×

প্রথম পাতা

সিলেটে ভয়াবহ বন্যা, সাত উপজেলায় অবনতি

Icon

খালেদ আহমদ, সিলেট থেকে

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটে ভয়াবহ বন্যা, সাত উপজেলায় অবনতি
  •  পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি, নদনদী ফুঁসছে 

টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। নতুন করে জেলার আরো দুটি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়ায় বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যাও। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ৭ উপজেলায় ৫ লাখ ৩৩ হাজার ২০২ জন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। আর আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছে ৪ হাজার ৮০২ জন। জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৭টি বন্যাকবলিত।

এরমধ্যে পাঁচটির অবস্থা ভয়াবহ। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ভারতের মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি এলাকায় টানা ভারি বৃষ্টিপাত হয়। ফলে সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে বন্যা দেখা দেয়। সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, লোভা, ধলাই ও পিয়াইন নদীর বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে উপচেপড়ে ওই পাঁচ উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার থেকে কুশিয়ারা নদীর পানি ঢুকতে থাকে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন স্থান দিয়ে। ফলে এ দুই উপজেলাও বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫০ জন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৩ ইউনিয়নের ৯৩ হাজার জন, কানাইঘাট উপজেলার ৯ ইউনিয়নের ৮০ হাজার ৬০০ জন, জৈন্তাপুরের ৩ ইউনিয়নের ৬৫ হাজার জন, জকিগঞ্জের ৮ ইউনিয়নের ৩৯ হাজার ৮৫২ জন, বিয়ানীবাজারের ৫ ইউনিয়নের ৫ হাজার ৫০০ জন ও গোলাপগঞ্জের এক ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫০০ জন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এ পর্যন্ত জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৭টি বন্যাকবলিত হলেও সবকটি উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলার ১৩ উপজেলায় মোট ৫৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ৪ হাজার ৮০২ জন। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জকিগঞ্জের ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৯৫ জন, জৈন্তাপুরের ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬৭৫ জন, গোয়াইনঘাটে ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২৩৫৬ জন, কানাইঘাটে ৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪৬৬ জন, কোম্পানীগঞ্জে ৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৩৫ জন, বিয়ানীবাজারের ৬৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬০ জন, গোলাপগঞ্জের ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫ জন আশ্রয় নেন। বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা হ্রাস বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App