×

প্রথম পাতা

ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত, মার্কিন নির্বাচনের হিসাব পাল্টাবে?

Icon

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত, মার্কিন নির্বাচনের হিসাব পাল্টাবে?

কাগজ ডেস্ক : সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের মুখ বন্ধ রাখতে ঘুষ দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন আদালতে। মামলায় আনা ৩৪টি অভিযোগের সব কটিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই ঐতিহাসিক রায়ে আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।

ট্রাম্প প্রথম কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেন। আবার তিনিই প্রথম ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দেশটির বড় কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন।

ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ডধারী কাউকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে দেয়া যাবে না, এমন কোনো শর্ত দেশটির সংবিধানে উল্লেখ নেই। তাই ট্রাম্পের প্রার্থী হতে বাধা নেই। ১১ জুলাই ট্রাম্পের বিচারের রায় ঘোষণা করবেন বিচারক হুয়ান মেরচান। এর ৪ দিন পরেই রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলনে ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার কথা রয়েছে।

বিভিন্ন জরিপের ইঙ্গিত, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেমোক্রেটিক পার্টির জো বাইডেনের সঙ্গে ট্রাম্পের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। নির্বাচনের ফলাফল ঠিক করে দেবে- এমন গুরুত্বপূর্ণ বেশ কটি সুইং (দোদুল্যমান) অঙ্গরাজ্যে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। কিন্তু এই জরিপগুলোয় এই বিষয়টিও আছে যে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি সব হিসাব বদলে দিতে পারে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী কেনেডি পরিবারের সদস্য রবার্ট এফ কেনেডি। তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন, নিউইয়র্ক ট্রায়ালের সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের অসুবিধার চেয়ে সুবিধাই বেশি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর প্রেসিডেনশিয়াল হিস্ট্রির পরিচালক জেফরি অ্যাঙ্গেল বলেন, কী ঘটতে যাচ্ছে, তার ইঙ্গিত খুঁজে পেতে আমরা প্রায়ই ইতিহাসের দিকে তাকাই। কিন্তু ইতিহাসে এমন কোনো রেকর্ড নেই, যা দিয়ে এই বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়। টেক্সাস ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কিথ গ্যাডি জানান, ট্রাম্পের বিচারের রায়ে মার্কিন নির্বাচনের ভোটে হয়তো তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোয় কিছু মানুষ তাদের ভোটের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন।

নিউইয়র্কের মামলার পাশাপাশি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরো তিনটি গুরুতর অভিযোগের মামলার কার্যক্রম চলছে, যার মধ্যে আছে ২০২০ সালে নির্বাচনের ফল বদলানোর প্রচেষ্টা, ফ্লোরিডায় নিজের বাড়িতে সরকারি নথি লুকিয়ে রাখা। তবে নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এসব মামলার শুনানি শুরুর তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই।

এদিকে আদালত থেকে বের হয়েই আবারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় মেতেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি একজন রাজনৈতিক বন্দি। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উপস্থাপনে সফল হয়েছেন। যা হতে পারত তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের সূত্রপাত, সেই আইনি ঝামেলাকে তিনি ইতিবাচক বিষয়ে পরিবর্তন করে অনেক ভোটারের সহানুভূতি আদায়ে সমর্থ হয়েছেন। এমনকী তিনি নিজেকে নেলসন ম্যান্ডেলার মতো রাজনৈতিক বন্দিদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি তার সমর্থকদের জানিয়েছেন যে তার বিরুদ্ধে আনা এসব কেলেঙ্কারির অভিযোগ তার স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার গভীর রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র।

কোনো মন্তব্য করেননি বাইডেন : ট্রাম্পের আইনি ঝামেলা নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক রয়েছেন প্রতিপক্ষ জো বাইডেন। তিনি নিজে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। বিশ্লেষকদের মতে, বাইডেন ‘আইনি প্রক্রিয়ায়’ নাক গলাচ্ছেন, এ অভিযোগ যেন রিপাবলিকানরা কোনোভাবেই করতে না পারে, সে বিষয়ে খুবই সতর্ক আছেন বাইডেন। এ কারণেই, এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের আইনি সমস্যা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের পর বাইডেনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে- তিনি সুর পাল্টাবেন কিনা।

বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারণা দল এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। তবে গণতন্ত্রের প্রতি ট্রাম্প আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

প্রথমবার ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে এবং সেই অভিযোগ প্রমাণের পর নতুন ইতিহাস গড়েছেন ট্রাম্প। তবে তিনি ৫ নভেম্বর বাইডেনকে পরাজিত করতে পারলে আরো ইতিহাস তৈরি করবেন।

রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী বাছাইপর্ব (প্রাইমারি) চলাকালে পরিচালিত বুথফেরত জরিপে অনেক ভোটার বলেছিলেন, ট্রাম্প যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তারা তাকে ভোট দেবেন না।

গত এপ্রিলে ইপসোস ও এবিসি নিউজের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ট্রাম্পকে সমর্থনকারী ভোটারদের মধ্যে ১৬ শতাংশ এমন পরিস্থিতিতে (দোষী সাব্যস্ত) তাদের সমর্থন পুনর্বিবেচনা করবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এই জরিপগুলো ছিল অনুমানমূলক। কারণ, তখন তো মামলায় রায়ই হয়নি। কিন্তু এখন রায় হয়ে গেছে। ফলে এখন ভোটাররা সত্যিকারের অর্থেই ট্রাম্পের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনার আলোকে তাদের রায় ভোটে দিতে পারবেন।

কাগজে-কলমে ট্রাম্পের ৪ বছরের জেল হতে পারে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে প্রবেশন বা অর্থদণ্ড দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার আদালতকক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, সত্যিকারের রায় হতে যাচ্ছে আগামী ৫ নভেম্বর (প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন)। আর সেই রায় দেবেন মার্কিন জনগণ।

মার্কিন জরিপবিদ ডগ শোয়েন বলেন, ৮ বছর আগের ঘটনায় ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। নির্বাচন হবে আগামী নভেম্বরে। ততদিনে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে বিষয়টির প্রভাব অতটা জোরালোভাবে নাও থাকতে পারে। ভোটাররা নভেম্বরে যা ভাববেন, তা হলো- মূল্যস্ফীতি, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্ত পরিস্থিতি, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা, ইসরায়েল ও ইউক্রেনে যে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে- এসব বিষয়।

অবশ্য রিপাবলিকান উইমেন ফর প্রোগ্রেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যারিয়েল হিল-ডেভিস বলেন, তিনি মনে করেন, এই বিষয়টি একজন প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পের ওপর প্রভাব ফেলবে। তার ক্ষতির কারণ হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App