×

প্রথম পাতা

বন্দর সচল হলেও পণ্য খালাস শুরু করা যায়নি

Icon

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 বন্দর সচল হলেও পণ্য  খালাস শুরু করা যায়নি

চট্টগ্রাম অফিস : ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে গত দুদিন ধরে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বন্দরের প্রশাসনিক কাজ সচল হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারেনি। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সোমবার কোনো জাহাজ বহির্নোঙর থেকে বন্দরে আসেনি। দুপুরে প্রশাসনিক ও বন্দরের অভ্যন্তরীণ কাজ শুরু হয়েছে।

এর আগে শনিবার রাতে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বন্দরকে ৬ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে বলার পর চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা ‘অ্যালার্ট-৩’ জারি করা হয়। এ সতর্কতা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা ও খালাসের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে রবিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলার পর চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা ‘অ্যালার্ট-৪’ জারি করা হয়। ওইদিন সকালেই বন্দর জেটি থেকে সব জাহাজ গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। একই সঙ্গে বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল খুলে দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টায় খুলে দেয়া হয় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের একমাত্র টানেলটি। টানেল কর্তৃপক্ষের সহকারী ব্যবস্থাপক (টোল অ্যান্ড ট্র্যাফিক) তানভীর রিফা জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ১২ ঘণ্টার জন্য বঙ্গবন্ধু টানেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। গতকাল ভোর ৬টায় বঙ্গবন্ধু টানেল খুলে দেয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগায় প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টায় টানেল খোলা হয়। এর আগে রবিবার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত টানেল দিয়ে গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড় রেমালের সম্ভাব্য আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে টানেল চালুর পর প্রথমবারের মতো সাময়িক বন্ধের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতের আশঙ্কায় টানা ১৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম আবারো শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোর ৫টা থেকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রানওয়ে চালু করে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তসলিম আহমেদ বলেন, ভোর ৫টা থেকে রানওয়েসহ বিমানবন্দরে সব কার্যক্রম চালু হয়েছে। তিনটি বিমান সকালে ল্যান্ড করেছে। এর মধ্যে একটি ডোমেস্টিক রুটের এবং দুটি ইন্টারন্যাশনাল রুটের। আবহাওয়া অধিদপ্তর ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত জারির পর রবিবার বেলা ১২টা থেকে সব ধরনের ফ্লাইট অপারেশনসহ বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরের একটি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন আছেন চট্টগ্রামের ২০ শতাংশ গ্রাহক। যার কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ওইসব এলাকার বাসিন্দারা। গতকাল বিকালে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ চট্টগ্রাম দক্ষিণের প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল ও ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বেশ কিছু এলাকা সকাল থেকে বিদ্যুৎহীন রয়েছে। অতি বৃষ্টিতে বিভিন্ন ভবনের নিচতলা এবং মিটার ইউনিট পানিতে ডুবে যাওয়ায় এসব এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে রাতে দুর্যোগের কারণে আমাদের লোড ৩৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছিল। এখন সেটি ৬০০ মেগাওয়াটে উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে এখনো প্রায় ২০ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন আছেন। তিনি আরো জানান, চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে বিদ্যুৎ অফিস ও সাব- স্টেশনে পানি ঢুকে পড়ায় সকাল থেকে হালিশহর, রঙ্গিপাড়া, শান্তিবাগ, রমনা ও শ্যামলী আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। একইভাবে গাছ উপড়ে পড়ায় ও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নগরীর বেশ কিছু এলাকায় সকাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App