×

প্রথম পাতা

তাপদাহ চলছে, শঙ্কা বাড়াচ্ছে ‘রেমাল’

Icon

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরো শক্তি সঞ্চয় করে আজ শুক্রবার গভীর নি¤œচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর রবিবার সন্ধ্যার মধ্যে ‘রেমাল’ নামে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। ওই সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন এবং আবহাওয়া ভিত্তিক বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাগরে মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকাকে উপকূলের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এদিকে গতকাল রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা অনেক চড়েছে। শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের উপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বইছে। এক দিনের ব্যবধানে ১ থেকে সর্বোচ্চ ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বেড়েছে। সব অঞ্চলেই পারদ গলে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠেছে। তাপের তীব্রতায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাজধানীতে গোটা দিন তীব্র গরম ছিল। তবে বিকাল ৫টার দিকে এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে। যদি ঝড়বৃষ্টি হয়, তাহলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তা না হলে তাপপ্রবাহ আরো এলাকায় বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, লঘুচাপটি সামান্য উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেছেন, লঘুচাপটি আরো ঘনীভূত হয়ে শুক্রবারের মধ্যে নি¤œচাপে পরিণত হতে পারে।

বুলেটিনে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী সময় নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যেতে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) বুলেটিনে বলা হয়েছে, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে হতে শুক্রবার সকাল নাগাদ নি¤œচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর আরো শক্তি সঞ্চয় করে শনিবার সকালের দিকে পরিণত হতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে। তারপর আরো শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর দিকে এগিয়ে ২৬ মে সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে আঘাত হানতে পারে। ওই সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার কথা বলা হলেও আবহাওয়াবিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট করে বলা হচ্ছে, এটি ভারতের উড়িষ্যা অথবা বাংলাদেশের উপকূলে যেতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া সংস্থা ইসিএআই এবং এনসিইপি ইঙ্গিত দিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় রেমাল ওড়িষ্যা উপকূলে আছড়ে পড়বে।

অপরদিকে আইএমডি, এনসিইউএম এবং আইএমডি, এমএমই বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি সঞ্চয় করে বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানবে। আর ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানা শুরু করতে পারে ২৬ মে বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে ২৭ মে রাত ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে।

জলবায়ু ও আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ তার নিজস্ব ওয়েবসাইটে বলেছেন, বঙ্গোপসাগারে সৃষ্ট লঘুচাপটি আজ শুক্রবার গভীর নি¤œচাপে পরিণত হবে। শনিবার এটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা রবিবার সন্ধ্যার মধ্যে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।

‘রেমাল’ একটি আরবি শব্দ, যার বাংলা অর্থ বালু। নামটি দিয়েছে ওমান। বঙ্গোপসাগরে যেসব ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবে সেগুলোর নাম আগে থেকেই ঠিক করা থাকে।

২০২০ সালে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর ১৬৯টি ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়। সেখান থেকেই এবারের ঘূর্ণিঝড়টির নাম নেয়া হবে। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘূর্ণিঝড়ের ঘোষণা দেয়া হয়নি। যখন এ ঘোষণা আসবে তখনই বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এ নি¤œচাপটিকে ?ঘূর্ণিঝড় রেমাল হিসেবে অভিহিত করা হবে।

দেশের তাপমাত্রা বেড়েছে : এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার পাবনার ঈশ্বরদী এবং রাঙ্গামাটি পর্যবেক্ষণাগারে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সীতাকুণ্ডে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওইদিন ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৯, বৃহস্পতিবার যা ৪ ডিগ্রি বেড়ে ৩৮ ডিগ্রিতে উঠেছে। রাজশাহীতে বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৩, গতকাল ৫ ডিগ্রি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮, রংপুরে ছিল ৩১ দশমিক ৫, গতকাল ৭ ডিগ্রি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮, ময়মনসিংহে ছিল ৩৫ দশমিক ৫, গতকাল ২ ডিগ্রি বেড়ে ৩৭ দশমিক ৬, সিলেটে ছিল ৩৬ দশমিক ৫, গতকাল ১ ডিগ্রি বেড়ে ৩৭ দশমিক ৫, চট্টগ্রামে ছিল ৩৫ দশমিক ৮, যা গতকাল এক ডিগ্রি বেড়ে ৩৬ দশমিক ১, খুলনায় ছিল ৩৬ দশমিক ৫, যা গতকাল ১ ডিগ্রি বেড়ে ৩৭ দশমিক ৭ এবং বরিশালে ছিল ৩৫, গতকাল তা ২ ডিগ্রি বেড়ে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তার সঙ্গে জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে গরমের অস্বস্তি বাড়তে পারে।

খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। গতকাল ঢাকায় ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। মোংলায় হয়েছে সামান্য বৃষ্টি। দেশের আর কোথাও বৃষ্টি হওয়ার খবর দেয়নি আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App