×

প্রথম পাতা

১৪ দল শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বসছেন আজ

Icon

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

১৪ দল শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বসছেন আজ

কাগজ প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আজ বৈঠকে বসছেন জোটের প্রধান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়ে জানানো হয়। এরই মধ্যে বৈঠকের আমন্ত্রণ পেয়েছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে যোগ দেয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছেন তারা। জোটের কয়েকজন নেতা নিজেদের মধ্যে আলোচনাও সেরে নিয়েছেন। মঙ্গলবার জোটের শীর্ষ নেতা ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বাসায় বৈঠক করেন তারা। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী আলোচনা করবেন, তা নিয়ে আলোচনা করেন নেতারা। বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি কেউই। তবে বৈঠকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী নানা বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জোটের কেউ কেউ- এমন আভাস দেন নামপ্রকাশে অনচ্ছিুক এক নেতা।

জানা গেছে, মঙ্গলবারের ওই বৈঠকে রাশেদ খান মেনন ছাড়াও অংশ নেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাসহ জোটের বেশ কয়েকজন নেতা। বৈঠকসূত্রে জানা গেছে, জোটের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিন পর জোটের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকে জোটের নেতারা কে কী কথা বলবেন, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সেখানে কেউ কেউ নির্বাচনের আগে জোটের আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা, শেষ পর্যন্ত কাক্সিক্ষত আসনে ছাড় না পাওয়া, কিছু আসনে ছাড় পেলেও আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র অন্য প্রার্থীদের নিরুৎসাহিত না করাসহ নানা বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জোটের ভবিষ্যৎ কী হবে, জোটের নেতারা মূল্যায়ন পাবে কিনা, সেসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন তারা। এসব বিষয়ে একমত হয়েছেন নেতারা। তবে তারা আগে ১৪ দলের ভবিষ্যৎ ও কর্মপরিধি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা

শুনে পরে মন্তব্য করতে চান বলেও মত দেন কেউ কেউ।

এদিকে মঙ্গলবারের বৈঠক নিয়ে জোটের শীর্ষ নেতা ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, আমরা নিজেদের মধ্যে কিছু আলোচনা করেছি। জোটের প্রধান শেখ হাসিনা ১৪ দলকে গণভবনে ডেকেছেন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হবে। আমরা বৈঠকে অংশ নেব। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু ১৪ দলের প্রধান। তিনি ১৪ দলের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এটি আমাদের আদর্শিক জোট। আমরা আগে প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনব। দেখি তিনি কী বলেন। এরপর আমরা আমাদের কথা জানাব।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৪ দলীয় জোটের শরিক নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার এটাই হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ১৪ দলের সঙ্গে গণভবনে সর্বশেষ বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের ওই বৈঠকে জোটবদ্ধ নির্বাচন ও আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর আর কোনো বৈঠক হয়নি। আজকের বৈঠকটি প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজকের বৈঠকে জোটের কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ২০০৮ সালে ২৩ দফার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ১৪ দলীয় জোট। ওই সময় থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জোটগতভাবে আসন ভাগাভাগি করে নির্বাচনে অংশ নেয় জোটের শরিকরা। নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে শরিকদের প্রতিনিধিত্ব ছিল। তবে সর্বশেষ একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় শরিক দলের কাউকে রাখা হয়নি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের ১৬টি আসনে ছাড় দেয়া হলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা কমিয়ে ৭টি করা হয় আওয়ামী লীগের তরফ থেকে। কিন্তু এই ৭ আসনেও আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় শরিক দলের দুই শীর্ষ নেতা নির্বাচনে পরাজিত হন। এরপর থেকেই নানা কারণে জোট শরিকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। জোটের শীর্ষ কয়েকজন নেতার বক্তব্যে বিভিন্ন সময় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ পায়। জোট ভবিষ্যতে থাকবে কী থাকবে না- তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

গত ২ মে থাইল্যান্ড সফর নিয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে ১৪ দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে জোটের প্রয়োজনীতার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ১৪ দলীয় জোট আছে, থাকবে। নির্বাচনে ১৪ দলের অনেকে প্রার্থী দিয়েছিল, নির্বাচন করেছে, আর নির্বাচনে জেতা না জেতা আলাদা কথা, কিন্তু আমাদের এই জোট আছে, থাকবে। ১৪ দলের সঙ্গে খুব শিগগির বৈঠকে বসবেন বলেও জানান শেখ হাসিনা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App