×

প্রথম পাতা

বরিশালের কিছু এলাকা এখনো তলিয়ে

Icon

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

এম কে রানা, বরিশাল থেকে : ‘এবারের ঝড়ের সময় যে প্লাবন হয়েছে তা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ আগে কখনো দেখেনি। আবার ঘূর্ণিঝড় রেমালের মতো দীর্ঘসময় ঝড়ের এমন তাণ্ডবও দেখিনি’- এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ক্ষতিগ্রস্ত বাকেরগঞ্জের মহসিন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের মেঘনা, বুড়িশ্বর, বলেশ্বর, তেঁতুলিয়া, বিশখালী, কচা, কীর্তনখোলা নদীসহ বেশিরভাগ নদীর পানি ঝড়ের দিন সর্বোচ্চ বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমার ৫-৮ ফুট উচ্চতা অতিক্রম করে প্রবাহিত হয়।

এদিকে আবহাওয়া অফিস বলছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ১৪০ মিলিমিটারের উপরে বৃষ্টিপাত হয়েছে- যা স্বল্প সময়ে বেশ ভালো পরিমাণের বৃষ্টিপাত।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের জলানুসন্ধান বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুম ঝড়ের কারণে স্বাভাবিক জোয়ারের সময়েই নদ-নদীতে পানির উচ্চতা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তার ওপরে মুষলধারে বৃষ্টি থাকায় প্লাবিত এলাকায় পানির উচ্চতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে দেয়াল ধসে ও গাছের ডাল ভেঙে পড়ে বরিশালে তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গত রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বরিশাল ছিল বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। তবে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত কোনো কোনো অঞ্চল এখনো বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্কও ধীরে ধীরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

জেলায় ২৫৫টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ২ হাজার ৪৬৭টি ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া মোট ৫৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রায় ২৭ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তবে বাড়িঘরসহ কৃষি ও মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাতে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে গোটা বরিশাল বিভাগে লণ্ডভণ্ড হয়েছে অসংখ্য গাছপালা। শহর ও গ্রাম মিলিয়ে পানিবন্দি আছেন অনেক মানুষ। ফসলি জমি, রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে রয়েছে এখনো। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপরে পড়েছে- যা অপসারণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস।

এছাড়া গতকাল বিকাল পর্যন্ত বটতলার নবগ্রাম সড়ক, মুন্সী গেরেজ, কীর্তনখোলা নদী, বঙ্গবন্ধু কলোনি, ভাটিখানা সড়ক, ওসমান খান সড়ক, জুমির খান সড়ক, ধানগবেষণা রোডসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে ছিল। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও আশ্রয় নেয়া মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তা শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে পাওয়া তথ্যমতে, এখনো ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চলমান রয়েছে। তবে এ পর্যন্ত জেলার ৯৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশন মিলিয়ে ৩ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০০ জন। দুই হাজার ৪৬৭টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতির পাশাপাশি ২৫৫টি বাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে গেছে, যার ক্ষতি নিরূপণ করতে আরও দুদিন সময় লাগবে।

জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকেই যেন ত্রাণ সহায়তা পায়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App