×

প্রথম পাতা

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ কোথায়?

Icon

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজ নামে, স্ত্রী-সন্তানসহ আত্মীয়-স্বজনের নামে দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলাসহ প্রতিদিন তার বিরুদ্ধে নতুন নতুন নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসছে। ইতোমধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্ত্রী-সন্তানসহ তাকে তলব করেছে দুদক। কিন্তু এরই মধ্যে তিনি সপরিবারে দেশ ছেড়েছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। কেউ বলছেন- গত ৪ মে তিনি দুবাই হয়ে সিঙ্গাপুর চলে গেছেন। আবার কেউ বলছেন- তিনি ১২ মে দেশত্যাগ করেছেন। তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। অন্য একটি সূত্র বলছে- বেনজির দেশেই আত্মগোপনে আছেন। এ অবস্থায় তিনি কখন ও কীভাবে দেশ ছেড়েছেন তা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে যদি তিনি দেশেই থাকেন, তবে তিনি কোথায় আছেন। পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তার দেশত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন রকম তথ্য পাওয়া গেলেও সঠিক অবস্থান কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি।

বেনজীর আহমেদের সপরিবারে দেশত্যাগের বিষয়ে একটি সূত্র বলছে- হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে গত ৪ মে তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে দেশ ছাড়েন বেনজীর। সূত্রটি আরো জানায়, স্ত্রী জীশান মির্জার চিকিৎসাজনিত কারণে তারা সিঙ্গাপুর অবস্থান করছেন। ওই সূত্র বলেছে, স্ত্রীর চিকিৎসার জন্যই তিনি দেশের বাইরে যাচ্ছেন বলে তার স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষীদের বলে গেছেন। তবে প্রভাবশালী মহলের একটি অংশকে জানিয়েই তিনি দেশত্যাগ করেছেন বলে জানা যায়। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর তার স্ত্রী-সন্তানসহ দুবাইয়ে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে- যখন বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে সে সময় তিনি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেও ব্যর্থ হন। এরপর বেনজীর আহমেদ অন্তত দুজন সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়িতেও গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ৯ মে এবং ১০ মে দুই দিন তিনি ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার বাসভবনে গিয়ে ফেরত আসেন। এছাড়া তিনি সরকারের উচ্চ মহলে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কেউই তাকে গুরুত্ব দেয়নি। তার প্রতি সহানুভূতি দেখায়নি। বরং সবাই তাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। এ রকম বাস্তবতায় গত ১২ মে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি দুবাইয়ে গেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে- বেনজীর আহমেদ দুবাই গেছেন, না বাংলাদেশে আছেন, তা বোঝা যাবে আগামী ৬ জুন। কারণ ওইদিন যদি তিনি স্বশরীরে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজির হন তাহলে সব গুঞ্জনের অবসান ঘটবে। আর ওইদিন যদি তিনি আইনজীবীকে পাঠান, তাহলে বুঝতে হবে- বেনজীর আহমেদ দেশে নেই।

এদিকে, বেনজীর আহমেদের দেশত্যাগ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বেনজীর আহমেদ কোথায় আছেন আমার জানা নেই। এছাড়া বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করবে কিনা সেটি আদালত দেখবেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্নীতি যে কেউ করে বসতে পারে। এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু সে বিষয়ে সরকার নির্বিকার কিনা এটাই দেখার বিষয়।

এদিকে, অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও তিন মেয়েকে তলব করে গত মঙ্গলবার সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় থেকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। দুদক উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগামী ৬ জুন বেনজীর আহমেদকে এবং ৯ জুন তার স্ত্রী জীশান মির্জাসহ সন্তানদের দুদকে হাজির হতে বলা হয়। দুদক সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাইবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জমি, ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগের উৎস খুঁজতে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শিগগিরই আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের একজন কর্মকর্তা। যদিও ইতোমধ্যে তারা দেশত্যাগ করেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা খুব শিগগিরই তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আদালতে আবেদন করব। আর যদি তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান, তাহলে তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইন অনুসরণ করা হবে।

এদিকে, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেয়ার প্রমাণ পেয়েছে দুদক। দুদকের অনুসন্ধান শুরুর তথ্য পেয়েই এই অর্থ সরিয়ে নেন বেনজীর আহমেদ। দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে- সরিয়ে নেয়া এই টাকার পরিমাণ কয়েকশ কোটি হতে পারে। আর তা সরানো হয়েছে আদালতের আদেশে দুদক কর্তৃক বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করার আগে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরানোর মতো করে জমি, ফ্ল্যাট বা অন্য কোনো সম্পদ বিক্রি বা স্থানান্তর করেছেন কিনা, সে তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App