×

প্রথম পাতা

অনিশ্চয়তায় ৩১ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর ভাগ্য

Icon

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অনিশ্চয়তায় ৩১ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর ভাগ্য

কাগজ প্রতিবেদক : মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হলো আবারো। ঘোষণা অনুযায়ী, গতকাল শনিবার থেকে কোনো বাংলাদেশি কর্মী শ্রমিক ভিসায় মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারেননি। শুধু বাংলাদেশই নয়; আরো ১৪ দেশের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর করছে মালয়েশিয়া। এদিকে দেশটিতে যাওয়ার জন্য সব প্রক্রিয়া শেষ করে অপেক্ষায় রয়েছেন ৩১ হাজারের কিছু বেশি কর্মী। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান জানিয়েছেন, নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যারা ভিসা পেয়েও ঢুকতে পারেননি তারা যেন দ্রুত দেশটিতে পৌঁছাতে পারেন।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে দেশটিতে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন কর্মী গেছেন। এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৭২ হাজারের বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় গেছেন। কিন্তু মালয়েশিয়া সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল শনিবার থেকে বন্ধ হয়েছে দেশটির শ্রমবাজার। এই ঘোষণার ফলে প্রায় ৩১ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশ থেকে কোনো কর্মীকে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। গত জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিপরিষদ এ সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত সমঝোতা চুক্তি পুনরায় করার অনুমোদন দেয়া হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, নেপাল, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে কর্মী যান মালয়েশিয়ায়।

বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, গত ২১ মে পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ৫ লাখ ২৩ হাজার ৮৩৪ জন কর্মীকে মালয়েশিয়া যাওয়ার অনুমোদন দেয়। ২১ মের পর আর অনুমোদন দেয়ার কথা না থাকলেও, মন্ত্রণালয় আরো ১ হাজার ১১২ জনকে অনুমোদন দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫ লাখ ২৪ হাজার ৯৪৬ জন বাংলাদেশি মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় গেছেন ৪ লাখ ৯১ হাজার ৭৪৫ জন। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বাংলাদেশ থেকে মাত্র ১ হাজার ৫০০ জন ১২টি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় গেছেন। সে হিসাব অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, ৩১ হাজার ৭০১ জনের মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ হচ্ছে না। তবে প্রকৃতপক্ষে কতজন কর্মী মালয়েশিয়া যেতে পারেননি, তার সঠিক হিসাবও কেউ জানেন না। রিক্রুটিং এজেন্সিদের সংগঠন বায়রার সভাপতি মো. আবুল বাশার জানান, এ সংখ্যা হয়তো ৪-৫ হাজার হতে পারে। প্রকৃত সংখ্যা জানতে আজ রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

টাকা দেয়ার পরও কর্মীরা কেন মালয়েশিয়া যেতে পারেনি তা তদন্ত করে দেখবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গতকাল শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী পুরো পরিস্থিতির জন্য রিক্রুটিং এজেন্সির গাফিলতিকে দুষেছেন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের অনুমোদিত কোটা অনুযায়ী, কর্মী পাঠাতে আমরা বায়রার সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের সঙ্গে বারবার বসে আমরা আলোচনা করে কর্মীর তালিকা চেয়েছি। মে মাসের ১৫ তারিখে আমি মিটিং করে তাদের বলেছি ফাইনাল লিস্ট করার জন্য। ভিসা পাওয়ার পর কতজন যাওয়া বাকি, কতজনের ভিসা আসা বাকি, এগুলো আমরা ফাইনাল তালিকা দিতে বলেছি। কিন্তু তারা সেগুলো তৈরি করেনি এবং আমাদের দেয়নি। তারা শেষ সময়ে আমাদের জানায় কর্মীরা রেডি আছে। কিন্তু ফ্লাইট পাওয়া যাচ্ছে না। আমি তখন বিমানমন্ত্রী, বিমানের এমডি, সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এরপর ২২-২৩টি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর বাইরে শিডিউল ফ্লাইট তো আছেই। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এত ফ্লাইট দেয়ার পরও কর্মী যাওয়া শেষ হয়নি। এই ভোগান্তির সৃষ্টি যাদের কারণে হয়েছে, আমরা তদন্ত কমিটি করব। তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনা হবে। যারা টাকা দিয়েছেন, কিন্তু যেতে পারেনি, তারা আমাদের কাছে অভিযোগ জানালে, দায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে বন্ধ হয় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, আট বছর পর তা চালু হয়েছিল ২০১৬ সালে। এরপর দুর্নীতির অভিযোগে ফের ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সেই বাজার খুলতে সময় লেগেছিল তিন বছর। ২০২২ সালের আগস্টে দেশটিতে আবারো বাংলাদেশি কর্মী যাওয়া শুরু হয়। মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ জুন থেকে বাংলাদেশসহ বিদেশিকর্মীদের দেশটিতে প্রবেশ বন্ধ থাকবে। নতুন নিয়মে কর্মী পাঠাতে হলে আবারো সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে।

এদিকে ভিসা পাওয়ার পরও যেসব বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় যেতে পারছেন না তাদের যেন দ্রুত পাঠানো যায় সেজন্য চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান। তিনি জানান, পাঁচ

লাখ ২৭ হাজারের বেশি ডিমান্ড লেটার সত্যায়ন করেছে হাইকমিশন। এ পর্যন্ত চার লাখ ৭২ হাজারের বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় এসেছেন। কমিশন নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তারা যেন প্রতিশ্রæত কাজে যোগদান করতে পারেন। বিভিন্ন জটিলতায় হয়তো তারা আসতে পারছেন না। কিন্তু হাইকমিশনের প্রচেষ্টা চলমান বলে জানান তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App