×

প্রথম পাতা

এক দশকে সর্বনিম্ন

রিজার্ভ কমে ১৮ বিলিয়ন ডলার

Icon

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এক দশকের মধ্যে সর্বনি¤œ পর্যায়ে নেমেছে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১৬৩ কোটি ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে, ২০১৪ সালের শুরুর দিকে রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়ানোর পর আর নিচে নামেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডলার সংকটের কারণে গত দুই বছর ধরে আমদানির পরিমাণ ব্যাপক পরিমাণে কমেছে। অন্যদিকে ডলার আসার (আন্তঃপ্রবাহ) তুলনায় বেশি চলে যাওয়ার (বহিঃপ্রবাহ) কারণে ধারাবাহিকভাবে রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। তারা বলেন, আগের মাসের তুলনায় মার্চ-এপ্রিলের জন্য আকুর পেমেন্ট বেশি করতে হয়েছে। কারণ রমজান ও ঈদের কারণে ওই দুই মাসে বেশ কিছু পণ্যের আমদানি বেড়ে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশকে চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ের জন্য আকুর বিল বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছিল ১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। এরপরই দেশের রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। আঞ্চলিক আমদানির জন্য আকুর এই পেমেন্ট ব্যবস্থার অধীনে নয়টি সদস্য দেশের (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মায়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা) আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করা হয়। প্রতি দুই মাস পর পর আকুর বিল পরিশোধ করতে হয়। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের রিজার্ভে বৈদেশিক মুদ্রা যেসব উৎস থেকে আসে ও ব্যয় হয়, এই দুটোর মধ্যে ভারসাম্য নেই। ফলে রিজার্ভ ধরে রাখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি নিয়ন্ত্রণ করায় বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা কমেছে। তবে এভাবে ধরে রাখাটা কতদিন সম্ভব হবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তিনি বলেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণের ফলে দেশের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে- যার ফলে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ২০২৩ সালের মার্চে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ ছিল ৬ বিলিয়ন ডলারেরও কম। গত বছরে মাত্র তিনবার আমদানি এলসি খোলার পরিমাণ ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে মার্চ ও এপ্রিল মাসে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। রমজানে অন্য সময়ের তুলনায় কিছু পণ্যের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যায়, যেগুলো আমদানি করতে হয়। সে কারণে গত দুই মাসে আকুর পেমেন্টের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, গত ৮ মে বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ ছিল ১৯ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের নিট রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ না করলেও তা ১৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা। এদিকে গতকাল আকুর ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বিল পরিশোধ করার পর দেশের নিট রিজার্ভ ১৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণের শর্ত অনুযায়ী যে রিজার্ভ রাখার কথা, এ পরিমাণ তারচেয়ে কম। ঋণদাতা সংস্থাটি জুনের জন্য নিট রিজার্ভ ১৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার রাখার লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে। আগে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। মূলত চলতি মাসে ৬৮১ মিলিয়ন ডলার ছাড় করার কথা ছিল আইএমএফের। তবে স্টাফ-পর্যায়ে চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এখন প্রায় ১ হাজার ১৫২ মিলিয়ন ডলার পাবে- যা প্রথমে প্রতিশ্রæত পরিমাণের চেয়ে ৬৯ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, চলতি মাসের শেষদিকে বা আগামী মাসের শুরুতে আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তি বাবদ ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেলে রিজার্ভ ফের বাড়বে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App