×

প্রথম পাতা

সিসিকের নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স বাতিল, জনমনে স্বস্তি

Icon

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সিসিকের নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স বাতিল, জনমনে স্বস্তি

সিলেট অফিস : নাগরিকদের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখে সিলেট নগরের পুরাতন ২৭টি ওয়ার্ডে নির্ধারণ করা নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি করপোরেশন। এমন সিদ্ধান্তে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সিসিকের এমন সিদ্ধান্তকে নগরবাসীর প্রত্যাশার প্রতিফলন বলেও মনে করছেন নাগরিকরা।

বিষয়টি নিয়ে গত শুক্রবার রাত ৯টায় নগর ভবনের সভাকক্ষে প্রথমে জরুরি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শেষে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাত ১০টায় সংবাদ সম্মেলন করে ট্যাক্স বাতিল করার তথ্য জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তিনি জানান, পরে রি-অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে নতুন গৃহকর নির্ধারণ করা হবে। এর আগে সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিক্রমে সব হোল্ডিংয়ের অ্যাসেসমেন্ট রি-অ্যাসেসমেন্ট বাতিল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং ৪২টি ওয়ার্ডের হোল্ডিংগুলো নতুন করে রি-অ্যাসেসমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, পুরনো ২৭ ওয়ার্ডের পাশাপাশি একই সঙ্গে নতুন অন্তর্ভুক্ত ১৫টি ওয়ার্ডের অ্যাসেসমেন্ট শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় অব্যাহত থাকবে। বকেয়া প্রদানের জন্য আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নাগরিকদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে ২৭টি ওয়ার্ডের হোল্ডিং ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্ট রি-অ্যাসেসমেন্ট বাতিল করে হোল্ডিংগুলো নতুন করে রি-অ্যাসেসমেন্ট ও একই সঙ্গে নতুন অন্তর্ভুক্ত ১৫টি ওয়ার্ডের অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মেয়র আরো বলেন, এর আগে আমি সম্মানিত নাগরিকদের কাছে বারবার বলেছিলাম যে, জনগণের জন্য অকল্যাণ হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমি নেব না। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়িত্ব তাদের মতামতকে মূল্যায়ন করার। জনগণ ও কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে চলমান অ্যাসেসমেন্ট বাতিল করে নতুন করে রি-অ্যাসেসমেন্ট করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানের জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানান তিনি।

নগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সিসিক মেয়র মেয়র বলেন, নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নগরীর কল্যাণে নিয়ে যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। জনগণের প্রতিষ্ঠানে জনমত প্রাধান্য পাবে। এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, সচিবসহ বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত পঞ্চবার্ষিক কর পুনর্মূল্যায়নের পর গত ৩০ এপ্রিল থেকে সিটি করপোরেশন নতুন নির্ধারিত বার্ষিক গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) অনুযায়ী ভবন মালিকদের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের নোটিস দেয়া শুরু করে। এরপর নগরের প্রায় পৌনে এক লাখ ভবনমালিকের হোল্ডিং ট্যাক্স ৫ থেকে ৫০০ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এ নিয়ে নগরজুড়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। এরপর থেকে প্রতিদিন নগরের বিভিন্ন সংগঠন হোল্ডিং ট্যাক্স বাতিলের দাবিতে নিয়মিত আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন শুরু করে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App