×

প্রথম পাতা

প্রেস কাউন্সিল পদক বিতরণ

সেরা গণমাধ্যম ভোরের কাগজ

Icon

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সেরা গণমাধ্যম ভোরের কাগজ

কাগজ প্রতিবেদক : মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতায় বিরামহীন পথ চলছে ভোরের কাগজ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিগত ৩২ বছরের পথ পরিক্রমায় নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ভোরের কাগজ তার আদর্শে থেকেছে অবিচল। শত প্রতিকূলতা ও প্রলোভনেও কখনো লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি পত্রিকাটি। এমন নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পথ চলার স্বীকৃতিও মিলেছে। দেশের অন্যতম শীর্ষ এ গণমাধ্যম পেয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিভাগে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক-২০২৩। রাজধানীর কাকরাইলে তথ্য ভবন মিলনায়তনে গতকাল বুধবার তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের কাছ থেকে সেরা গণমাধ্যম পুরস্কার গ্রহণ করেন ভোরের কাগজ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

এ সময় মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, যেসব সংবাদমাধ্যম দেশ ও সমাজ গঠনে নির্ভীকভাবে কাজ করছে তাদের পুরস্কৃত করা প্রয়োজন। সেই বিবেচনা থেকেই এই পুরস্কারগুলো দেয়া হচ্ছে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করে। মানুষের তৃতীয় নয়ন খুলে দেয়। সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে এবং সততা ও নিষ্ঠা উৎসাহিত করতে প্রেস কাউন্সিল পদক চমৎকার ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, সরকার সুপারম্যান নয়, ভুলভ্রান্তি থাকবেই। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে দেশের আনাচে-কানাচে সরকারের অন্তরচক্ষু হিসেবে কাজ করবে গণমাধ্যম। এ ক্ষেত্রে গঠনমূলক সমালোচনা হলে- সরকার এটাকে সহায়ক হিসেবেই দেখবে।

প্রেস কাউন্সিল প্রতি বছর ৭টি ক্যাটাগরিতে পদক দিয়ে থাকে। তবে এ বছর পদক দেয়া হয় ছয়টি ক্যাটাগরিতে। এর মধ্যে সেরা

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রেস কাউন্সিল পদক পায় শীর্ষ জাতীয় দৈনিক ভোরের কাগজ।

পদক প্রদান শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় একটি সাংবাদিকবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রেস কাউন্সিল নিজেকে তুলে ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রেসের স্বাধীনতা রক্ষা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের সংবাদমাধ্যম বর্তমানে শুধু সংবাদপত্রে সীমাবদ্ধ নেই; সাংবাদিকবান্ধব নীতির কারণে জননেত্রী শেখ হাসিনা এফএম রেডিও, অনলাইন রেডিও, অনলাইন টেলিভিশন এবং তৃণমূলে কমিউনিটি রেডিও প্রচারের বিষয়ে অধিক গুরত্ব দিচ্ছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর যে প্রচেষ্টা- সেক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সাহসী ভূমিকা থাকবে, এমন প্রত্যাশা রাখি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের চেতনারই অংশ। তিনি বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল; যে স্বপ্নের একটি বড় জায়গা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মত প্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। অথচ এ বিষয়গুলোই আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে। এরপর অন্ধকারের শক্তি ক্ষমতায় এসে; গণতন্ত্রকে হত্যা করে গণমাধ্যমের গলা টিপে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেয়ার পর এ পর্যন্ত গত ১৫ বছর ধরে তার ক্ষমতাকালে দেশকে অন্ধকারের পথ থেকে ধীরে ধীরে আলোর পথে তুলে এনেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দিকে দেশকে ধাবিত করতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে আরো স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠাতিক করতে তৎপর রয়েছেন। এমনকি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল জায়গায় যারা আছেন; তারা যেন কাজ করতে পারেন- এ জন্য সরকার বিভিন্নভাবে তাদের পাশে থেকে সহায়তা করে যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক, বহুমাত্রিক এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থাকে যদি শক্তিশালী করতে হয়, সমাজে যেন ন্যায় প্রতিষ্ঠা পায় সেজন্য গণমাধ্যমের বিকাশ প্রয়োজন। একইভাবে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকাল যেটি হয়ে দাঁড়িয়েছে, অনেকে দেখা যায় কালো টাকার প্রটেকশনের জন্য পত্রিকা বের করতে চান। সাংবাদিকরা অনেক সময় বাধ্য হন মালিকের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। এটি গণমাধ্যমের সুষ্ঠু বিকাশের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক বলে মনে করি। তিনি বলেন, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সবাইকে আমি অনুরোধ জানাব- গণমাধ্যমের এই বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে যেন কেউ সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে অপসাংবাদিকতা না করতে পারে সেজন্য সজাগ থাকতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, সম্প্রতি ডয়চে ভেলে মানবাধিকার নিয়ে একটি রিপোর্ট করেছে, যেখানে শ্রীলঙ্কা- যে দেশ কিছু দিন আগেও গৃহযুদ্ধ মোকাবিলা করেছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশকে তুলনা করা হয়েছে। আমি এটির সমালোচনা করব না। মানবাধিকার নিয়ে যে কোনো সংস্থার অঙ্গীকারের আমি প্রশংসা করি। শুধু আমি আহ্বান জানাব ডয়চে ভেলের যদি মানবাধিকারের প্রতি এত অঙ্গীকার থাকে, সেটার প্রমাণ তারা দিক। গাজায় মানবাধিকারের যে লঙ্ঘন হচ্ছে, গণহত্যা হচ্ছে, সেটার ওপর আরেকটি প্রামাণ্যচিত্র তারা বানিয়ে দিক। তার মাধ্যমে মানবাধিকারের প্রতি তাদের অঙ্গীকার প্রমাণ করুক এবং একই সঙ্গে তাদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটুকু আছে, সেটাও তারা প্রমাণ করুক।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি সেটা তারা করতে না পারে, তাহলে আমরা ধরে নেব, ডয়চে ভেলের প্রামাণ্যচিত্র একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রামাণ্যচিত্র হয়েছে। একটা বিশেষ মহল বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এটি করেছে। যারা প্রকৃত অর্থে আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনের সমস্যা এবং তাদের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলে না। বাংলাদেশকে পৃথিবীর সামনে খাটো করে দেখানোর যে অপচেষ্টা করে তার অংশ হিসেবে এই প্রামাণ্যচিত্র হয়েছে।

প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিমের সভাপতিতেত্ব পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, তথ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাজী কেরামত আলী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হুমায়ূন কবির খোন্দকার। এছাড়াও প্রেস কাউন্সিলের সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী বলেন, বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকদের সম্মানের চোখে দেখতেন। তাই বর্তমান সময়ে এসে আমাদের প্রত্যাশা- সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে দেশের প্রতি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে আরো বিকশিত করবেন।

বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মো. হুমায়ূন কবির খোন্দকার বলেন, বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকদের প্রিয়জন ছিলেন। ১৯৭৪ সালে স্বাধীন ও মানসম্মত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন। আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় গণমাধ্যমকে অগ্রভাগে রেখে সাংবাদিকদের কল্যাণে বহুমুখী কাজ করে যাচ্ছেন।

শ্যামল চন্দ্র কর্মকার বলেন, দেশের সংবাদপত্রের স্বচ্ছতা আনতে এবং সাংবাদিকদের মান উন্নয়নে নিজেদের তুলে ধরেছে প্রেস কাউন্সিল। বিষয়টি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ভবিষতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। গণমাধ্যম যত স্বাধীনভাবে কাজ করবে; মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তত বেশি বিকশিত হবে। তাই আমাদের প্রত্যাশা থাকবে; সাংবাদিকরা যেন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে দেশের অগ্রগতির দ্বার উন্মোচনে সহায়তা করেন। তবে সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা হলে; সেখানে ছাড় দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, প্রেস কাউন্সিল বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করে। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট করতে এ পদক প্রদান করে। এই সম্মননা পদক সাংবাদিকদের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তিনি বলেন, জুরি বোর্ডে থেকে আমি অনেক ধরনের রিপোর্ট পর্যালোচনা করেছি; সাংবাদিকরা এখন অনেক মানসম্মত রিপোর্ট করছে। তারা নিজেদের জ্ঞান ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App