×

প্রথম পাতা

লিফটে রোগীর মৃত্যু

রোগীর স্বজনদের ওপর সব দায় চাপানোর চেষ্টা

Icon

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক, গাজীপুর : গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফটে রোগী মৃত্যুর ঘটনাটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে ‘লিফটে আটকে পড়া রোগীসহ লোকজন দরজা ধাক্কাধাক্কি করায় লিফটের দরজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করেনি’ বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া, লিফটে রোগীসহ অন্যরা ৪৫ মিনিট নয়, মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট আটকে ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে লিফটে আটকা পড়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গতকাল সোমবার ৩ সদস্যের তদন্ত দলের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দলের নেতৃত্ব দেন কমিটির প্রধান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ডেন্টাল) ডা. মাহমুদা বেগম। সদস্যরা হলেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. খায়রুজ্জামান ও সহকারী পরিচালক ডা. মো. মাসুদ রেজা খান। ডা. মাহমুদা বেগম বলেন, রবিবার সকালে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফটে আটকা পড়ে নিহত হওয়ার খবর মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার পর এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে ঘটনার তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আমরা হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক, নার্স, লিফটের অপারেটর, ওয়ার্ড বয় ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য নিয়েছি। তদন্তে লিফট বন্ধের কারণ, তা কতক্ষণ বন্ধ ছিল, লিফটে আটকা পড়া লোকজন কীভাবে উদ্ধার হলো ও রোগী মৃত্যুর ঘটনায় কারো কোনো অবহেলা ছিল কিনা- সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির সদস্য মো. মাসুদ রেজা খান বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরে যান্ত্রিক ত্রæটি দেখা দিলে ৩ নম্বর লিফট থেমে যায়। লিফটের ভেতর রোগীসহ তার স্বজন ও অন্যরা ১০ মিনিটের মতো আটকে ছিলেন। ১০ মিনিট পরে তাদের উদ্ধার করে আনা হয়। রোগীর স্বজনরা ৪০ মিনিট ভেতরে আটকে ছিলেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়টিও আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনার সময় ওই লিফটের ভেতরে কোনো লিফটম্যান বা অপারেটর ছিল না। আমরা নিহতের স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলার জন্য তাদের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করেছি। এদিকে এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে হাসপাতালের জরুরি সেবা, লিফট ও সার্ভিস ম্যানেজমেন্টসহ হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সারাদেশের সব সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে জরুরিভিত্তিতে ভিডিও কনফারেন্স করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম। এ সময় অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। লিফটে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে। এই কমিটি তদন্ত শুরু করেছে বলে হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ঘটনাটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রবিবার বিকেলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে চিঠিটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম ও গণপূর্ত ই/এম বিভাগ ১০, ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হালিম। চিঠিতে ‘লিফটে আটকে পড়া রোগীসহ লোকজন দরজা ধাক্কাধাক্কি করায় লিফটের দরজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করেনি’ বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া, লিফটে রোগীসহ অন্যরা ৪৫ মিনিট নয়, মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট আটকে ছিলেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রবিবার রাত ১১টার দিকে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চিঠিটি গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে যা বলা হয়েছে, এটি তাদের প্রাথমিক ধারণা। প্রসঙ্গত, গত রবিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগ থেকে সিসিইউতে স্থানান্তরের সময় লিফটে আটকা পড়ে মারা যান গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ (৫০)। ৪৫ মিনিট আটকে থাকেন রোগী ও স্বজনরা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App