×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

প্রথম পাতা

কাঁচা মরিচের ডাবল সেঞ্চুরি

মাছ মাংস সবজি ও মসলার দাম চড়ছে

Icon

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মাছ মাংস সবজি ও  মসলার দাম চড়ছে

কাগজ প্রতিবেদক : নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে সুখবর মিলছেই না। সরকার কঠোরভাবে বাজার মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিলেও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কিছুতেই কমছে না। মজুতদাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যখন-তখন ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া দামেই কিনতে হচ্ছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি। হাফ সেঞ্চুরি পার করেছে ডিমের হালি। ঘাম ছুটে যাচ্ছে জিরা পেঁয়াজ আর আলুর বাজারের উত্তাপেও। বেড়েছে কাঁচা মরিচের ঝাল। গত প্রায় তিন-চার সপ্তাহ ধরে সবজির দামও চড়া। এছাড়া চাল, আটা, তেল, চিনির মতো নিত্যপণ্যের বাজার আগে থেকে বেড়ে যাওয়া উচ্চমূল্যে স্থির হয়ে আছে। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতাদের অসন্তোষ ও ক্ষোভের শেষ নেই। গতকাল শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়- প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। এক-দেড় মাস ধরে এ দামেই বেচাকেনা হচ্ছে ব্রয়লার। তবে সোনালি মুরগির দাম আগের মতোই ৪০০ টাকা কেজিতে আটকে আছে। যা স্বাভাবিক সময় ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হতো। সুখবর নেই গরুর মাংসপ্রেমীদের জন্যও। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। বাজারে ডিমের হালি হাফ সেঞ্চুরি পার করেছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে ৫৫ টাকা হালিও বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪৫ টাকা, আর তিন সপ্তাহ আগে ছিল ৪০ টাকা।

মুরগির দাম বাড়ার জন্য ব্যবসায়ীরা সাম্প্রতিক তীব্র তাপমাত্রায় মুরগি মরে যাওয়া, উৎপাদন কমে যাওয়া ও পথে চাঁদাবাজিকে দায়ী করেছেন। ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে তদারকি নেই। তাই যে যার মতো জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছে। তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে- তদারকি অব্যাহত রয়েছে। যদিও বাজারে এর কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার থেকে ২৩০ টাকা দামে ব্রয়লার মুরগি কেনার পর আমানুল্লাহ নামের এক ক্রেতা বলেন, বাজারে গিয়ে ব্রয়লারের দাম শুনলে মাথা ঘুরছে। দুই কেজির একটা মুরগি কিনলে ৫০০ টাকা শেষ। একই বাজারের ভাই-ভাই ব্রয়লার হাউসের বিক্রয়কর্মী আমিন উদ্দিন বলেন, কাপ্তান বাজার থেকে সেগুনবাগিচায় মুরগি আনার সময় রাস্তায় দলীয় নেতাকর্মী ও পুলিশকে তিন দফায় চাঁদা দিতে হয়। এছাড়া মাঝেমধ্যে দু-একটা মুরগি মরেও যায়। বিক্রির সময় আমাদের এসব বাড়তি খরচ হিসাব করে দাম নির্ধারণ করা লাগে।

এদিকে, গত দুই সপ্তাহ ধরে সরবরাহ কম থাকায় বাজারে মাছের দামও বেড়েছে। মাছ কিনতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। নদী ও হাওরের মাছ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে গেছে অনেক আগেই। চাষের মাছও এখন বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে রুই মাছ প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, বড় রুই ৪০০, পাঙাশ ২৩০, চিংড়ি আকারভেদে ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা, পাবদা ৪০০, তেলাপিয়া ২২০, চাষের কই ২৮০, কাতল ৩৫০, টেংরা ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, বড় শিং ৫৫০, ছোট শিং ৪০০ টাকা, বড় বোয়াল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা ও বড় আইড় মাছ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, আলু-পেঁয়াজের দামও দেখা গেছে অস্বাভাবিক। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে। এক সপ্তাহ আগেও যা ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ খুব একটা দেখা যায়নি। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দামে। আদা-রসুনের বাজার কয়েকদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। দেশি রসুন ২০০ থেকে ২২০ এবং চায়না রসুনের কেজি ২২০ থেকে ২৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। মসলার মধ্যে জিরার দাম মধ্যখানে কিছুটা কমলেও আবারো বাড়ছে। কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দামে।

এদিকে, সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়েছে কাঁচা মরিচের দাম। এ পণ্যটি কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ২০০ টাকা ছুঁয়েছে। এছাড়া গত তিন-চার সপ্তাহ ধরে বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। বাজারে কাকরোল-বরবটির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। সস্তা দামে পরিচিত পেঁপের কেজিও এখন ৮০ টাকা। ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেড়স ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে প্রতি পিস ফুলকপির দাম ৬০ টাকা, বাঁধা কপি ৬০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস, গাজর ৭০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা। অথচ এসব সবজির প্রায় সবগুলোই এই মৌসুমেরই সবজি।

শান্তিনগর কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. হাসান বলেন, বাজারে এলেই ঘাম ছুটে যায়। সব কিছুতেই আগুন জ্বলা দাম। যে জিনিসের দাম জিজ্ঞেস করি, সেটারই দাম বাড়তি। সবকিছুর বাড়তি দামে নিজের সামান্য আয় দিয়ে আর পেরে উঠছি না। এভাবে কী চলা যায়? তিনি বলেন, কোনোদিনই ব্যাগটা ভরে বাসায় বাজার নিতে পারি না। চারটা জিনিস কিনতে এলে কিনতে পারি সর্বোচ্চ তিনটা। মধ্যবিত্ত পরিবারের আরেক ক্রেতা মো. আয়নাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে সবকিছুর দাম বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো মানুষের কিছুই কিনে খাওয়ার উপায় নেই। তবে বিক্রেতাদের দাবি, গরমের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App