×
Icon ব্রেকিং
রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ

প্রথম পাতা

জলজট যানবাহন সংকট ভাড়ায় নাকাল ঢাকাবাসী

Icon

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 জলজট যানবাহন সংকট ভাড়ায় নাকাল ঢাকাবাসী

কাগজ প্রতিবেদক : মেট্রোরেলের স্টেশনের নিচে বৃষ্টির পানি জমে জমে প্রায় কোমড় সমান হয়েছে। সেই পানিতে হাত ডুবিয়ে অস্থির হয়ে কী যেন খুঁজছে স্কুলপড়–য়া নিতু। তার একটি জুতা হাতে, আরেকটি ভেসে গেছে পানির ¯্রােতে। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগে বইখাতাও ভিজে একাকার। নিতুর চোখে পানি। কী খুঁজছো- জানতে চাইলে বলে, স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিলাম, মেট্রোরেল থেকে নেমে রিকশা না পেয়ে হাঁটছিলাম, হঠাৎ গর্তে পা ঢুকে পড়ে। আমিও উল্টে পানিতে পড়ে যাই। এ সময় আমার মোবাইল ফোনটা হাত থেকে পড়ে গেছে পানিতে, আর খুঁজে পাচ্ছি না। ফোনে আমাকে না পেয়ে মা নিশ্চয়ই অনেক চিন্তা করছেন। বলতে বলতে জোরে কেঁদে ফেলে নিতু। এটি গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটায় মিরপুর ১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচের দৃশ্য।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে রাজধানীতে এদিন সকাল থেকেই শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। একটানা চলা এই বৃষ্টি কখনো বেড়েছে, কখনো কিছুটা কমছে। সঙ্গে ছিল তীব্র ঝোড়ো হাওয়া। ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন কর্মক্ষেত্রে যাওয়া ও খেটে খাওয়া মানুষ। সকালে কাজের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে অনেকেই রাস্তায় বাস পাননি। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাচালকরা বৃষ্টির কারণে বাড়তি ভাড়া হাঁকিয়েছেন। কোনো কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা থাকায় অটোরিকশার চালকরা যেতে রাজি হননি। অনেকে গণপরিবহনের অপেক্ষায় থেকে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় ভিজে গেছেন। মেট্রোরেলের নিচে অনেক জায়গায় কোমড় পানি জমে। কাকভেজা হয়ে মেট্রোরেলে চড়তে হয়েছে যাত্রীদের। এ ছাড়া ঢাকার দুই সিটির অনেক এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

কর্মস্থল গুলশান-২ যেতে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফার্মগেট থেকে বের হন সোনিয়া নূসরাত। রাস্তায় একটিও বাসের দেখা নেই। ছাতা নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সাতরাস্তা গিয়ে কয়েকজন অটোরিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু পথ খুব বেশি না হলেও, কেউ নিয়ে যেতে রাজি নন। একজন চালক যেতে রাজি হলেও ভাড়া চান তিন গুণ। প্রায় আধঘণ্টা চেষ্টার পর দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে একটি রিকশা নিয়ে যান মহাখালী চার রাস্তার মোড় পর্যন্ত। সেখানে দাঁড়িয়ে গুলশান-১ পর্যন্ত যাবেন বলে ‘রবরব’ পরিবহনে ওঠার চেষ্টা করেন। সেটিও ভিড়ে ঠাসা, তাই ব্যর্থ হন। অনেক সময় পর পর অল্প দুয়েকটা বাস এলেও তাতে যাত্রী ভর্তি, দরজা বন্ধ। সোনিয়া জানান, বেলা ১১টায় পর্যন্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে তিনি বাসায় ফিরে আসেন। অফিসে জানিয়ে দেন ‘আজ আর অফিস যাওয়া সম্ভব না’।

রেমালের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর অনেক এলাকায় পানি জমে জলজট ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ, ধানমন্ডির ২৭ নম্বর, গ্রিনরোড, নিউমার্কেট, মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর যাওয়ার রাস্তাসহ পুরান ঢাকার বেশ কিছু নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া বৃষ্টিতে নিউমার্কেট, কারওয়ানবাজার এলাকার আশপাশসহ বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এ সময় এসব সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। ভাঙা সড়কে রিকশা থেকে যাত্রী উল্টে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বেশ কিছু এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে। মিরপুর পাইকপাড়া এলাকায় সরকারি ডি-টাইপ কোয়ার্টার এলাকায় বড় আকারের একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ ভেঙে রাস্তার উপর পড়লে যানচলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। দুপুরে পুলিশের রমনা ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার জয়নুল আবেদীন বলেন, সড়কে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় গাড়ি ধীরগতিতে চলছে। তবে একে যানজট বলা যায় না।

সকাল থেকে মেট্রোরেল চলাচলে বিঘœ দেখা দেয়। ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকার পরে সকাল ১০টা ৮ মিনিটের দিকে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে একটি মেট্রোরেল ছেড়ে আসে। তবে সেটি চলাচলেও বিঘœ ঘটে। অনেকে স্টেশন থেকে ফিরে যান। দুপুর ২টায় ফের মেট্রো চলা শুরু হলেও বিকাল ৪টার পরে আবার বন্ধ হয়ে যায়।

শেওড়াপাড়া মেট্রো স্টেশনের নিচে কথা হয় মতিঝিলের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য শেওড়াপাড়া স্টেশনে এসে দেখি শত শত মানুষের ভিড়। মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ। বাসে মানুষের ঠাসাঠাসি অবস্থার কারণে তাতে উঠতে পারিনি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হঠাৎ এভাবে মেট্রোরেল বন্ধ হলেও কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমে কোনো ঘোষণা দেয়নি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে সচেষ্ট দুই সিটি করপোরেশন : অতি ভারি বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে সচেষ্ট ছিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় গতকাল দুপুর থেকে ৫ হাজার ৩শ পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও ১০টি কুইক রেসপন্স টিম কাজ করেছে। প্রতিটি কুইক রেসপন্স টিমে ১০ জন করে মোট ১০০ জন সদস্য কাজ করেন। এ ছাড়াও ডিএনসিসির হটলাইন ১৬১০৬ নম্বরে অভিযোগ পাওয়া ৯৪টি স্পটের জমে থাকা পানি অপসারণ করা হয়।

ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলের সড়কে উপড়ে পড়া বড় ও মাঝারি মিলিয়ে মোট ১০৮টি গাছ সরিয়ে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে পুরো কার্যক্রম নগর ভবনের কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেন্টার থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়েছে। বিকালে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেন্টার পরিদর্শন করেন এবং কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করে। মাঠ পর্যায়ে কাজ করে ৯১টি দল। এসব দলে ৫ জন করে কর্মী কাজ করেন। জলাবদ্ধতার তথ্য জানাতে নগরবাসীকে ০১৭০৯৯০০৮৮৮ নম্বরে ফোন করার অনুরোধ করা হয়। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৮০টি এবং প্রকৌশল বিভাগের ১১টি দল কাজ করে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে এবং কয়েকটি ওয়ার্ডে ২/৩টি করে দল কাজ করেছে। পাশাপাশি ১০টি অঞ্চলে প্রকৌশল বিভাগ থেকে ১১টি দল নিয়োজিত ছিল।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App