×

প্রথম পাতা

সিলেটে বন্যা

পানি নামায় ভেসে উঠল ক্ষত

Icon

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 পানি নামায়  ভেসে উঠল ক্ষত

সিলেট অফিস : সিলেটের কোথাও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, আবার কোথাও অপরিবর্তিত আছে। তবে গতকাল শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর চারটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে বলে আশা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা। এদিকে গ্রামাঞ্চলের পানি কমতে শুরু করায় ভেসে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন।

গতকাল শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ফলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। জেলার গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় পানি অনেকটা কমেছে। অন্যদিকে সিলেট সদর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। এছাড়া শুক্রবার থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টি হয়নি। তবে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত আছে। ফলে নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত না হলেও কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ডসহ সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৫৯টি ইউনিয়নের ৬ লাখ ৯ হাজার ৭৩৩ জন মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন। জেলায় ৫৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন ৩ হাজার ৩৪২ জন। জেলার ৮টি উপজেলার মোট ৭৮১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, উজান থেকে ভাটির দিকে পানি নামতে শুরু করায় সিলেট নগর, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার নি¤œাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারপরও সরকারি ও বেসরকারিভাবে শুকনা খাবার, রান্না করা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন : গ্রামাঞ্চলের পানি কমতে শুরু করায় ভেসে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। ঢলের পানির স্রোতের তোড়ে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, ব্রিজ-কালভার্ট ভেঙে বিশালাকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও ঢালাই রাস্তার পিচ ওঠে গেছে। সেই সঙ্গে সড়কের পাশের সারি সারি গাছ শেকড় বেরিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। বিশেষ করে সিলেট-সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক, রাধারনগর-জাফলং সড়ক, হাতিরপাড়া-মানিকগঞ্জ সড়কের সবকটি ভেঙে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মানুষ পায়ে হেঁটে ও কোথাও কোথাও ইঞ্জিন নৌকায় করে চলাচল করছেন। এছাড়া কৃষিতেও বড় ধাক্কা এসেছে এই বন্যায়।

উজান থেকে থেমে আসা ঢলের কারণে মঙ্গলবার থেকে সিলেটে পানি বাড়তে শুরু করে। বুধবার এক রাতেই তলিয়ে যায় জকিগঞ্জ, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাট এই ৫ উপজেলা। বৃহস্পতিবার রাতে বিয়ানীবাজার এবং জকিগঞ্জ উপজেলায়ও পানি প্লাবিত হয়ে পড়ে। শুক্রবার সকাল থেকে ডুবতে শুরু করে নগরের অনেক এলাকা। নগরের অনন্ত ১৫টি এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে।

বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর একটি গোয়াইনঘাট। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের লাগোয় এ উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ তলিয়া যায় পানিতে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে পানি কমতে শুরু করে। ইতোমধ্যে গোয়াইনঘাটে তিনটি নদনদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হচ্ছে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল গোয়াইনঘাট-জাফলং ও সারি-গোয়াইনঘাট সড়ক। এই দুই সড়কের পানি নেমেছে। তবে ঢল একেবারে চৌচির করে দিয়েছে পুরো সড়ক। অনেক জায়গায় সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সব গ্রামীণ সড়কই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। পানি পুরো নামলে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যাবে। তবে যেসব সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছি।

সীমান্তবর্তী আরেক উপজেলা কানাইঘাটের পানিও শুক্রবার থেকে কমতে শুরু করে। যেসব এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে সেসব এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়ছে কাঁচা ঘরবাড়ি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App