×

প্রথম পাতা

সতর্কবার্তা জারি

তাপপ্রবাহে ফের পুড়ছে দেশ

Icon

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : বৈশাখী ঝড়ে সারাদেশে সপ্তাহ দুয়েক তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও আবার তা উত্তপ্ত হচ্ছে। শুরু হয়েছে তাপপ্রবাহ। গতকাল বুধবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা জৈষ্ঠ্যের খরতাপে পুড়তে শুরু করেছে। গতকাল বুধবার দেশের তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছে। ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে জনজীবন। এ পরিস্থিতিতে আবার দুদিনের তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা (হিট এলার্ট) জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। তাপমাত্রা বাড়ছে জানিয়ে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক ভোরের কাগজকে বলেন, আপাতত নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। তবে তা বেশি দিন থাকবে না। ১৯ মে পর্যন্ত তাপ্রপবাহ থাকতে পারে। কারণ সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে কালবৈশাখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা প্রশমিত হবে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে আবার উষ্ণতায় অসহনীয় হয়ে ওঠেছে জনজীবন। ব্যাহত হচ্ছে জীবনযাত্রা। রোদের তীব্রতায় খাঁখাঁ করছে মাঠ-ঘাট। মানুষ আবার ঘরবন্দি হয়ে যাচ্ছে। বাইরে বের হওয়া কমিয়ে দিচ্ছে নগরবাসী। আবহাওয়া অধিদপ্তরের জারি করা তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তায় বলা হয়, রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপর দিয়ে চলমান তাপপ্রবাহ বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, পাবনা, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুঁড়িগ্রাম এবং রাঙামাটি জেলাসমূহের উপর দিয়ে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী এবং বান্দরবান জেলাসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগ এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অন্যান্য অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে ও বিস্তার লাভ করতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। পূর্বাভাস অনুসারে ২ মে থেকে সিলেট অঞ্চলের দুয়েক জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়। তবে ৫ মে থেকে দেশের প্রায় সব এলাকায় কালবৈশাখী বয়ে যেতে থাকে, যা মূলত ১৩ মে পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ১৪৭ মিলিমিটার। কিন্তু আস্তে আস্তে বৃষ্টিপাত কমে গেছে। তাপমাত্রা নেমে যায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিন্তু ১৩ মে থেকে তাপমাত্রা আবার বাড়ছে। প্রায় সব এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে ওঠে গেছে। গতকাল বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন সৈয়দপুরে সর্বোচ্চ তাপামাত্রা উঠেছিল ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে। ঢাকায় এক দিনের ব্যবধানে তাপামাত্রা ১ ডিগ্রি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা আগের দিন ছিল ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি। ঢাকায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৫১ শতাংশ। তেতুলিয়া, ঈশ্বরদী ও সৈয়দপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি করে। এছাড়া খুলনায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৬, যশোরে ৩৬ দশমিক ৬, চুয়াডাঙ্গায় ৩৭, মংলায় ৩৭ দশমিক ১, বরিশালে ৩৫ দশমিক ৬, রংপুরে ৩৭ দশমিক ৭, পটুয়াখালীতে ৩৬ দশমিক ৭, খেপুপাড়ায় ৩৬ দশমিক ৬, ময়মনসিংহে ৩৬ দশমিক ২, সিলেটে ৩৬ দশমিক ৫ ও চট্টগ্রামে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পূর্বাভাসে বলা হয়, সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে গতকাল বুধবার দেশের কোথাও বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়নি। সারাদেশে টানা গোটা এপ্রিল মাস ভয়াবহ তাপপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। যা দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম তাপপ্রবাহ। ৭৬ বছরের মধ্যে এরকম তাপপ্রবাহের মুখে পড়েনি বাংলাদেশ। তাপপ্রবাহ শুরু হয় ৩১ মার্চ, যা চলে ২ মে পর্যন্ত। অবশ্য মাঝে সিলেট অঞ্চলের কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে, তবে তা তাপপ্রবাহে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। এ সময়ে তীব্র থেকে অতি তীব্র আকার ধারণ করছে উষ্ণতা। একে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ বলছেন আবহাওয়াবিদেরা। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩০ এপ্রিল যশোরে ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মূলত তাপপ্রবাহ অস্বাভাবিক ছিল। আর ঢাকার তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ তাপমাত্রা অনুভূত হয়েছে ৪২/৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। এ খরতাপে পুড়েছে জনজীবন, পুড়েছে দেশ, পুড়েছে জীববৈচিত্র্য ও প্রাণিকুল। বাতাসে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে বলা হয় মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির উপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App