×

প্রথম পাতা

চট্টগ্রামের বাজার

ধনেপাতার যাত্রা কাঁচা মরিচের পথে

Icon

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামের বাজারে আরো এক দফা বেড়েছে সব ধরনের সবজি ও মুরগির দাম। ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে সবজির দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম জেলায় বা আশপাশের এলাকায় তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তারপরও সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে অন্তত ১০ থেকে ১৫ টাকা। এদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে সোনালি মুরগির দাম বাড়তি। কয়েকদিন আগেও যে মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৭০ টাকায়, সেই মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মাছের দামও। একই সঙ্গে বেড়েছে আলু, ডিম, পেঁয়াজ, রসুনের দামও।

গতকাল শুক্রবার নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার, চকবাজার, বহদ্দারহাট, কাজীর দেউড়ি, কর্ণফুলী বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। গত সপ্তাহে ব্যবধানে বেশির ভাগ সবজির দাম কিছুটা কমলেও এ সপ্তাহে বরবটি, টমেটো, কাঁচা মরিচসহ দাম বেড়েছে বেশ কয়েকটি সবজির। কয়েকদিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা বেড়ে দাম দ্বিগুণ হয়েছে বরবটির। কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে টমেটো ৮০ টাকা এবং ২০ টাকা বেড়ে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। মিষ্টি কুমড়া ও লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়শ ও চিচিঙ্গা। শসা ও পটল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজি দরে। করলা, বেগুন, আলু ও ঝিঙে ৬০ টাকা। লতি ও কচুর ফুল ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মূলা ৩৫-৪০ টাকা, গাজর ৬০-৭৫ টাকা, আলু কেজিতে ৫৫-৬০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৩৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। আর যে মানের ধনেপাতা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১২০ টাকায়, তা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা। কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতার দামের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, কালবৈশাখীর কারণে নওগাঁ, রাজশাহী, জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয় তাই মরিচ গাছ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে সরবরাহে ঘাটতি থাকায় বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখা দেয়। এজন্য মরিচ ও ধনে পাতার দাম বেড়েছে।

এদিকে সোনালি মুরগির দামে ট্রিপল সেঞ্চুরি। ২৮০ টাকা কেজি সোনালি মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৬০ টাকায়। আর ব্রয়লার ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি আর খাসি ১১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগি বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মুরগির দাম লাগামহীন। কিছুদিন গরম ছিল, তখন ফার্মে মুরগি মারা গেছে। এরপর আবার ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডব। তাই কমেছে সরবরাহ। আরো কিছুদিন বাড়তি দামেই মুরগি বিক্রি করতে হবে। অন্যদিকে আকারভেদে রুই মাছ ২৬০ টাকা থেকে ৩৬০ টাকা, কাতলা ৩২০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ২০০-২৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ টাকা থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা, স্যালমন ফিশ ৪৫০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৮০০ টাকা, রূপচাঁদা জাত ও আকারভেদে ৫৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা, পোয়া মাছ ২৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, সুরমা ৩৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা, টেংরা ৩৭০ টাকা এবং নারকেলি মাছ ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া হওয়া ডিমের বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বাজারে লাল ফার্মের ডিম বিক্রি হয়েছে ডজন প্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। আর সাদা ফার্মের ডিম বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা। হাঁসের ডিম ২২০ টাকা।

অন্যদিকে আসন্ন কুরবানির ঈদকে ঘিরে উত্তাপ বেড়েছে মসলার বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে এলাচ, গোলমরিচ ও লবঙ্গসহ নানা মসলা পণ্যের দাম বেড়েছে ২০ থেকে দেড়শ টাকা পর্যন্ত। সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকায় খুচরা বিক্রি হচ্ছে এলাচ। এছাড়া দারুচিনি ৬০০, গোলমরিচ ১ হাজার, লবঙ্গ ২ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। জিরা ৬৬০ টাকা, লবঙ্গ ১৩০০ টাকা, গোল মরিচ ৮৫০ টাকা। বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা দোকানে কেজি প্রতি দেশি পেঁয়াজ ৭৫-৮০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৭৫-৭৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন দেশি রসুন ২০০ টাকা, চায়না রসুন ২২০ টাকা, চায়না আদা ২৬০ টাকা, ভারতীয় আদা ২৬০ দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে চায়না আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা। প্যাকেট পোলাওয়ের চাল ১৫৫ টাকা, খোলা পোলাওয়ের চাল মানভেদে ১১০ থেকে ১৪০ টাকা, ছোট মসুরের ডাল ১৪০ টাকা, মোটা মসুরের ডাল ১১০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৬০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৮০ টাকা, খেসারি ডাল ১২০ টাকা, বুটের ডাল ১১৫ টাকা, ডাবলি ৮০ টাকা, ছোলা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৭ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৪৭ টাকা, কৌটাজাত ঘি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, খোলা ঘি ১ হাজার ২৫০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১৪৫ টাকা, খোলা চিনি ১৩০ টাকা। ময়দা দুই কেজি প্যাকেট ১৫০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১৩০ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ১৯০ টাকা।

রিয়াজউদ্দিন বাজারে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী শরিফুল ইসলাম বলেন, আর কয়েকদিন পর কুরবানির ঈদ। অথচ পেঁয়াজ-রসুন-আলুর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। নিয়ন্ত্রণ করার যেন কেউ নেই। এই দাম নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আমাদের কষ্ট আরো বাড়বে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App