালেদ আহমদ, সিলেট থেকে : সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হয়েছে। প্লাবিত সাত উপজেলায় পানি কমার পাশাপাশি নগরীর পানিও কমতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সিলেট নগরীর সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে। এদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যার পানি নামার পর আক্রান্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। সেইসঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বাড়ছে। বন্যাদুর্গত এলাকার রাস্তাঘাটও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন চলছে বন্যার্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই। সব মিলিয়ে খুব সহসাই মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া সিলেট মহানগরের জলাবদ্ধ মানুষের মাঝেও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। মহানগরের শাহাজালাল উপশহর, তের রতন, সোবহানীঘাট, মেন্দিবাগ, কাজিরবাজার এলাকার বাসিন্দারা এমনটি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, পানি নামার পর আরো বেশি সমস্যায় পড়ে গেছি। না আছে খাওয়ার পানি, না আছে গোসলের পানি। বিশুদ্ধ পানির অভাবে রান্নাও করতে পারছি না ঠিকমতো। সিটি করপোরেশন মাঝেমধ্যে একটু পানি ছাড়ে। তখন খাওয়ার জন্য কিছুটা পানি নিয়ে আসি। চার দিন ধরে এমনটি চলছে। এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, অনেক এলাকায় সিসিকের পানির লাইন ডুবে থাকায় পানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে শনিবার থেকে আমরা জলাবদ্ধ এলাকাগুলোর মানুষের মাঝে শুকনা খাবারের পাশাপাশি দুই লিটার করে পানি সরবরাহ শুরু করেছি।

এদিকে গতকাল রবিবার সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমা থেকে ১ সে.মি. নিচে নেমেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গতকাল দুপুর ১২টায় বিপৎসীমার ১০.৮০ থেকে ১ সে.মি. কমে ১০.৭৯ নিচে নেমে এসেছে পানি। টানাবৃষ্টি না হলে পানি আরো কমবে বলে জানিয়েছে পাউবো।

অন্যদিকে, সিলেট নগরীর কয়েকটি ওয়ার্ডে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়ায় সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে বিভিন্নভাবে কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কর্তৃপক্ষ। সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর জানান, সিটি করপোরেশন এলাকার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে বন্যা দেখা দেয়। বন্যা হওয়ার পর থেকে সিসিক মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশনায় নানাভাবে কর্মতৎপরতা চালানো হয়। ভারপ্রাপ্ত মেয়র মখলিছুর রহমান কামরানসহ কর্মকর্তারা বন্যাকবলিত এলাকায় পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর রয়েছেন।

জেলার বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলার রাস্তার দুইপাশে এখনো পানি। ঘর থেকে পানি নেমে গেলেও এসব এলাকায় ক্ষতির চিহ্নগুলো যেন রেখে গেছে। বিছানা, আসবাবপত্র, ধান, চাল শুকিয়ে জীবন সংগ্রামে ফিরতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চলছে আক্রান্ত মানুষের। তাই অনেকে সড়ক-মহাসড়কেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র শুকাচ্ছেন। সড়কই এখন তাদের একমাত্র ভরসা। এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোবারক হোসেন বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত এলাকায় যথেষ্ট পরিমাণ খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিতরণ অব্যাহত আছে। আশা করি, কোনো মানুষ দুর্ভোগে থাকবে না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App