×

প্রথম পাতা

তীব্র হচ্ছে লড়াই

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হামাস

Icon

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 দীর্ঘমেয়াদি  যুদ্ধের জন্য  প্রস্তুত হামাস

কাগজ ডেস্ক : ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এক ভিডিও বার্তায় হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জ এল-দিন আল-কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবায়দা বলেছেন, আমরা আমাদের জনগণের ওপর আগ্রাসন বন্ধ করার বিষয়ে পূর্ণ প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। তবে শত্রæকে নিঃশেষ করতে আমরা তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ করতে প্রস্তুত।

আবু উবায়দা বলেন, আল-কাসাম ব্রিগেডের যোদ্ধারা গত ১০ দিনে গাজাজুড়ে ইসরায়েলের একশ সামরিক যান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী যে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে, সে বিষয়ে তারা সব প্রকাশ করছে না। তিনি আরো দাবি করেন, রাফা শহরের পূর্বাঞ্চলে হামাস যোদ্ধারা শত্রæপক্ষের (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) ওপর কঠিন আঘাত হেনেছেন।

গাজার উত্তরাঞ্চলে তীব্র লড়াই : গাজার উত্তরাঞ্চলীয় শহর জাবালিয়ার সরু গলিপথগুলোয় হামাসের যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র লড়াই হচ্ছে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গাজার ঐতিহাসিক ৮টি শরণার্থী শিবিরের মধ্যে বৃহত্তম জাবালিয়ার কেন্দ্রস্থলের বাজার এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সাঁজোয়া বহর ঢুকে পড়েছে, তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বুলডোজারগুলো বাড়ি, দোকানসহ যা পড়ছে সব গুড়িয়ে দিচ্ছে। ভিডিও কলে পশ্চিম জাবালিয়ার বাসিন্দা আয়মান রজব বলেন, বিমান ও ট্যাঙ্কগুলো আবাসিক এলাকা, মার্কেট, দোকান, রেস্তোরাঁসহ সবকিছু গুড়িয়ে দিচ্ছে।

ইসরায়েল জানিয়েছিল, গাজা যুদ্ধের প্রথমদিকেই তাদের বাহিনী জাবালিয়া পরিষ্কার করে ফেলেছিল, কিন্তু হামাসের যোদ্ধাদের ফের সংঘটিত হওয়ার প্রচেষ্টা রুখে দিতে গত সপ্তাহে আবার তাদের বাহিনী সেখানে ফিরেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, গত কয়েকদিনে তাদের সেনারা জাবালিয়ায় ৬০ জনেরও বেশি হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং একটি ‘ডিভিশনাল পর্যায়ের অভিযানে’ অস্ত্র গুদাম খুঁজে পেয়েছে।

ডিভিশনাল পর্যায়ের অভিযানে সাধারণত কয়েক হাজার সেনা সংবলিত বেশ কয়েকটি ব্রিগেড অংশ নিয়ে থাকে, তাতে এটি গাজা যুদ্ধের অন্যতম বৃহত্তম অভিযানের রূপ নিয়েছে। আইডিএফ বলেছে, ৭ম ব্রিগেডের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বহু বিমান হামলা পরিচালনা করেছে, এতে শত্রæরা ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি তাদের অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

ইসরায়েলি কমান্ডাররা বলেছেন, গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের মধ্যে সম্ভবত শুক্রবার সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই হয়েছে। কারণ, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা এ শরণার্থী শিবিরের সরু গলির আপেক্ষিক সুবিধা পাচ্ছে। তারা রকেটচালিত গ্রেনেড এবং বিস্ফোরক ডিভাইস দিয়ে আক্রমণ করছে।

রাফায় ইসরায়েলি ট্যাঙ্কে হামাসের হামলা : গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফার চারপাশে জড়ো হওয়া ইসরায়েলি ট্যাঙ্কগুলোয় হামাসের যোদ্ধারা হামলা চালিয়েছে। গত শুক্রবার ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক ও যুদ্ধবিমানগুলো রাফার কয়েকটি অংশে বোমাবর্ষণ করেছে। মিসরের সীমান্তবর্তী রাফার আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা গেছে।

হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেড ও তাদের মিত্র ইসলামিক জিহাদ জানিয়েছে, রাফার পূর্বদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এবং মিসরের সঙ্গে সীমান্ত ক্রসিংয়ের ভেতরে জড়ো হওয়া ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে তারা ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী গোলা ও মর্টারের গোলা ছুড়েছে।

গত সপ্তাহে গাজার সর্বদক্ষিণের শহর রাফায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজায় ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর বিভিন্ন স্থান থেকে বহু ফিলিস্তিনি পালিয়ে আশ্রয় নেন এখানে। গাজার অপেক্ষাকৃত নিরাপদ শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল রাফা। রাফায় বাড়তে থাকা ইসরায়েলি হামলার কারণে শহরটি থেকে কয়েক লাখ মানুষ পালিয়ে গেছে। এরই মধ্যে রাফা ক্রসিংয়ের ফিলিস্তিন অংশ দখল করে নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বাইরে থেকে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এ ক্রসিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েল হয়ে বাকি বিশ্বে যাওয়ারও একমাত্র পথ এটি।

জেনিভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র জিনস লার্কে বলেছেন, লোকজন আতঙ্কিত হয়ে আছে আর পালানোর চেষ্টা করছে। ইসরায়েলের নির্দেশ অনুযায়ী অধিকাংশ বাসিন্দা উত্তর দিকে উপকূলের দিকে সরে যাচ্ছে কিন্তু সেখানে যাওয়ার মতো কোনো নিরাপদ সড়ক বা গন্তব্য নেই। ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের মূল ত্রাণ সংস্থা জানিয়েছে, ৬ মে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর রাফা থেকে ৬ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ পালিয়ে গেছে।

তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গাজার উপকূলে তাদের স্থাপিত অস্থায়ী জেটি থেকে ত্রাণ নিয়ে ট্রাকগুলো ভূখণ্ডটির ভেতরে প্রবেশ করা শুরু করেছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথম অবরুদ্ধ গাজায় সাগরপথে ত্রাণ পৌঁছানো শুরু হল। তবে এ উদ্যোগ কোনোভাবেই স্থলপথে ত্রাণ সরবরাহের বিকল্প হতে পারবে না বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

৩ জিম্মির মৃতদেহ উদ্ধার : ইসরায়েলি সৈন্যরা গাজা থেকে ৩ জিম্মির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)। জিম্মিরা হলেন- শানি লৌক, অমিত বুসকিলা এবং ইতজ্যাক গেলেরেন্টার। আইডিএফ বলেছে, তাদের গত ৭ অক্টোবর হত্যা করে মৃতদেহ গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী মৃতদেহ হামাসের একটি টানেলে পাওয়া গেছে। আইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, রাতভর এক অভিযানের সময় মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে নোভা উৎসবে যেখানে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল তার কাছেই একটি ইন্টারসেকশনে ওই ৩ জনকে হত্যার পর মৃতদেহগুলো গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ওই উৎসবস্থলে ৩৬০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। সেদিন হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে প্রায় ১২০০ জনকে হত্যা করে। এ সময় তারা আরো ২৫২ জনকে ধরে গাজায় নিয়ে জিম্মি করে রাখে।

নভেম্বরে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলি কারাগার থেকে ২৪০ জন ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তির বিনিময়ে হামাস এ পর্যন্ত ১০৫ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। তবে এটা এখনো পরিষ্কার নয় যে বাকি জিম্মিদের কতজন এখনো জীবিত রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App