×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

প্রথম পাতা

অনিয়মকেই নিয়ম মানেন সিএসজি অটোর চালকরা

Icon

দেব দুলাল মিত্র

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 অনিয়মকেই নিয়ম মানেন সিএসজি অটোর চালকরা
নিয়মনীতি ও আইনের তোয়াক্কা নেই ঢাকায় চলাচলরত সিএনজি অটোরিকশা সার্ভিসে। একজন চালকও মিটারে নির্ধারিত ভাড়ায় চলে না, তবে মিটার চালানো থাকে। মিটারে ৬০ টাকা ভাড়া উঠলেও দিতে হয় ২০০ টাকা। কম দূরত্বে সিএনজি অটোরিকশার সীমাহীন নৈরাজ্যে যাত্রীদের দফা রফা। নগরীর বহু সিএনজি অটোরিকশার মালিক হলেন পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার লোকজন। পুলিশ মালিক হওয়ায় অটোরিকশার চালকরা যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। আইনের তোয়াক্কা করেন না। রাস্তার কোথাও ট্রাফিক পুলিশ এসব অটোরিকশা ধরলেও যখন জানতে পারে ওই অটোরিকশার মালিক একজন পুলিশ সদস্য; তখন আর কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয় না। সড়কে সিএনজি অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচলে ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। 

জানা গেছে, রাজধানীতে এখন ১৫ থেকে ১৬ হাজার বৈধ সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা, মিটারে সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন, মিটারের ভাড়ায় স্বল্প দূরত্বেও যাতায়াত করার শর্তে সরকার সিএনজি অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেয়। কিন্তু এসব নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করে না সিএনজি অটোরিকশার চালকরা। তবে অবৈধ অটোরিকশার সংখ্যা এখন বৈধ অটোরিকশার সংখ্যাকে ছাপিয়ে গেছে। ২০ হাজারের বেশি অবৈধ অটোরিকশা রাজধানীতে চলাচল করছে বলে চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। 

দেশের জেলাগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন রঙের সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। কিন্তু রাজধানী ঢাকা এবং আশপাশের জেলাগুলোতে চলা অটোরিকশাগুলোর রং একই রকমের। সবুজ রংয়ের কারণে পার্শ্ববর্তী অন্য জেলার সিএনজি অটোরিকশাগুলো ঢাকায় চলে আসছে। রাত ৯টার দিকে বাসে বরিশাল থেকে ঢাকার মালিবাগ রেলগেটে এসে নামেন জহিরুল ইসলাম। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে যাওয়ার জন্য সিএনজি ডাকেন। সিএনজি চালক তাকে জানিয়ে দেয় ৩০০ টাকা হলে তিনি যাবেন। 

মিটারে যেতে বললে চালক জানায়, ‘এখন কি আর মিটারের দিন আছে। মিটারে যাইতে চাইলে সিএনজিতে যাওয়া লাগবে না। পুরা রাইত বইয়া থাকতে হইবো।’ উপায় না পেয়ে জহিরুল ২৫০ টাকা চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় রওয়ানা দেন। মিটার যথারীতি চালুই ছিল। তিনি গন্তব্যে পৌঁছে দেখেন মিটারে ভাড়া উঠেছে ৭০ টাকা। অথচ চালক তিনগুণের বেশি ভাড়া আদায় করে নিয়েছে। রাতের বিভিন্ন সময় এবং ভোররাতে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের টার্গেট থাকে বাইরের জেলাগুলো থেকে ঢাকায় আসা যাত্রীরা। এসব যাত্রীদের কাছ থেকে চড়া ভাড়া আদায় করা হয়। এ জন্য সিএনজি চালকরা বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও বাস কাউন্টারে অপেক্ষা করে- এমন এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ১২টায় খুলনা থেকে রাজারবাগ গ্রিনলাইন কাউন্টারের সামনে এসে পৌঁছেন আজিমপুর বাসিন্দা সাদিয়া ইসলাম। 

তিনি জানান, বাস থেকে নেমেই অনেক সিএনজি অটোরিকশা দেখতে পান। কিন্তু কেউই ৪০০ টাকার কমে যাবে না বলে জানিয়ে দেয়। মিটারে যাওয়ার কথা বললে তারা হেসে ওঠে। অথচ চুক্তিতে যেতে সিএনজিতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে চালক মিটার চালিয়ে দেয়। যাওয়ার পথে অভিযোগ করার জন্য কোনো পুলিশ সদস্যকেও পাওয়া যায়নি। এ ধরনের অগণিত ঘটনা প্রতিদিন রাজধানীতে ঘটছে। এছাড়া কম দূরত্বের কোনো জায়গাতেই না যাওয়ার প্রবণতা চালকদের তো রয়েছেই। সিএনজি অটোরিকশা এখন মহাসড়কেও রাজত্ব করছে। 

সিএনজি চালক মোকারম হোসেন বলেন, প্রতিদিন ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ক্ষেত্র বিশেষে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত জমা দিতে হয়। মিটারে চললে জমার টাকা তুলে নিজের সংসার চালানো সম্ভব হবে না। ট্রাফিক জ্যাম, গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় অনেক সময় চলে যায়। কোনো কোনো দিন জমা ওঠাতেই অনেক কষ্ট করতে হয়। তার ওপর আছে প্রাইভেট ও অবৈধ সিএনজির ঝামেলা। ঢাকার বাইরে থেকে আসা এবং অবৈধ সিএনজি অটোরিকশাগুলো কিছুটা কম ভাড়ায় যাত্রী তুলে নেয়। তখন আমাদের বসে থাকতে হয়। আবার প্রাইভেট সিএনজিগুলোও একই কাজ করে। 

মোহাম্মদপুর এলাকার এক সিএনজি অটোরিকশার মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও পুলিশকে টাকা না দিলে আমাদের গাড়ি রাস্তায় চলতে পারে না। আবার অবৈধ ২০ হাজারের বেশি সিএনজি অটোরিকশা পুলিশকে চাঁদা দিয়েই অবাধে রাস্তায় চলছে। প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকশার প্রায় ৮০ শতাংশের মালিকানা নামে ও বেনামে পুলিশ সদস্যদের। ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট, কনস্টেবল, থানা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর, এএসআই প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকশার মালিক। প্রাইভেট সিএনজি ভাড়ায় যাত্রী নেয়ার নিয়ম না থাকলেও এগুলো অবাধে ঢাকায় চলাচল করছে। পুলিশ তাদের কিছু বলে না। পুলিশকে চাঁদা দিতে না হলে দৈনিক জমার টাকা কম হতো। 

সড়ক ও পরিবহন নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এই সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, রাজধানীতে বৈধ ও অবৈধ সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার সিএনজি চলাচল করছে। সারাদেশে চলছে প্রায় ৫ লাখ। সিএনজি অটোরিকশার দৌরাত্ম্য, নৈরাজ্য, আইন অমান্য করা, গলাকাটা ভাড়া আদায় করা নতুন কিছু নয়। বহুদিন ধরে এই নৈরাজ্য চললেও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সদস্যরা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। একটি কোম্পানি করে সব সিএনজি অটোরিকশাকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সব মালিক তাদের সিএনজি অটোরিকশা ওই কোম্পানির অধীনে নির্ধারিত মিটারের ভাড়ায় চালাবে। কোম্পানির কাছ থেকে চালকরা মাসিক বেতন নেবে এবং মালিকরা মুনাফা নেবে। এটা করা হলেই সিএনজি অটোরিকশার নৈরাজ্য বন্ধ হবে বলে আমি মনে করি। 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মুনিবুর রহমান সিএনজি অটৈারিকশার দৌরাত্ম্য প্রসঙ্গে বলেন, রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। এসময় সিএনজি অটোরিকশা মিটারে চলছে কিনা তা দেখার সময় থাকে না। এই দায়িত্ব শুধু পুলিশের ওপর ছেড়ে দিলেই হবে না, অন্য সংস্থা আছে তাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। পুলিশ ভাড়া নিয়ে কোনো অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যাত্রীরা ভাড়া চালকের সঙ্গে মিটিয়ে নেয়। পুলিশ ধরলেও যাত্রীরাই বলে মিটারে যাচ্ছে বলে পুলিশকে জানায়। তখন অভিযোগ না থাকায় পুলিশের কিছুই করার থাকে না। তিনি বলেন, পুলিশ প্রায়ই আকস্মিকভাবে সিএনজির ভাড়া মিটারে নেয়া হচ্ছে কিনা তা তদারকি করে। বৈধ কাগজ না পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App