×

প্রথম পাতা

সবজিতে ঝড়ো হাওয়া আলু পেঁয়াজ ডিম চড়া

Icon

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সবজিতে ঝড়ো হাওয়া আলু পেঁয়াজ ডিম চড়া

কাগজ প্রতিবেদক : আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় আরো বেড়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে কাঁচা মরিচ, রসুন, আদাসহ কয়েকটি পণ্য। তবে চাল, ডাল ও আটা-ময়দার দাম আগের মতোই রয়েছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, হিমাগার গেটে আলুর দর বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। আর ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় কাঁচা মরিচ ও সবজির দাম চড়া। গরমে মুরগি মারা যাওয়ায় বেড়েছে ডিমের দাম। আর ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি কম হওয়ায় দেশি পেঁয়াজের চাহিদা বেশি বলে দর বেড়েছে।

গতকাল শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের মাঝামাঝি থেকে বাড়তে শুরু করে আলুর দাম। আমদানির আলু আসার পর দাম কিছুটা কমে। তবে চলতি মৌসুমে আলুর দাম তেমন কমেনি। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ও হিমাগারে মূল্য বৃদ্ধির কারণে আলুর দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। আলুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দামও। সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে এখন মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮৫ টাকায়। প্রতি কেজি দেশি রসুন ২০০-২২০ টাকা এবং আমদানি করা চায়না রসুন ২২০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে আদার দাম কেজিতে বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। মানভেদে প্রতি কেজি দেশি বা বিদেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই চড়া ডিমের বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ৫ টাকা। বাজারে এখন প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়। হালি হিসেবে কিনতে গেলে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকা। কোথাওবা ৬০ টাকাও রাখা হচ্ছে। এছাড়া সাদা রঙের প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৪৫ টাকায়। বাজারের তুলনায় অলিগলির দোকানে দাম আরো কিছুটা বেশি। এসব দোকানে ডিমের ডজন এখন ১৬০ টাকা। তবে স্থিতিশীল রয়েছে মাংসের বাজার। রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি ব্রয়লার ২০০-২২০ টাকা এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩৫০-৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০-৭৮০ টাকা, আর খাসির মাস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে শাক-সবজির বাজারে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় কাঁচা মরিচসহ অন্যান্য সবজির দামও বাড়তি। সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। অথচ দুই সপ্তাহ আগেই কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ১০০ টাকা। যা গত সপ্তাহে দ্বিগুণ হয়ে ২০০ টাকায় উঠে। ব্যবসায়ীরা বলছেন- গত এক মাস ধরে কাঁচা মরিচের বাজার চড়া। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের সবজির অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হওয়ায় সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া টমেটো সপ্তাহের ব্যবধানে ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারে লাউয়ের দাম প্রতি পিস ১০-২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। বাজারে এসেছে নতুন কচুরমুখি। এ পণ্যটি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়। প্রতি কেজি বেগুন ৬০-৮০ টাকায়, পেঁপে ও শসা ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ও শসার দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। এছাড়া পটল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, ঝিঙে ও করলা আগের মতোই ৬০ টাকা কেজি দরে কিনতে পারছেন ভোক্তারা। সেগুনবাগিচা কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আলম বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাজারে সবজির ঘাটতি থাকায় দাম একটু বেশি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App