×

প্রথম পাতা

পটুয়াখালীতে বেশি ক্ষতি বিদ্যুৎ, মৎস্য ফসলের

Icon

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মো. মিজানুর রহমান, পটুয়াখালী থেকে : জেলায় কৃষি, মৎস্য, বিদ্যুৎ, বেড়িবাঁধ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সব চেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয় বিদ্যুৎ, মৎস্য ও ফসলের। বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার আধাপাকা-কাচা ঘরবাড়ি। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলাপাড়া, দশমিনা ও রাঙ্গাবালী উপজেলা। এই উপজেলায় পানি তোড়ে ভেসে গেছে ৭৭৫টি মাছের ঘের।

সরজমিন জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে লালুয়া ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া, মঞ্জুপাড়া, চর চান্দুপাড়া, হাসনাপাড়া, চন্দপাড়া, পশুরিবুনিয়া, ছোট পাঁচ নম্বর, বড় পাঁচ নম্বর ও বানাতিসহ ১০টি গ্রাম এবং জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমোন্তাজ, চর আন্ডা, নয়ার চর, বৌবাজার, মোল্লার গ্রাম ও উত্তর চরমোন্তাজসহ ১০টি গ্রাম ও একই উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর চালিতাবুনিয়া, গরুভাঙ্গা, চিনাবুনিয়া, মরাজঙ্গিসহ পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

পটুয়াখালী শহররক্ষা বাঁধ উপচে জোয়ারের পানি ঢোকে পড়ে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন রাস্তাঘাট। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সিডরের পর এতপানি কখনো দেখেননি বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

বেড়িবাঁধ ভেঙে বিভিন্ন গ্রাম পানিতে থইথই করছে বলে জানান কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নে অন্তত ১০টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে ৭ হাজার মানুষ পানিবন্দি। বিধ্বস্ত এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধটি মেরামত করা জরুরি।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জেলায় ৯১০৫টি পুকুর, ৭৬৫ মাছে ঘের এবং ১২০টি কাঁকড়া ঘের প্লাবিত হয়েছে। এতে মৎস্যচাষিদের ২৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মইন জানান, শহরে দুটি ট্রান্সফরমার ৫০টি পোল, ৫ কিলোমিটার তার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে এখনো ৮ হাজার গ্রাহক বিদুৎবিহীন অবস্থায় আছে। পল্লী বিদ্যুৎ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানা গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র দেবনাথ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে জেলায় ৩ হাজার ৫০০ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ঘরচাপা পড়ে ও পানিতে ডুবে তিনজন মারা গেছেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App