×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

প্রথম পাতা

কলকাতার ‘বগজোলা’ খালে ব্যর্থ অভিযান, মেলেনি লাশ

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কলকাতার ‘বগজোলা’ খালে ব্যর্থ অভিযান, মেলেনি লাশ
  • শাহিনের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও শিমুলের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল আনারের

কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেন্সের একটি ফ্ল্যাটে খুন হওয়া ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের খণ্ডিত মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। ধৃতরা লাশের খণ্ড খণ্ড টুকরো ট্রলি ও পলিথিন ব্যাগে করে ফেলার কথা বললেও এখনো এর হদিস মেলেনি। কলকাতায় গ্রেপ্তার কসাই জিহাদকে ১২ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে সেখানকার সিআইডি। আর ঢাকায় গ্রেপ্তার তিনজনকে ৮ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি পুলিশ।

রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে ডিবি পুলিশ উল্লেখ করেছে খুনের দুই কারণ। কলকাতায় রিমান্ডে থাকা জিহাদকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল শুক্রবার বিকালে ঘটনাস্থল থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ‘বগজোলা’ খালে খণ্ডিত লাশের খোঁজ করেছে সিআইডি। এর আগে ‘হাতিশালা’ বর্জ্য খালে অভিযান চালিয়েও লাশ পাওয়া যায়নি। লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পরও ঢাকা এবং কলকাতা পুলিশ খুনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হতে পারেনি। অথচ খুন এবং লাশ গুমে জড়িত

চারজন তাদের হেফাজতে রয়েছে। ঢাকায় আসা কলকাতা সিআইডির চার সদস্য সেখানে পাওয়া তথ্য ডিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিনিময় করেছেন। ঢাকায় ডিবি হেফাজতে তিনজনের দেয়া তথ্য সেখানে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন তারা। বৃহস্পতিবার রাতভর তারা ডিবি হেফাজতে থাকা তিনজনকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারা টুকরো লাশের ব্যাপারে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ভারতের কারা কারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদের ব্যাপারেও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। খুঁজছেন অনেক প্রশ্নের জবাব।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, কলকাতা সিআইডি পুলিশ শুক্রবার ডিবি অফিসে কর্মকর্তা ও আসামিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা তাদের পরবর্তী সময়ে করণীয় সম্পর্কে আর কিছু জানায়নি। গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার আব্দুল আহাদ জানান, রিমান্ডে তিনজনকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের দেয়া তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। তাদের দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে এমপির লাশ উদ্ধারে কলকাতা সিআইডিকে সহায়তা করা হচ্ছে।

আদালতে ডিবির দেয়া খুনের বর্ণনা : গতকাল শুক্রবার আদালতে পাঠানো তিনি আসামির রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়- ভিকটিম আনোয়ারুল আজীম আনারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান ওরফে শাহিনের ব্যবসায়িক লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে। ব্যবসায়িক লেনদেনসহ কিছু বিষয় নিয়ে আনারের ওপর শাহিনের ক্ষোভ ছিল যা আনার জানতেন না।

এছাড়া শিমুল ভূঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ সাইদেরও ভিকটিমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতাদর্শের দ্ব›দ্ব ছিল। তারা উভয়ে পরিকল্পিতভাবে আনারকে দেশের বাইরে ভারতের কলকাতায় নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন; যেন কেউ বুঝতে না পারে। পলাতক আসামি শাহিন গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের সঙ্গে নিয়ে গত ৩০ এপ্রিল ভারতের কলকাতার নিউটাউন এলাকায় গিয়ে সেখানে একটি বাসা ভাড়া করে বসবাস করা শুরু করেন এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে থাকা অবস্থায় ভিকটিমের সঙ্গে শাহিন ব্যবসায়িক মিটিং করার কথা বলে ভারতের কলকাতায় যেতে বলেন।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শাহিন গত ১০ মে বাংলাদেশে চলে আসেন যা আনার জানতেন না। দেশে আসার সময় শাহিন গ্রেপ্তারকৃত আসামি আমানুল্লাহ সাইদকে দায়িত্ব দিয়ে আসেন কোনোভাবেই যেন কাজটা মিস না হয় এবং কোনো প্রমাণ যাতে না থাকে। এর পর ১২ মে আনার ভারতের কলকাতায় যান এবং তার এক বন্ধুর বাসায় উঠেন। পরদিন ১৩ মে সকালের দিকে আনার ব্যবসায়িক মিটিং করার জন্য আক্তারুজ্জামান শাহিনের কলকাতার নিউটাউন এলাকার ভাড়া করা বাসায় যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩ মে গ্রেপ্তারকৃত আসামি আমানুল্লাহ সাইদ, তানজীর, সেলেস্টি রহমানসহ অজ্ঞাত অন্যান্য পলাতক আসামিদের সহযোগিতায় ভিকটিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশের মাংস ও হাড় আলাদা করে গুম করে ফেলে যেন কোনো প্রমাণ না থাকে। আসামিরা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে চলে আসে।

এদিকে ডিবির মতিঝিল জোনের একজন কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শিমুল ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ জানিয়েছেন, আনারকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর হাত-পাসহ শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আলাদা করা হয়। যেন কোনোভাবেই আনারের চেহারা দেখে কেউ পরিচয় শনাক্ত করতে না পারে, সেজন্যই খুনিরা এ পরিকল্পনা করে। এরপর ট্রলি ও ব্যাগে করে খণ্ড খণ্ড লাশ বের করে নেয়া হয়। এরপর একটি ট্রলি ও তিন-চারটি পলিথিন ব্যাগে করে ১৪ মে বিকাল ৫টা ১১ মিনিটের দিকে সে সব টুকরো বের করা হয়। এরপর এগুলো ফেলে দেয়া হয় কলকাতার হাতিশালা বর্জ্য খালে। আমানের স্বীকারোক্তির পর ভারতীয় পুলিশ ২৩ মে রাতে হাতিশালা বর্জ্য খালে তল্লাশি চালায়। তবে অন্ধকার হওয়ায় সেদিন মরদেহ খুঁজে পায়নি পুলিশ। পরেরদিন ২৪ মে আবারো খণ্ড লাশের সন্ধান শুরু করে ভারতীয় পুলিশ।গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের পর জিহাদ জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আনার হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।

কলকাতায় সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে জিহাদ বলেছেন, প্রথমে আনারকে শ্বাসরোধে খুন করা হয়। তারপর দেহ টুকরো টুকরো করা হয়। হাড় এবং মাংস আলাদা করা হয়। চামড়া ছাড়িয়ে তাতে হলুদ মাখান অভিযুক্তরা, যাতে বাইরে কেউ জিজ্ঞেস করলে বলা যায়, রান্না করার জন্য মাংস নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের পর জিহাদকে একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আনারকে খুনের পর সেখানেই দেহাংশ ফেলা হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে সেখান থেকে কোনো দেহাংশ মেলেনি। ২৪ বছর বয়সি জিহাদ হাওলাদার বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা। অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলে?ন তিনি। আনারকে খুনের প্রায় দুই মাস আগে জিহাদকে মুম্বাই থেকে কলকাতায় নিয়ে আসে?ন হত্যাকারীরা।

৫৮ সেকেন্ডের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১৪ মে ভারতীয় সময় বিকাল ৫টা ১১ মিনিটের দিকে দুজন ব্যক্তি একটি পেস্ট কালারের ট্রলি ব্যাগ ও তিন থেকে চারটি পলিথিন ব্যাগে করে আনারের খণ্ডিত দেহাংশ গুম করার জন্য লিফটে উঠছেন। সঞ্জীবা গার্ডেন্সের ফ্ল্যাট থেকে যে দুজন বের হয়েছেন তারা হলেন- শিমুল ভূঁইয়া ওরফে সৈয়দ আমানুল্লাহ ও সিয়াম ওরফে কসাই জিহাদ। সিসি ক্যামেরায় যা দেখা গেছে তা স্বীকারও করেছেন ডিবির হাতে গ্রেপ্তার শিমুল। তথ্য দিয়েছেন ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া কসাই জিহাদও।

অপরদিকে গতকাল বিকালে কলকাতার অদূরে ভাঙ্গরের কৃষ্ণমাটি এলাকায় বগজোলা খালে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সরিয়ে দেয়া হয় আশপাশের লোকজনকে। ডুবুরিরা খালে কুচুরিপানার নিচে লাশের খোঁজ করেন। বৃহস্পতিবারও রাতভর একই এলাকার কৃষ্ণমাটি এলাকায় চলে অভিযান। এর আগে এমপি আনার হত্যায় জড়িত অভিযোগে কলকাতায় গ্রেপ্তার জিহাদ হাওলাদারকে শুক্রবার বারাসাতের আদালতে তোলে সিআইডি। আবেদন করা হয় ১৪ দিনের রিমান্ডের।

শুনানির পর ১২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। জিহাদের (২৪) বাড়ি বাংলাদেশের খুলনা জেলার দীঘলিয়া থানার বারাকপুর গ্রামে। তার বাবার নাম জয়নাল হাওলাদার। অবৈধভাবে মুম্বাইয়ে বাস করতেন জিহাদ। তিনি পেশায় কসাই এবং মুম্বাইয়ের ‘শীর্ষ কসাই’। সিআইডির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জিহাদ জানায়, দুই মাস আগে এমপি আনারকে হত্যার জন্য তাকে কলকাতায় আনেন আখতারুজ্জান শাহিন। খুনের সময় আরো ৪ জন বাংলাদেশি ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন। কিলিং মিশন শেষে মরদেহ টুকরো টুকরো করে ব্যাগে ভরে গুম করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, নারীর প্রলোভন দেখিয়ে ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় আনারকে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ৫ কোটি টাকার চুক্তি হয়।

অন্যদিকে সংসদ সদস্য আনার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার বিকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার দুলাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিন আসামিকে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের ১০ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের সহকারী কমিশনার মাহফুজুল ইসলাম।

৮ দিন করে রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সৈয়দ আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, ফয়সাল আলী সাজী ওরফে তানভীর ভূঁইয়া ও সেলেস্টি রহমান। শিমুল ও ফয়সালের বিরুদ্ধে আরো দুটি পুরনো খুনের মামলা রয়েছে। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সেলেস্টি রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি ছিলাম সাক্ষী, আমাকে কেন আসামি করা হলো? খুনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে আদালতে দাবি করেন। আদালতে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

অপরদিকে আনার খুনের নেপথ্যে স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডির কথা বলা হলেও ডিবির তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এখনো খুনের কারণ খোলাসা করেনি। চুয়াডাঙ্গার একটি আসনে গত সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ীর সঙ্গে আনার ও শাহিনের সখ্যের তথ্য যাচাই করছে ডিবি। এমপি আনার জাতীয় সংসদের স্পিকার, স্থানীয় থানার ওসি এবং ইউএনওকে না জানিয়ে কেন ঘনঘন ভারতে যেতেন এর জবাব খুঁজছে কলকাতা ও ঢাকার ডিবি। তবে দর্শনা সীমান্ত পুলিশ ও ঝিনাইদহ পুলিশ তার এমন যাতায়াতের ব্যাপারে তেমন কোনো তথ্য দিচ্ছে না বলে জানা গেছে। আত্মগোপনে থাকা আখতারুজ্জামান শাহিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কলকাতা ও ঢাকায় তার পক্ষে আইনজীবী নিযুক্ত করার কথা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১২ মে চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনার গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান এমপি আনার। ওঠেন পশ্চিমবঙ্গে বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে। পরদিন ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আনোয়ারুল আজীম। বাড়ি থেকে বেরোনোর পাঁচ দিন পরে গত ১৮ মে বরাহনগর থানায় আনার নিখোঁজের বিষয়ে একটি জিডি করেন বন্ধু গোপাল বিশ্বাস। এরপরও খোঁজ মেলেনি তিনবারের এই সংসদ সদস্যের। বুধবার হঠাৎ খবর ছড়ায়, কলকাতার পার্শ্ববর্তী নিউটাউন এলাকায় বহুতল সঞ্জীবা গার্ডেন্স নামে একটি আবাসিক ভবনের বিইউ ৫৬ নম্বর রুমে সংসদ সদস্য আনার খুন হয়েছেন।

ঘরের ভেতর পাওয়া গেছে রক্তের ছাপ। তবে ঘরে মেলেনি মরদেহ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ফয়সাল ও মোস্তাফিজুরের দুটি পাসপোর্টই চলতি বছরের ৮ এপ্রিল ঢাকার বিভাগীয় পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে ইস্যু করা হয়। পাসপোর্টে ফয়সালের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে খুলনার ফুলতলা থানার অলকা গ্রাম এবং মোস্তাফিজুরের স্থায়ী ঠিকানা খুলনার ফুলতলার যুগনীপাশা গ্রাম উল্লেখ করা হয়েছে। আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া মোস্তাফিজুর ও ফয়সালকে পাসপোর্ট বানিয়ে দেন।

তবে দুজনেরই বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ঢাকার ক-৩২/১২ নদ্দা। আনারকে কলকাতায় হত্যার পরিকল্পনা সাজিয়েই মোস্তাফিজ ও ফয়সালের পাসপোর্ট করানো হয়। ভারতীয় ভিসা সংগ্রহ করে ১১ মে কলকাতায় প্রবেশ করেন তারা। হত্যাকাণ্ড শেষে ১৭ মে মোস্তাফিজ ও ১৮ মে ফয়সাল দেশে ফিরে আসেন। এ ঘটনায় ক্যাবচালক জুবেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিভিন্ন তথ্য জানতে পারে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (সিআইডি)। এরপরই তাকে নিয়ে অভিযান চালানো হয়।

টাইমলাইন: ভারতে এমপি আজিম হত্যাকাণ্ড

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App