×

প্রথম পাতা

নাবিকদের নিয়ে কুতুবদিয়া পৌঁছেছে জাহাজ আবদুল্লাহ

Icon

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নাবিকদের নিয়ে কুতুবদিয়া পৌঁছেছে জাহাজ আবদুল্লাহ
চট্টগ্রাম অফিস : সোমালীয় জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ কুতুবদিয়ায় পৌঁছেছে। গতকাল সোমবার রাতে জাহাজটি পণ্য খালাসের জন্য কুতুবদিয়া চ্যানেলে নোঙর করে। আজ মঙ্গলবার বিকালে জিম্মি দশা থেকে মুক্ত এমভি আবদুল্লাহর ২৩ জন নাবিক চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সদরঘাটে কেএসআরএমের জেটিতে বরণ করা হবে তাদের। স্বজনদের কাছে ফেরার জন্য উম্মুখ হয়ে আছেন উচ্ছ¡সিত নাবকিরা। কেএসআরএম গ্রুপ জানায়, এমভি আবদুল্লাহ একটি বড় জাহাজ। জাহাজটিতে ৫৬ হাজার ৩৯১ টন চুনাপাথর রয়েছে। এতে জাহাজটির ড্রাফট (পানির নিচের অংশের দৈর্ঘ্য) বেড়ে সাড়ে ১২ মিটার হয়েছে। এত বড় জাহাজ বন্দর জেটিতে ভেড়ানোর সুযোগ না থাকায় কুতুবদিয়ায় নোঙর করা হয়। জাহাজটির ড্রাফট বেশি থাকায় কুতুবদিয়ায় প্রথমে কিছু পরিমাণ পণ্য খালাস করা হবে। সেখানে দুইদিন পণ্য খালাসের পর জাহাজটি পতেঙ্গার কাছাকাছি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বঙ্গোপসাগরে বন্দর জলসীমায় আনা হবে। সেখানে বাকি পণ্য খালাস করা হবে। কিন্তু জিম্মি দশা থেকে মুক্ত ২৩ নাবিককে সমুদ্র পথে ছোট জাহাজের মাধ্যমে আজ চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাটে কেএসআরএমের জেটিতে আনা হবে। জাহাজের মালিকপক্ষ কেএসআরএমের মিডিয়া এডভাইজার মিজানুল ইসলাম জানান, এমভি আবদুল্লাহ সন্ধ্যার পর কুতুবদিয়া চ্যানেলে নোঙর করে। সেখানে কিছু পণ্য খালাস করা হবে। বাকি পণ্য খালাসের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজটি নিয়ে আসার কথা রয়েছে। আজ বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নাবিকরা সবাই সদরঘাটে কেএসআরএমের জেটিতে এসে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা নাবিকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন। জিম্মি দশা থেকে মুক্ত নাবিকরা স্বজনদের কাছে কখন ফিরছেন- জানতে চাইলে মিজানুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, নতুন নাবিকদের একটি টিম আজ (সোমবার) রাতেই কুতুবদিয়ায় এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে যোগ দেবে। তারা জাহাজে যোগ দেয়ার পর জিম্মিদশা থেকে মুক্ত নাবিকরা তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। সব প্রক্রিয়া শেষ করার পর মঙ্গলবার এমভি আবদুল্লাহর নাবিকরা বিকালে সদরঘাটে কেএসআরএম জেটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত গত ১২ মার্চ সোমালিয়ান জলদস্যুরা বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টার দিকে ভারত মহাসাগরে ‘এমভি আবদুল্লাহ’ নামের ওই কয়লাবাহী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ২৩ নাবিককে জিম্মি করে। আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হারামিয়া বন্দরে যাওয়ার পথে জাহাজটি জলদস্যুর কবলে পড়ে। ৩৩ দিনের মাথায় মুক্তিপণ পরিশোধের পর ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ৮ মিনিটে জিম্মি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ থেকে নেমে যায় সোমালিয়ার জলদস্যুরা। প্রায় এক মাস পর জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয় জাহাজটি। জলদস্যুরা নেমে যাওয়ার পরই জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হারামিয়া বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। ২২ এপ্রিল সেটি আল হামরিয়া বন্দরের জেটিতে ভেড়ে। পরে সেখানে পণ্য খালাস শেষে ২৭ এপ্রিল দেশটির মিনা সাকার বন্দরে যায় জাহাজটি। সেখান থেকে পাথর বোঝাই করার পর ৩০ এপ্রিল ফুজাইরা বন্দরে যায় জ্বালানি সংগ্রহ করতে। চুনাপাথর বোঝাই করে চট্টগ্রামের পথে রওনা হয়েছিল জাহাজটি। এ হিসেবে ১৩ দিনের মাথায় জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছাল। দস্যুমুক্ত হওয়ার পর নিরাপদ এলাকায় না পৌঁছা পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুটি যুদ্ধজাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে পাহারা দিয়ে জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রিত উপকূল থেকে সোমালিয়ার সীমানা পার করে দেয়। এস আর শিপিংয়ের কর্মকর্তারা জানান, অবশ্য জাহাজে নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এমভি আবদুল্লাহর রেলিংয়ের চারপাশে লোহার কাঁটাতার, ডেকে ফায়ার হোস, জাহাজে নিরাপত্তার জন্য সংরক্ষিত এলাকা সিটাডেল, ইমার্জেন্সি ফায়ার পাম্প এবং সাউন্ড সিগন্যাল প্রস্তুত রাখা হয়। এর আগে, ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর আরবসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল কেএসআরএম গ্রুপের এস আর শিপিং লিমিটেডের আরেকটি জাহাজ ‘এমভি জাহান মণি’। ওই জাহাজের ২৫ বাংলাদেশি নাবিকের পাশাপাশি এক ক্যাপ্টেনের স্ত্রীসহ ২৬ জনকে ১০০ দিন জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। সরকারি উদ্যোগসহ নানা প্রক্রিয়ায় ২০১১ সালের ১৪ মার্চ জিম্মিদের মুক্তি দেয়া হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App