×

প্রথম পাতা

নিহত ৫৯

গাজায় শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা

Icon

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ ডেস্ক : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির জাবালিয়াসহ দুই শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৫৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন অনেকে। কাতারভিত্তিক আল জাজিরার খবরে বলায়, গাজা উপত্যকার জাবালিয়া ও নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলায় জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে অন্তত ২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। আহত হন বহু মানুষ। যাদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ চাপা পড়ে আছেন।

অন্যদিকে স্থানীয় সময় গতকাল রবিবার ভোরে নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে হামলায় ৩১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সেখানেও আহত হন কয়েক ডজন। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে।

গত শনিবার গাজার উত্তরাঞ্চলে জাবালিয়া এবং দক্ষিণে মিশর সীমান্তের রাফা নগরীর আরও গভীরে ট্যাংক নিয়ে ঢুকে ইসরায়েলি সেনাদের চালানো অভিযানে বেশ কিছুসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিবাসী ও চিকিৎসাকর্মীরা।

গত শনিবার ইসরায়েলের সেনারা ট্যাংক নিয়ে স্থল অভিযানে জাবালিয়ার গভীরে ঢুকে রাস্তায় রাস্তায় হামলা চালায় বলে জানিয়েছেন অধিবাসীরা। তাদের একটি হামলাতেই ১৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি আহত হন। গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় এবং জরুরি নাগরিক সেবা বিভাগ জানিয়েছে, তারা হতাহতের ঘটনার একাধিক ফোন কল পেয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলের স্থল ও বিমান হামলা চলার কারণে অনুসন্ধান কাজ চালাতে পারছে না। একটি চ্যাট অ্যাপে জাবালিয়ার এক অধিবাসী রয়টার্সকে বলেছেন, ‘বিমান এবং ট্যাংক থেকে অবিরাম গোলা হামলা চলছে। আমরা জানি কয়েক ডজন মানুষ হতাহত হয়েছে। কিন্তু কোনো অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারছে না।’

গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েল গত জানুয়ারিতে অভিযান শেষের ঘোষণা দেয়ার পর এ মাসে আবারো সেখানে অভিযান চালাতে ফিরে গেছে। ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে আবার সংগঠিত হতে না দেয়ার জন্য ইসরায়েল ফের উত্তর গাজায় হানা দিল। সেখানকারই একটি স্থান হচ্ছে জাবালিয়া শরণার্থী শিবির। গাজার আটটি শরণার্থী শিবিরের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়।

এদিকে রাফায় ইসরায়েলের ট্যাংক পূর্বাঞ্চলের শহরতলীতে ঢুকে পড়েছে। সেখানে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সঙ্গে তাদের লড়াই চলছে। গত শনিবার সারারাত ইসরায়েলের বিমান এবং স্থল হামলা চলার কথা জানালেন স্থানীয় অধিবাসীরা।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে এই দশকের সবচেয়ে বড় হামলা চালায় হামাস। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৩৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত ৭৯ হাজার ছাড়িয়েছে।

রাফায় ৮ লাখ ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু হয়েছে : জাতিসংঘ

গাজার দক্ষিণের শহর রাফায় গত সপ্তাহ থেকে অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর পর রাফা থেকে অন্তত আট লাখ ফিলিস্তিনি জীবন বাঁচাতে পালিয়েছেন, উদ্বাস্তু হয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ। আল জাজিরা এ খবর দিয়েছে। ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি গত শনিবার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনিদের বারবার বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ফিলিস্তিনিরা বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তারা বারবার পালাতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু নিরাপদ আশ্রয় পায়নি। এমনকি জাতিসংঘ পরিচালিত বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রেও তারা নিরাপদ ছিল না।

পদত্যাগের হুমকি ইসরায়েলি মন্ত্রীর :

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকার জন্য যুদ্ধ পরবর্তী কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন দেশটির যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য বেনি গানৎয।

তিনি এ ধরনের একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে ‘কৌশলগত লক্ষ্য’ অর্জনের জন্য ৮ জুন পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এ লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে গাজায় হামাসের শাসনের অবসান এবং সেখানে একটি বহুজাতিক বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা। বিবিসি জানায়, মন্ত্রিসভার সদস্য বেনি গানৎয বলেন, ‘আপনি যদি ব্যক্তির ওপর জাতীয় স্বার্থকে রাখেন তাহলে সংগ্রামে আমাদের অংশীদার হিসেবে পাবেন। কিন্তু আপনি যদি ধর্মান্ধতার পথ বেছে নেন এবং জাতিকে রসাতলে নিয়ে যান তাহলে আমরা সরকার থেকে চলে যেতে বাধ্য হব।’ নেতানিয়াহু অবশ্য এ মন্তব্যকে বাতিল করে দিয়ে যে শব্দ উল্লেখ করেছেন তার অর্থ হলো ‘ইসরায়েলের জন্য পরাজয়’। গাজায় লড়াই যখন তীব্র হচ্ছে তখন যুদ্ধের নির্দেশনা নিয়ে বা কীভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে ইসরায়েলে রাজনৈতিক বিবাদ বেড়েই চলেছে। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট নেতানিয়াহুকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন প্রকাশ্যেই ঘোষণা দেন যে গাজার সামরিক বেসামরিক শাসনের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার কোনো পরিকল্পনা ইসরায়েলের নেই। গ্যালান্ট আরো বলেন, তিনি কয়েক মাস ধরে এটি বলে যাচ্ছেন কিন্তু কোনো প্রত্যুত্তর পাচ্ছেন না। তিনি এবং গানৎয বলছেন, গাজায় সামরিক নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখাটা ইসরায়েলের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে। নেতানিয়াহুর জোট সরকারের ডানপন্থি সদস্যরা অবশ্য মনে করেন হামাসকে পরাজিত করতে গাজার ওপর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা দরকার। গত শনিবার টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে গানৎয প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর উদ্দেশে বলেন, ‘ইসরায়েলের মানুষ আপনাকে দেখছে আপনাকে অবশ্যই ইহুদীবাদ ও অবিশ্বাস, ঐক্য ও বিভক্তি, দায়িত্ব ও অরাজকতা, বিজয় কিংবা বিপর্যয়ের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে’।

তার কৌশলগত লক্ষ্যের মধ্যে আরও আছে এখনো হামাসের হাতে থাকা সব ইসরায়েলি ও বিদেশি জিম্মিকে মুক্ত করা এবং ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের উত্তর গাজায় ফিরিয়ে আনা।

এর জবাবে নেতানিয়াহু বলেছেন, গানৎযের দাবি যুদ্ধের অবসান ঘটাবে এবং ইসরায়েলের পরাজয় নিয়ে আসবে, জিম্মিদের পরিত্যক্ত করে ফেলবে, হামাসকে অক্ষত রাখবে এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে নিয়ে যাবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App