×

প্রথম পাতা

এসএসসি ও সমমান

ফলাফলের সব সূচকেই মেয়ে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে

Icon

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 ফলাফলের সব সূচকেই  মেয়ে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য : চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। এই পরীক্ষায় ছাত্রীদের এগিয়ে যাওয়ার সংখ্যা বাড়তে শুরু করে ২০১৮ সাল থেকে। সাত বছর আগে থেকে যে ধারা শুরু হয়েছিল- ২০২৪ সালেও বহাল রয়েছে। ক্রমেই মেয়েদের এই এগিয়ে যাওয়ার পেছনে সরকারের নানা উদ্যোগ, সামাজিক অগ্রগতিসহ বেশ কিছু কারণ তুলে ধরেছেন বিশ্লেষকরা। তবে ছেলেরা কেন মেয়েদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন তারা। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সার্বিকভাবে এবার মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাই ছিল বেশি। মোট ২০ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে মেয়ে ১০ লাখ ২৪ হাজার ৮০৩ জন; ছেলেদের সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৭৯৪ জন। ছাত্রীদের এগিয়ে থাকার পাশাপাশি ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মতো কঠিন বিষয়ে ভালো নম্বর পাওয়ায় পাসের হার গতবারের চেয়ে ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। ছাত্র ও ছাত্রীর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছর ৮৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ ছাত্রী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। শুধু পাসের হারেই নয়, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। এবার পূর্ণাঙ্গ জিপিএ অর্থাৎ পাঁচে পাঁচ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। তাদের মধ্যে ৮৩ হাজার ৩৫৩ জন ছাত্র; আর ৯৮ হাজার ৭৭৬ জন ছাত্রী। সেই হিসেবে ১৫ হাজার ৪২৩ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। সব মিলিয়ে এ বছর সার্বিক পাসের হার ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন। বোর্ডওয়ারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যশোর বোর্ডে এবার দেশসেরা ফলাফল হয়েছে। গত বছরের বিপর্যয় কাটিয়ে বোর্ডটিতে এবার পাসের হার ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। উল্টোদিকে, সিলেট বোর্ডে সবচেয়ে কম ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, সিলেট বোর্ডে ফল বিপর্যয়ের জন্য মানসম্মত শিক্ষকের অভাবের পাশাপাশি মানবিক বিভাগে সাধারণ বিজ্ঞান এবং ধর্মশিক্ষা বিষয়ে হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সেখানে পাসের হার কমেছে। ধর্ম শিক্ষার মতো বিষয়ে শিক্ষার্থীরা কেন ফেল করল তা ভাবাচ্ছে। অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর মতে, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের এসএসসির ফল ভালো হয়েছে। ফলের সার্বিক দিকে বিশ্লেষণ করলে ভালো দিক বেশি। সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানা পদক্ষেপের কারণে এমন ফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। ফলাফল প্রকাশের পর মন্ত্রী বলেন, করোনার আগের বছর ২০১৯ বা তার আগের বছরগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে ওই সময় পাসের হার সাধারণত ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশের ঘরে থাকত। মাঝে ২০২১ ও ২০২২ শিক্ষাবর্ষে পাসের হার বেড়ে ৯০ শতাংশের বেশি হয়। এর কারণ ছিল সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে কম বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া। গত বছরের মতো এবার পূর্ণ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরে পরীক্ষা হয়েছে। তাই এ বছর আগের মতো স্বাভাবিক নিয়মে পরীক্ষায় ফেরায় ফল ৮০ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। এটাকে স্বাভাবিক ফল বলা যায়। এবার, জিপিএ-৫ কিছুটা কমেছে, তবে এটাকে খারাপ ফল বলা যাবে না। ছেলেদের পিছিয়ে পড়া সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, মেয়েদের মতো ছেলেদেরও উপবৃত্তি দেয়ার ভাবনা রয়েছে সরকারের। এর আগে গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে গণভবনে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। এ সময় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্র সংখ্যা কমে যাওয়ার এবং পাসের হারে নিয়মিতভাবে ছাত্রদের পিছিয়ে থাকার কারণ খুঁজতে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কারণটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে, ছাত্র সংখ্যা কেন কম। ছেলেদের সংখ্যা কমার কারণ জানার পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিবিএসকে বলতে পারি জরিপের সময় এটা জানার চেষ্টা করতে। কী কারণে ছেলেরা কমবে? মেয়েরা বাড়লে খুশি হই। সমান সমান হলে ভালো। কিন্ত ছেলে কেন কমলো এটা জানতে হবে। ভালো ফলে এগিয়ে মেয়েরা : এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি ভালো ফলাফল করেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড তো বটেই, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও মেয়েদের পাসের হার ছেলেদের চেয়ে বেশি। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। সার্বিকভাবে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সব বোর্ড মিলিয়ে মেয়েদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বিপরীতে ছেলেদের পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলেও মেয়েরা এগিয়ে। ৯ বোর্ড মিলিয়ে মেয়েদের পাসের হার ৮৫ শতাংশ। বিপরীতে ছেলেদের পাসের হার ৮২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। একই চিত্র দেখা গেছে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও। মাদ্রাসা বোর্ডে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়া মেয়েদের ৮০ দশমিক ৫৭ শতাংশই পাস করেছে। ছেলেরা পাস করেছে ৭৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মেয়েদের পাসের হার ৮৮ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ, যেখানে ছেলেদের পাসের হার ৭৯ দশমিক ১৯ শতাংশ। কেবল পাসের হার নয়, জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে অনেকটাই। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের সম্মিলিত তথ্য বলছে, ৯৮ হাজার ৭৭৬ জন মেয়ে শিক্ষার্থী এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায়। ছেলেদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৩ হাজার ৩৫৩ জন। সে হিসাবে ছেলেদের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার বেশি মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তথ্য বলছে, মেয়েরা জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ হাজার ১৬৮ জন। বিপরীতে এসব বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৭৪ হাজার ৬৭৭ জন ছেলে পরীক্ষার্থী পেয়েছে জিপিএ-৫। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়া সাত হাজার ৪৬৭ জন মেয়ে পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছেলেরা পেয়েছে ছয় হাজার ৭৩৯ জন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয়া দুই হাজার ১৪১ মেয়ে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছেলেরা জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ৯৩৭ জন। মেয়েদের এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা নিয়ে কাজ করা এনজিও গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রধান নির্বাহী রাশেদা কে চৌধুরী ভোরের কাগজকে বলেন, এটি হঠাৎ করে আসেনি। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ থাকার কারণেই গত কয়েক বছর ধরে মেয়েদের অগ্রযাত্রা দেখা যাচ্ছে। অবশ্য এ জায়গায় আসতে মেয়েদের অনেক ঝুঁকিও নিতে হয়েছে। তারা বাল্যবিয়ে জয় করেছে, দারিদ্র্যতা মোকাবিলা করে এমন সাহসী হয়েছে। তবে তিনি এও বলেন, এক গ্রুপকে (মেয়ে) সমতা দিতে গিয়ে অন্য গ্রুপকে অসমান করা উচিত হবে না। এজন্য ছেলেদের পিছিয়ে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি। তবে মোটা দাগে এটা বলা যায়, ছেলেরা অমনোযোগী থাকার পাশাপাশি শ্রমেও চলে যায়। কেন পড়াশোনা ছেড়ে শ্রমে চলে যায় তা বের করতে পারলে সমাধানও পাওয়া যাবে। ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাসে আসে না। মোবাইল ঘাটাঘাটি করে রাতে। এতে শিক্ষার্থীরা সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারে না। অভিভাবকদের বলে ক্লাস হয় না। অনেকে সেটাই বিশ্বাস করে। শিক্ষার্থীদের এমন ফাঁকি পরীক্ষার ফলাফলে এসে প্রভাব পড়ে। বিষয়ভিত্তিক ফলাফল : প্রকাশিত বিষয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, পৌরনীতি এবং হিসাববিজ্ঞানের মতো বিষয়ে পাস করা পরীক্ষার্থীরা ৯০ শতাংশের ওপরে নম্বর পেয়েছে। কেবলমাত্র গণিত বিষয়ে ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ এবং মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা ৯০ শতাংশের নিচে নম্বর পেয়েছে। এতে বোঝা যায়, কঠিন বিষয়ে ভালো নম্বর পেলেই পাসের হারও বেড়ে যায়। জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার ভোরের কাগজকে বলেন, এবারের পরীক্ষার্থীরা করোনার পর দুই বছর পুরোপুরিভাবে পড়তে পেরেছে। পাশাপাশি ইংরেজি ও গণিতের মতো কঠিন বিষয়ের ভীতি কাটিয়ে উঠা গেছে। কঠিন বিষয়ের ভীতি কেটে যাওয়ায় ফলাফলও ভালো হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ এম এম মুজিবুর রহমান বলেন, ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালে তিন বছর কোভিড মহামারির জন্য সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা হয়েছিল। তিন বছর পর ২০২৩ সালে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে ১৩০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। এবারো পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা হয়েছে। ফলাফলে দেখা গেছে, প্রতিটি বিষয়েই ৯০ শতাংশের উপরে পরীক্ষার্থী পাস করলেও সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিতে সার্বিকভাবে পরীক্ষার্থীরা খারাপ করেছে। তবে একেবারে খারাপ হয়েছে বলা যাবে না, সেখানেও ৯০ শতাংশের ওপরে পাস করেছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা গণিত অনুশীলনের ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে আছে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, স্কুলে পর্যাপ্তসংখ্যক বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করে মানসম্মত পাঠদানের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, পাহাড়ের স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা এগিয়ে গেছে। এটা একটা ভালো দিক। এর কারণ হিসেবে আমরা যেটা ধারণা করছি, কোভিড মহামারিকাল কাটিয়ে আমাদের শিক্ষাঙ্গনে এখন যে স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত এক দশকের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এবারই পাহাড়ের পরীক্ষার্থীরা তুলনামূলক এগিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিপর্যয় কাটিয়ে দেশসেরা যশোর শিক্ষা বোর্ড : গত বছরের বিপর্যয় কাটিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেশসেরা হয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৩৩, যা দেশের সবকটি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সেরা। ঘুরে দাঁড়ানোর কারণ জানতে চাইলে যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিশ্বাস শাহিন আহম্মেদ বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নব্যাংক থেকে মানসম্মত প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষা দেয়। এ কারণে বোর্ডের চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মুখোমুখি হওয়া তাদের জন্য সহজ হয়েছে। এছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক জাগরণ সৃষ্টি করা হয়েছে। এটাও ফল ভালো হওয়ার একটি বড় কারণ। এছাড়া শ্রেণিকক্ষে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের উপস্থিতি বেশি। পড়াশোনায় তারা মনোযোগীও তুলনামূলক বেশি। তা ছাড়া মেয়েদের এগিয়ে দিতে অভিভাবকরাও এখন বেশি সচেতন। সব মিলিয়ে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো করছে। সবার নিচে সিলেট : গত বছরের মতো এবারো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হারে শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবার নিচে সিলেটের অবস্থান। ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে মানবিক বিভাগে বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে কম পাস করা এবং সিলেট বিভাগে মানসম্মত শিক্ষকের অভাবকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বলে জানিয়েছেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রমাবিজয় সরকার। তিনি জানান, গতবারের তুলনায় এবার এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তের সংখ্যা বাড়লেও পাসের হার কমেছে। সিলেট বোর্ডে এবার পাসের হার ৭৩ দশমিক ৩৫, যা গতবার ছিল ৭৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। তিনি বলেন, সিলেট বিভাগে মানসম্মত শিক্ষকের অভাব রয়েছে। এছাড়া মানবিক শাখায় বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাস কম করায় পাসের হারে পিছিয়ে পড়েছে। বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীরা কম পাস করেছে। এতে ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে সুনামগঞ্জ জেলা। সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে হবিগঞ্জ। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় বেশির ভাগ শিক্ষার্থী সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এছাড়া এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ধর্মশিক্ষা বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ১০৫ জন শিক্ষার্থী। এবার ৫১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাস করেনি কেউই : চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে ৫১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠান ছিল ৪৮টি। গতকাল রবিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, চলতি বছর শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই হাজার ৯৬৮টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৩৫৯টি। বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৬০৯টি। অন্যদিকে চলতি বছর একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫১টি। বছরের ব্যবধানে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৩টি। শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে- জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার্থীরা। বিকল্প পদ্ধতিতে কীভাবে এ সমস্যার সমাধান করা যায়, তা বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, যেসব স্কুলে শূন্য পাস সেখানে শিক্ষার্থী হয়ত একজন, দুজন বা দশজনের কম। এসব প্রতিষ্ঠান যদি এমপিও নেয় তবে তাদেরকে পাশের স্কুলের সঙ্গে একীভূত করা যায় কিনা সেটা ভাবা হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App