×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

প্রথম পাতা

কলকাতার ফ্ল্যাটে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ড

মূলহোতা আখতারুজ্জামান

Icon

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মূলহোতা আখতারুজ্জামান

** সন্দেহে ক্ষমতার পালাবদল ও হুন্ডি ব্যবসার দ্ব›দ্ব ** ১৩ মে সঞ্জীবা গার্ডেন্সে লাশ টুকরো করা হয় ** হত্যার পর ব্লিচিং দিয়ে রক্ত পরিষ্কার করে খুনিরা ** এমপির সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে থাকা তরুণী দিচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ** হত্যায় জড়িত আমানউল্লাহ ও তানভির গ্রেপ্তার **

ইমরান রহমান : ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে ভারতের কলকাতায় হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করার ঘটনায় দুদেশেই আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কারা কী কারণে তাকে কলকাতায় হত্যা করল- এ প্রশ্ন সবার। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার ও দুই তরুণীসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া মূলহোতা হিসেবে শাহিন নামে একজনের নাম এসেছে। যিনি এমপি আনারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এমনকি কলকাতায় গিয়ে আনার যে ফ্ল্যাটে উঠেছিলেন, সেটির পাশের কক্ষেই অবস্থান করছিলেন শাহিন। নিজের রুমে আনারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন তিনি। ঘটনার সময় আনারের সঙ্গে এক তরুণী ছিলেন। যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, ১৩ মে দুপুরে আনারকে হত্যা করা হয়েছে। আর এ পুরো হত্যাকাণ্ডের ছক এঁকেছেন এমপি আনারের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আক্তারুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি। যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী। এমপি আনার খুন হওয়া কলকাতার নিউ-টাউনে সঞ্জীবা গার্ডেন্সের ৫৬/বিইউ ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন এই আক্তারুজ্জামান। তবে তিনি নিজে ওই ফ্লাটে যাননি। কিলিং মিশনে লোক পাঠিয়ে নিজে বাংলাদেশ থেকে নেপাল হয়ে দিল্লি যান, এরপর দিল্লি থেকে দুবাই চলে গেছেন। কী কারণে আক্তারুজ্জামান এই ঘটনা ঘটালেন- সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে, হত্যাকাণ্ডের পর কলকাতার পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে- ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করা দুই যুবক ১৮ মে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যারা গত মাসে খুলনার একটি ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্ট বানিয়ে প্রথমবারের মতো কলকাতা গিয়েছে। যদিও ঢাকার ডিবি পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া আমানউল্লাহ ও তানভির আগেও কলকাতা গিয়ে থাকতে পারে।

এদিকে ১৩ মে তারিখে এমপি আনার খুন হওয়ার বিষয়ে ওই তরুণী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ওইদিন দুপুরে তিনি শাহিনের কক্ষে ব্লিচিংয়ের তীব্র গন্ধ পেয়েছেন। কিন্তু দুপুরে শাহিন তার সঙ্গে খাবার খাওয়ায় বিষয়টি সন্দেহ করেননি ওই তরুণী। কারণ এমপি আনারকে হত্যা করা হবে- বিষয়টি তার মাথায়ই আসেনি। শাহিনও বলেছিলেন- এমপি জরুরি কাজে বাইরে গিয়েছেন। গোয়েন্দারা জানিয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটানো এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত কমপক্ষে ৫ জন। যাদের মধ্যে ইতোমধ্যে আমানউল্লাহ ও তানভির নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শাহিন, রাজা ও সিয়াম নামে আরো ৩ জন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকতে পারে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য নায়ক আখতারুজ্জামান। যার বাড়ি এমপি আনারের বাড়ির পাশে। আর জিজ্ঞাসাবাদের ওই তরুণীকে এমপি আনার নিজেই কলকাতা নিয়ে গিয়েছিলেন। আরো এক তরুণীকে কলকাতা নিয়ে যেতেন আনার। ওই দুই তরুণীই একে অপরের পরিচিত। তাদের মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সময় যে তরুণী ছিলেন; তিনি কলকাতা নিউমার্কেটের বিভিন্ন দোকান থেকে কেনাকাটাও করেছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অনেক বছর ধরে হুন্ডি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক ছিলেন এমপি আনার। রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ও ওই হুন্ডি ব্যবসার দ্ব›দ্ব এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ।

ডিবি জানিয়েছে, কলকাতার নিউ-টাউনে ৫৬/বিইউ হোল্ডিংয়ের সঞ্জীবা গার্ডেন্সের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে উঠেছিলেন এমপি আনার। কলকাতা যাওয়ার পর থেকেই তিনি চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী জানিয়েছে। সিঁড়ি দিয়ে কেউ হেঁটে গেলেও তিনি উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করতেন। ১৪ মে সঞ্জীবা গার্ডেন্সের ওই ফ্ল্যাট ছেড়ে অন্য একটি হোটেলে উঠবেন বলে ওই তরুণীকে জানিয়েছিলেন আনার। ১৫ মে একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরে আসার কথা ছিল তাদের। এরই মধ্যে এমপি আনারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানতে পারেন ওই তরুণী। তবে ওই ফ্ল্যাটে শাহিন ছাড়া রাজা ও সিয়াম নামে দুজনের উপস্থিতি দেখতেন তিনি।

আলোচনায় চরমপন্থি নেতা শাহিন : ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করা শাহিন আসলে কে? সে বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও এক শীর্ষ চরমপন্থি নেতার সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে। কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা এলাকার একসময়ের ত্রাস কথিত চরমপন্থি সংগঠন গণমুক্তি ফৌজের শীর্ষ কমান্ডার শাহীনুর রুমি ওরফে শাহিন। অনেক বছর ধরে তিনি কলকাতায় অবস্থান করছেন বলে কথিত রয়েছে। এমনকি ২০০৮ ও ২০১০ সালে দুবার ভারতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও যান তিনি। তার বেশ কয়েকজন অনুসারীকে কলকাতায় নিয়ে হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালানে যুক্ত করেছিলেন বলেও খবর রয়েছে। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন সেটি নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে নানা সময়ে। শাহিনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানায় ১৫টি হত্যা, ২টি চাঁদাবাজির মামলা এবং ৮টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে বলে জানা গেছে। এমপি আনারের ফ্ল্যাটে অবস্থান করা শাহিন আর চরমপন্থি নেতা শাহিন একই ব্যক্তি হতে পারেন বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন গোয়েন্দারা। যদিও সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ থেকে জানানো হয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই শাহিন নিয়ে কোনো আলোচনা নেই।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হুন্ডি ব্যবসা এবং ঢাকা থেকে সড়কপথে ভারতে স্বর্ণ চোরাচালানের রুট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে আনারের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে, ঢাকা বা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভারতে হুন্ডিতে টাকা পাঠানোর সিন্ডিকেটের একটি বড় ‘চেইন’ ঝিনাইদহে নিয়ন্ত্রিত হয়। অর্থাৎ ভারতের হুন্ডি সিন্ডিকেট যোগাযোগ করে ঝিনাইদহে। ঝিনাইদহ থেকে ভারতে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে টাকা (ভারতীয় রুপি) পৌঁছে দেয়ার মেসেজ পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে দুই দেশের হুন্ডি সিন্ডিকেটের মধ্যে টাকা/রুপি অবৈধ লেনদেনের সময় একটি মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে এমপি আজিমের বিরুদ্ধে। এছাড়া দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য থাকায় ক্ষমতার পালাবদলের জন্য এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে। যদিও আনারের দেহাংশ এখনো মেলেনি। তবে ওই ফ্ল্যাটে রক্তের নমুনা মিলেছে।

পরিকল্পিত হত্যা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : আনোয়ারুল আজিম আনারকে ভারতের কলকাতায় পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, এমপি আনার খুনের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু বলা যাবে না। গতকাল বুধবার ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যৌথভাবে দুই দেশের পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে ভারতীয় পুলিশ আমাদের কাছে যে ধরনের সহযোগিতা চাইছে, তা আমরা দিচ্ছি। এমপি আনার হত্যার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কের কোনো অবনতি ঘটবে না বলেও জানান তিনি।

‘দুই রাষ্ট্রের বিষয় নয়’ জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী : এমপি আনারের রহস্যজনক হত্যার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন, কলকাতায় নিউটাউন এলাকায় যে ফ্ল্যাটে আনারকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে তার লাশ পাওয়া যায়নি। তবে হত্যাকাণ্ডের ‘মূলহোতা’সহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। কলকাতা পুলিশও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

যা বললেন ডিবিপ্রধান : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, এ ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেছেন নিহতের মেয়ে ডরিন। আমাদের কর্মকর্তারা তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন। রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হারুন বলেন, নিহত এমপির মেয়ে ডরিন আমাদের কাছে এসেছেন। তার বাবা সংসদ ভবন এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকে তিনি ভারতে গেছেন। আমরা তাকে বলেছি, শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করতে। মামলা করতে আমাদের কর্মকর্তারা তাকে সহযোগিতা করছেন। পরে গতকাল সন্ধ্যায় মামলা নথিভুক্ত হয়।

হারুন অর রশীদ বলেন, এই ঘটনাটি মর্মান্তিক। তিনি ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ এলাকার জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি। তার এলাকার মানুষ স্তম্ভিত। আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। তিনি তিনবারের সংসদ সদস্য। এটি নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড এটা মনে করেই তদন্তকারী কর্মকর্তারা কাজ করছেন। নিবিড়ভাবে ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কয়েকজন আমাদের কাছে আছে, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা সবকিছু বলতে পারছি না।

তিনি আরো বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে বাংলাদেশি অপরাধীরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি যারা আছে, তাদের প্রত্যেককে আমরা আইনের আওতায় আনবো। বিচারের মুখোমুখি করব। তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। কী কারণে হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তা জানা গেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, আসলে এটা কী কারণে ঘটেছে জানতে আমাদের তদন্ত চলছে। এটা পারিবারিক নাকি আর্থিক, অথবা এলাকায় কোনো দুর্বৃত্ত দমন করার কারণে, এমন ঘটনা ঘটেছে কিনা, সবকিছু আমরা তদন্তের আওতায় আনবো।

লাগেজে গুম করা হয় লাশ : কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১৩ মে দুপুরের পর এমপি আনারকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীবা গার্ডেন্সে। সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন দুই পুরুষ ও এক নারী। তারা চারজনেই ওঠেন আবাসনের বি ইউ ব্লকের ৫৬ নম্বর ফ্ল্যাটে।

রক্তের দাগ ও একাধিক পায়ের চিহ্ন দেখে পুলিশের অনুমান, ওই রাতে চারজন একসঙ্গেই ছিলেন। এরপর সেখানে তাকে হত্যা করা হয়। পরে লাগেজে করে মরদেহের টুকরো বের করে নেয় দুষ্কৃতকারীরা। এ কাজ করতে সময় লাগে তিন দিন। তারা পরিকল্পিতভাবে প্রতিদিনই লাগেজ নিয়ে একজন করে বের হয়েছে। পুলিশের অনুমান, প্রথমে বের হন ওই নারী। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। তবে কারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তারা বাংলাদেশি নাকি ভারতীয় এ নিয়ে পুলিশ মুখ খোলেনি।

রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অখিলেশ চতুর্বেদী গণমাধ্যমকে বলেছেন, এখনই তদন্তের স্বার্থে কিছু বলব না। সিসিটিভি ফুটেজ ও লিংকম্যানের মাধ্যমে তদন্ত শিগগিরই শেষ হবে। পুলিশ জানায়, ওই ফ্ল্যাটের মালিক সন্দীপ রায়। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবগারি বিভাগে রয়েছেন। অথচ তিনি ফ্ল্যাটটি ভাড়া দিয়েছিলেন আখতারুজ্জামান (হত্যার পরিকল্পনাকারী) নামে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাংলাদেশিকে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ওই বাংলাদেশি কোথায়? এ বিষয়ে সেখানকার পুলিশ বলছে, এখনই এ নিয়ে কোনো তথ্য দেব না। তবে পুলিশ নিশ্চিত, এটি নিখোঁজের ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। এখন ফ্ল্যাটে ফরেনসিক বিভাগের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। জানা গেছে, যে ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজিম ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে, সেই ফ্ল্যাটে রক্তের দাগ মিলেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সেখান থেকে আঙুলের ছাপ এবং রক্তের নমুনা নিয়েছে।

যেভাবে মিলল ক্লু : পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিস্ট ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে নেমে তারা প্রথমে এমপি আনোয়ারুল আজিমকে বহনকারী ক্যাবচালককে চিহ্নিত ও আটক করেন। সেই ক্যাবচালক তাদের জানিয়েছেন, এমপি আজিমকে তার গাড়িতে তোলার পর আরো তিনজন গাড়িতে ওঠেন। তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। পরে এই চার জন কলকাতা নিউটাউনের ওই বাড়িতে যান। সিসিটিভি ফুটেজে ওই চারজনকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। পরে তিনজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেও তাদের মধ্যে এমপি আনোয়ারুলকে আর দেখা যায়নি।

এটিএফ (অ্যান্টি-টেরোরিজম ফ্রন্ট) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এদের মধ্যে পুরুষ দুজন ১৮ মে বাংলাদেশে ফিরে যান। বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগকে জানানো হলে তারা সেই দুজনকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এই দুজনই তানভির ও আমানউল্লাহ। তাদের দেয়া তথ্য কলকাতার পুলিশকে জানানো হয়েছে। এরপরই এমপি আনোয়ারুল আজিমের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয় পুলিশ। নিউটাউনের ফ্ল্যাটের ভেতরে রক্তের দাগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে ফ্ল্যাটে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সেটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। সেখানে কাউকে এখন ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে এমপি আজিম চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। ওই দিন সকালে নিজের গাড়িতে তিনি একাই দর্শনার উদ্দেশে রওনা হন। বেলা ১১টার দিকে তিনি দর্শনা চেকপোস্ট পার হয়ে ভারতের গেদে স্টেশনে প্রবেশ করেন। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে অল্প সময়ের মধ্যে ওপারের একটি ইঞ্জিনচালিত রিকশায় রওনা হন। এ সময় তার সঙ্গে একটি লাগেজ ছিল। তিনি চলে যাওয়ার পর চালক তরিকুল ইসলাম গাড়ি নিয়ে কালীগঞ্জে ফেরেন। এরপর ১৮ মে কলকাতার বরাহনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এমপি আনারের দীর্ঘদিনের বন্ধু স্বর্ণ কারবারি গোপাল বিশ্বাস।

এরপর থেকেই এমপি আনারকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে ভারতীয় পুলিশ। আনোয়ারুল আজিম আনার ঝিনাইদহ-৪ (সদর ও কালীগঞ্জ) আসনে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টানা তিন বার আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অনেকে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App