×

প্রথম পাতা

প্রতিপক্ষের ব্রাশফায়ারে নিহত ২

স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে ফের সক্রিয় আঞ্চলিক দলগুলো

Icon

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নন্দন দেবনাথ, রাঙ্গামাটি থেকে : আসন্ন তৃতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে আবারো অস্থির হয়ে উঠেছে রাঙ্গামাটির পাহাড়ি এলাকা। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে পার্বত্য অঞ্চলের রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু, নানিয়ারচর উপজেলার ভিন্ন এলাকায় আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর আধিপত্য লড়াইয়ের কারণে নির্ঘুম রাত পার করছেন এলাকার সাধারণ জনগণ। তাই পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

জানা গেছে, পাহাড়ের অস্থিরতা ঘিরে আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইডেট পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) আধিপত্য লড়াই লেগেই রয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে লংগদু উপজেলায় মনপতি বাজারে জেএসএস সশস্ত্র গ্রুপের ব্রাশফায়ারে ইউপিডিএফের কালেক্টরসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ সকালে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে। অন্যদিকে গত ১৪ মে বাঘাইছড়ির বঙ্গলতলী গ্রামে জেএসএসের সঙ্গে ইউপিডিএফের ঘণ্টাব্যাপী বন্দুক যুদ্ধে প্রায় ১ হাজার রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। তবে এই ঘটনায় হতাহাতের কোনো তথ্য পায়নি প্রশাসন। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এই ধরনের সংঘাত ভোটার ও নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মনে শঙ্কা তৈরি করছে।

এলাকার সাধারণ ভোটার ও নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলেন, ২০১৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে নির্বাচনী কাজ শেষে ফেরার পথে সন্ধ্যায় দীঘিনালা-বাঘাইছিড়ি সড়কে ব্রাশফায়ারে ৮ জন নিহত ও অনেক নির্বাচনী কর্মকর্তা আহত হন। এখনো অনেকে পঙ্গু হয়ে তাদের জীবনযাপন করছেন। আবারো নতুন করে বাঘাইছড়ি উপজেলায় নির্বাচনে কার্যক্রমে বাধা আসতে পারে এমটাই মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. ওমর ফারুক বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই ঘটনাগুলো ঘটছে। নির্বাচনকে ঘিরে তাদের সক্রিয় অবস্থান ভোটারদের মনে শঙ্কা তৈরি করছে। ভোটারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন না। এই কালচার পরিবর্তন করতে হবে। শনিবার যে দুইজন ইউপিডিএফ কর্মী নিহত হয়েছেন, তাতে প্রতিপক্ষও থেমে থাকবে না। তারাও পাল্টা প্রতিশোধ নেবে। তাই আইনশৃঙ্খলা জোরদার করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ও রাঙ্গামাটির সুশীল সমাজের প্রতিনিধি নিরূপা দেওয়ান বলেন, পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অনেক মায়ের বুক খালি হচ্ছে। গতকাল শনিবার দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তাদের পরিবার জানে তাদের কী ক্ষতি হয়েছে। যারা মেরেছে তাদের কী কোনো ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের এটি আরো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা আরো জোরদার করা প্রয়োজন। সরকারের উচিত জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, আগামী ২৯ মে বাঘাইছড়ি, লংগদু, নানিয়াচরের উপজেলা নির্বাচন। এটিকে সামনে রেখে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে আঞ্চলিক দলগুলো। আমি মনে করি আলোচনার মাধ্যমে এই সংঘাত বন্ধ করা প্রয়োজন। সরকারকেই এটির উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি কখনোই ফিরে আসবে না।

রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদের কাছে লংগদুর নিহতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পার্বত্য আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর তৎপরতা চলমান ও আগামী নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, এটি তাদের সাংগঠনিক আধপিত্য বিস্তারকে নিয়ে হয়েছে। তবে আমরা এই সব কিছু মাথায় রেখে আগামী নির্বাচনের নিরাপত্তাকে সাজিয়েছি। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাসহ সব সংস্থাকে নিয়ে সঠিক প্ল্যান নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি এই রকম কোনো ধরনের ঘটনা এইখানে হবে না। তবে আমরা পাহাড়ের প্রতিটি এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছি।

এ ঘটনায় গতকাল শনিবার ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) রাঙামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা সংবাদ মাধমে এক বিবৃতি দেন। এতে তিনি লংগদুতে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসী কর্তৃক ইউপিডিএফের এক সদস্য ও এক সমর্থককে গুলি করে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার সময় লংগদুর ভালেদি ঘাটের পার্শ্ববর্তী স্থানে সন্তু গ্রুপের ৭ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এসে সেখানে সাংগঠনিক কাজে নিয়োজিত ইউপিডিএফ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ হামলায় ঘটনাস্থলে ইউপিডিএফ সদস্য বিদ্যা ধন চাকমা ওরফে তিলক (৪৫) ও সমর্থক ধন্য মনি চাকমা (৩৫) নিহত হন।

বিবৃতিতে সচল চাকমা অবিলম্বে লংগদুতে ইউপিডিএফ কর্মী, সমর্থককে হত্যাকারী, খুনি, সন্ত্রাসী এবং তাদের মদতদাতা সন্তু লারমাকে গ্রেপ্তার করে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App