×

প্রথম পাতা

উত্তর গাজা

ইসরায়েলের সঙ্গে লড়ছে হামাস

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইসরায়েলের  সঙ্গে লড়ছে হামাস
গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় নগরী রাফার পাশাপাশি উত্তর গাজায়ও স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে তীব্র লড়াই চলছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রবিবার রাতে জাবালিয়ায় আক্রমণ করে। বিমান বাহিনীও এই হামলায় যোগ দেয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। 

গাজায় ৭ মাস ধরে চলা ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৭৮ হাজার ৭৫৫ জন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এর আগে জানিয়েছিলেন, জাবালিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান বোমা ফেলছে। জাবালিয়া খুবই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে শরণার্থী-শিবিরও রয়েছে। হামলার শুরুর আগে সাধারণ মানুষকে এলাকা থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল। 

জাতিসংঘের সংগঠন ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, উত্তরে জাবালিয়া ও দক্ষিণে রাফা থেকে বেসামরিক মানুষকে সরে যেতে বলায় তারা খুবই উদ্বিগ্ন। জানা গেছে, জাবালিয়ায় শরণার্থী-শিবিরের ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে ইসরায়েলি ট্যাংক। সালাহউদ্দিন সড়ক পার হয়ে ট্যাংকগুলো শরণার্থী-শিবিরে ঢোকে। সেখানে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তীব্র লড়াই চলছে। 

টাইমস অব ইসরায়েল রবিবার জানিয়েছে, ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) এক থেকে দেড় লাখ ফিলিস্তিনিকে জাবালিয়া এলাকা থেকে চলে যেতে বলেছে। যানবাহন না থাকায় হেঁটেই এলাকা ছাড়ছেন অনেক বাসিন্দা। 

রাফায় আক্রমণে হামাস নির্মূল হবে না : রাফায় ইসরায়েলের সর্বাত্মক হামলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরনের হামলা না চালাতে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন গত রবিবার বলেছেন, রাফা শহরে সর্বাত্মক ইসরায়েলি আক্রমণে হামাস নির্মূল হবে না, বরং তা নৈরাজ্য উসকে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাচি হানেবির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এ ফোনালাপে রাফায় ইসরায়েলের সম্ভাব্য বড় আক্রমণের বিষয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের কথা হানেবিকে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। 

রাফা প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এবিসি টেলিভিশনকে বলেন, ১০ লাখ মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সুরক্ষায় ইসরায়েল কোনো নির্ভরযোগ্য পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইসরায়েল যদি রাফায় বড় ধরনের আক্রমণ করে তাহলে সে অভিযানে ব্যবহার করার মতো গোলাবারুদ ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা হবে। ব্লিঙ্কেন বলেন, যেভাবে অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে আমরা সত্যিই চিন্তিত। বেসামরিক মানুষদের রক্ষা করার কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, (এই সংঘাতে) প্রাথমিকভাবে ইসরায়েল কিছু সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু তাতে প্রচুর বেসামরিক মানুষ মারা গেছেন। রাফায় পূর্ণমাত্রায় ইসরায়েলি আক্রমণ অবিশ্বাস্য চড়া মূল্য নিয়ে আসতে পারে। এমনকি রাফায় একটি বড় আক্রমণ হামাসের হুমকির অবসান ঘটাতে পারবে না। 

রাফা ছেড়েছেন ৩ লাখ ফিলিস্তিনি : রাফায় ইসরায়েলি হামলা জোরদারের জেরে এরই মধ্যে শহরটি ছেড়ে গেছেন ৩ লাখ মানুষ। ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে গাজার অন্যান্য অংশ থেকে এসব মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গাজায় ফিলিস্তিনিদের সাহায্যকারী জাতিসংঘের প্রধান সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ রবিবার জানিয়েছে, প্রায় ৩ লাখ মানুষ গত সপ্তাহে রাফা থেকে পালিয়ে গেছে। ইসরায়েলি আগ্রাসন থেকে বাঁচতে গাজা উপত্যকার দক্ষিণ প্রান্তের এই শহরটি গত ৭ মাস ধরে ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির কাছে আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল। 

গাজায় নিহত ৩৫ হাজার ছাড়াল : গাজায় ৭ মাস ধরে চলা ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৭৮ হাজার ৭৫৫ জন। গত রবিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য দিয়েছে। নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ১৫ হাজার শিশু ও ৯ হাজারের বেশি নারী রয়েছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ১০ হাজারের মতো মরদেহ এখনো ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি ও স্থাপনার নিচে পড়ে আছে।

গাজায় ত্রাণের নতুন পথ : গাজায় ত্রাণ পাঠানোর জন্য নতুন পথ চালু করেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে এই পথ খোলা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। উত্তর ফিলিস্তিনের পশ্চিম ইরেজে এই পথ খোলা হয়েছে। এর আগে ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ গাজায় ত্রাণ প্রবেশের মূল পথ হিসেবে বিবেচিত রাফা ক্রসিং বন্ধ করে দেয়। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই ক্রসিংয়ের কাছে হামাসের সঙ্গে তাদের লড়াই চলছে বলে ক্রসিং বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ থেকে ৫০ অধ্যাপক আটক : গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিক্ষোভ থেকে অন্তত ৫০ জন অধ্যাপককে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কেউ সরাসরি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন, কেউ সংহতি জানিয়েছিলেন বিক্ষোভে। পুলিশ, বিক্ষোভ-সম্পর্কিত সংবাদ ও আদালতের নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, বিক্ষোভের ভিডিও চিত্র ধারণ করার কারণে অধ্যাপকদের আটক করার ঘটনা ঘটেছে। আটক অধ্যাপকদের কেউ কেউ পুলিশের মারধর, হয়রানি ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। 

গাজায় যুদ্ধ বন্ধ, ইসরায়েল সরকার ও ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক ছিন্নসহ বেশ কিছু দাবিতে গত ১৭ এপ্রিল প্রথম বিক্ষোভে নামেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে যুক্তরাষ্ট্রের দেড় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ইউরোপের অন্তত ১২টি দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আড়াই হাজারের বেশি ও ইউরোপে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্প্রতি বিক্ষোভে যোগ দেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ অধ্যাপক। সেই অধ্যাপকদের একজন গ্রায়েম ব্লেয়ার। 

সিএনএনকে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার শঙ্কা নিয়েই বিক্ষোভে যোগ দেন তিনি ও তার সহকর্মীরা। সেদিন তিনি আটক না হলেও তার অন্তত ৪ জন সহকর্মী অধ্যাপককে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। আটকের সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের শারীরিকভাবে হেনস্তাও করেন। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একটি সংগঠন আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস। সংগঠনটির সেন্টার ফর দ্য ডিফেন্স অব একাডেমিক ফ্রিডমের পরিচালক আইজ্যাক কামোলা বলেন, অধ্যাপকদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App