×

প্রথম পাতা

টাইগারদের প্রাথমিক ভাবনায় সুপার এইট

Icon

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

টাইগারদের প্রাথমিক ভাবনায় সুপার এইট

কাগজ প্রতিবেদক : আগামীকাল সকাল সাড়ে ৬টায় কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ দিয়ে আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৯ম আসরের পর্দা উঠছে। অপর ম্যাচে রাত সাড়ে ৮টায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোকাবিলা করবে পাপুয়া নিউগিনি। এবারের বিশ্বকাপ বিগত বছরগুলোর চেয়ে একটু ভিন্ন হবে, কেননা এবারের বিশ্বকাপে মোট ২০টি দল অংশগ্রহণ করছে। এই ২০ দলকে ৪ গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছে। ৪ গ্রুপ থেকে ৮ দল নিয়ে ১৯ জুন থেকে শুরু হবে সুপার এইট পর্ব। এবার অনুষ্ঠিত হবে ৫৫টি ম্যাচ। এই আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২৯ জুন। এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে রয়েছে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৫৫টি ম্যাচ দুই দেশের ৯টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৩টি ভেন্যু এবং বাকি ৬টি ওয়েস্ট ইন্ডিজে। এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ রয়েছে ‘ডি’ গ্রুপে। গ্রুপের দলগুলো হচ্ছে- দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, নেদারল্যান্ডস ও নেপাল।

ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ নিয়ে সব জায়গায় হচ্ছে আলোচনা। বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপে কেমন করবে এ নিয়ে আলোচনায় মুখর সবাই। ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ ভালো করেছে অনেক। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার পর ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেলেছে টাইগাররা, যা বেশ বড় অর্জনই। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাফল্যটা একদম তলানিতে। বাংলাদেশ ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে ২০২২ সাল পর্যন্ত হওয়া আটটি বিশ্বকাপের সবগুলোতে খেলেছে। আর এ আটটি বিশ্বকাপে টাইগাররা খেলেছে মোট ৩৮টি ম্যাচ। তার মধ্যে জয় মাত্র ৯টিতে, হার ২৮ ম্যাচে। সুপার টুয়েলভে জয় পেয়েছে মাত্র ৩টি ম্যাচে। ২০১৬ সালে বৃষ্টির কারণে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যায়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই পারফরম্যান্স যা বাংলাদেশের

জন্য মোটেও সুখকর না। তবে অবিশ্বাস্যভাবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যাত্রাটা হয়েছিল জয় দিয়ে। এবার বিশ্বকাপে টাইগাররা ভালো করবে বলে সমর্থকদের প্রত্যাশা। বিশ্বকাপের উদ্দেশে দেশ ত্যাগের আগে ঘরের মাঠে জিম্ববুয়ের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে হাথুরুর শিষ্যরা। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২-১ ম্যাচে সিরিজ হারলেও হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে মার্কিনিদের হারিয়েছে ১০ উইকেটে। মোস্তাফিজ একাই নিয়েছে ৬ উইকেট। মোদ্দা কথা সিরিজ হারলেও লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের প্রস্তুতিটা হয়েছে দারুণ। এবার বিশ্বকাপে দলের অন্যতম পেসার তানজিদ হাসান সাকিব বলেছেন, আমাদের দল নিয়ে আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী। আমাদের দল মানসিকভাবে দৃঢ় আছে, বন্ডিংও খুবই শক্তিশালী। আমরা চাইলে যে কোনো দলকে হারাতে পারি। আমাদের ১১ জন যদি মাঠে সেরাটা দিতে পারে, তাহলে কোনো দল আমাদের সামনে ব্যাপার না ইনশাআল্লাহ। আমরা যে কোনো দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখি।’

এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কা হারিয়ে শুভসূচনা করতে পারলে এবং নেপাল ও নেদারল্যান্ডসকে হারাতে পারলে ‘ডি’ গ্রুপ থেকে সুপার এইটে খেলার সুযোগ পাবে। অধিনায়ক হওয়ার কারণে চাপ কিংবা দায়িত্ব বেড়ে গেছে, এমনভাবে চিন্তা করতে চান না শান্ত বরং এতে তার বড় একটি স্বপ্নই পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন টাইগার অধিনায়ক।

দলনায়ক হিসেবে শান্তর প্রথম বিশ্বকাপ মিশন এটি, যা একজন ক্রিকেট হিসেবে তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয়, প্রত্যেকটা ক্রিকেটারেরই এমন স্বপ্ন থাকে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার। তারপর যদি আবার বিশ্বকাপের মতো একটা আসরে এ ধরনের সুযোগ আসে তাহলে তো সেটি গর্বের বিষয়। অনেক দারুণ একটা মুহূর্ত আমার কাছে মনে হয়। পাশাপাশি আমার কাছে মনে হয়, এই সময়টাকে উপভোগ করতে চাই। টিমের হয়ে অবদান রাখতে চাই। যে দায়িত্ব আছে, সেটি ঠিকমতো পালন করতে চাই।’

অধিনায়ক হওয়ার কারণে কোনো ধরনের চাপ অনুভব করেন কিনা, এই প্রশ্নে শান্ত বলেন, ‘অধিনায়ক হওয়ায় অনেক বেশি দায়িত্ব বেড়ে গেছে এভাবেও চিন্তা করতে চাই না। প্রত্যেকটা সময় উপভোগ করতে চাই। প্রত্যেক দিন দলকে যেন কিছু একটা দিতে পারি এটাই মূল লক্ষ্য থাকবে।’

নিজের নবম বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃক আয়োজিত ‘দ্য গ্রিন রেড স্টোরি’তে কথা বলেছিলেন সাকিব আল হাসান। যেখানে আরো একটি বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছার কথা জানান এই অলরাউন্ডার। সাকিব ওই ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘প্রথম বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত যত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হলো, সবগুলোতেই অংশ নিতে পেরেছি। আমার জন্য এটা গর্বের ও আনন্দের। একই সময়ে যেহেতু দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি, অনেক ভালো লাগার একটা জায়গা আছে। আমি এবং রোহিত শর্মাই হয়তো মাত্র দুজন খেলোয়াড়, যারা সবগুলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছে। আশা করব আরো একটি বিশ্বকাপ যেন খেলতে পারি। তার আগে এই বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সটা যেন ভালো থাকে। বাংলাদেশ যেন অন্যান্য যে কোনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চেয়ে ভালো ফল করে আসতে পারে।’

ওই ভিডিওতে একটি প্রশ্ন ছিল সাকিবের প্রতি। ‘অনেকেই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র সাকিবের ‘সেকেন্ড হোম’ (দ্বিতীয় ঘর)। ঘরের সুবিধা কি পাবে দল?’ সাকিব হাসতে হাসতে এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘আমার সেকেন্ড হোম ঠিক আছে। তবে হোম অ্যাডভান্টেজ পাবে কিনা বলাটা মুশকিল। কিন্তু আমার মনে হয় পাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং আমেরিকা, এ দুটো জায়গাতেই আমরা, এর আগে ফ্লোরিডায় যখন খেলেছি বাংলাদেশ ভালো করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে আমরা সব সময়ই সুবিধা পাই। কারণ পিচগুলো অনেকটা আমাদের মতোই হয়ে থাকে। তাই আমি আশা করছি দুই জায়গাতেই আমরা সুবিধা পাব।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App