×

প্রথম পাতা

একীভূত হওয়ার চুক্তি করল সোনালী ব্যাংক-বিডিবিএল

Icon

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

একীভূত হওয়ার চুক্তি করল সোনালী ব্যাংক-বিডিবিএল
কাগজ প্রতিবেদক : খেলাপি ঋণ আদায় করতে না পেরে এবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-বিডিবিএল। বাংলাদেশ ব্যাংকে দুই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানসহ দুই ব্যাংকের বোর্ডের সদস্যদের উপস্থিতিতে গতকাল রবিবার চুক্তি সই হয়। আগামী ছয় থেকে সাতমাসের মধ্যে একীভূত হওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানিয়েছেন তারা। ব্যাংক পরিচালনায় কারা থাকবেন সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্জার নীতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন হবে। চুক্তির পর দুই ব্যাংকের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, নিজেদের ইচ্ছাতেই একীভূত হয়েছেন তারা। সেখানে তারা যুক্তি দিয়েছেন, যেহেতু দুটোই বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত একটি প্রক্রিয়ায় রয়েছে সেখানে তারা যদি একই সঙ্গে মার্জারে যায় তাহলে দুটি ব্যাংকই সুবিধা পাবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান শামীমা নার্গিস, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি উপদেষ্টা আবু ফারাহ মো. নাছের, ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, উভয় ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দেড় যুগ আগে দুটি বিপর্যস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থাকে একীভূত করে গঠন করা হয়েছিল বিডিবিএল। কার্যক্রম শুরুর দেড় দশক শেষে, গেল ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির বিতরণ করা ঋণের পরিমান ছিল ২ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। যার মধ্যে ৯৮২ কোটি বা ৪২ শতাংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। ভালো নয় বাকি সব আর্থিক সূচকও। ধুঁকতে থাকা সেই বিডিবিএল এবার একীভূত হলো দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালীর সঙ্গে। গত মার্চে, বেসরকারি খাতের পদ্মা ও এক্সিম ব্যাংকের একীভূতকরণের চুক্তির পরই, একই উদ্যোগ শুরু করে সোনালী আর বিডিবিএল। এরপর এপ্রিলে দুই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে অনুমোদন দিলে একীভূতকরণের কার্যক্রম শুরু হয়। রবিবার এ বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি শেষে দুই ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, একীভূত হলেও বিডিবিএলের কোনো কর্মী চাকরি হারাবেন না। সেই সঙ্গে তারা নিশ্চিত করেছেন, একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। গ্রাহকদের বিষয়গুলো নিয়ম অনুযায়ীই চলবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে, দুটো ব্যাংকের যারা কর্মরত রয়েছেন, তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও ঠিকঠাক থাকবে। তারা জানান, একীভূত হওয়ার আগে ব্যাংকগুলো নিজেদের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা করে। সেখানে তারা দুই ব্যাংকের বিভিন্ন সূচক উপস্থাপন করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের সক্ষমতা পর্যালোচনা করে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিডিবিএল। এ সময় সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী বলেন, আমরা অনেক চিন্তা ভাবনা করেই মার্জারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা কোনো চাপের মুখে নয়, নিজেরাই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের দুই ব্যাংকের দুই ধরনের অভিজ্ঞতা আছে। সেগুলো কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। আজকে বিডিবিএলের চেয়ারম্যানও ছিলেন এখানে। তার কিছু প্রশ্ন ছিল। গভর্নর সেগুলোর সন্তোষজনক জবাব দিয়েছেন। সোনালী ব্যাংকের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. আফজাল করিম বলেন, সোনালী ব্যাংকের এই মুহূর্তে আমানত এক লাখ পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা। অপরদিকে বিডিবিএলের ৩২০০ কোটি টাকা। যা প্রায় ৫০ ভাগের এক ভাগ। একই অবস্থা ঋণের ক্ষেত্রেও। কাজেই এটা সোনালী ব্যাংকে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। আর বিডিবিএলের কর্মীদের শঙ্কা বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের প্রায় ১৮ হাজার কর্মী আছে, এখনো প্রায় ৮ হাজার কর্মী প্রয়োজন। আর বিডিবিএলের ছয়শর মতো কর্মী আছে। সুতরাং তাদের শঙ্কার কিছু নেই। অপরদিকে, শুধুমাত্র খেলাপি ঋণের সূচকেই যদি পিছিয়ে থাকে তাহলে একীভূত হওয়ার প্রয়োজন কেন হলো- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে বিডিবিএলের চেয়ারম্যান শামীমা নারগিস জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে নিয়ম দেয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী আগামী ছয় মাসের মধ্যে খেলাপি ঋণের ১৫ শতাংশ অর্থ তুলে আনা সম্ভব নয়। আবার পুনরায় এখানে বিনিয়োগ করাও সম্ভব নয়। যদি সেটি সম্ভব না হয় তাহলে জোর করেই অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হবে। সেটি বিডিবিএলের জন্য সুখকর নাও হতে পারে। সেজন্য তারা নিজেরাই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, বিডিবিএলের এই মুহুর্তে ৩০ শতাংশের বেশি ঋণখেলাপি রয়েছে। তবে বাজেট ঘাটতি ও মূলধনে কোনো নেতিবাচক ধারায় নেই। সম্পদের অনুপাতে সোনালী ব্যাংকের বিজনেস ভলিয়ম ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, যেখানে বিডিবিএলের মাত্র ৩২শ কোটি টাকা। আর সোনালী ব্যাংকের লোন অ্যাসেট প্রায় ১শ কোটি টাকা- যার বিপরীতে বিডিবিএলের ২৭শ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ব্যাংক সংস্কারের পদক্ষেপ হিসেবে বেশ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১৮ মার্চ এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংক প্রথমবারের মতো একীভূত হওয়ার চুক্তি সই হয়। তবে আরো কয়েকটি ব্যাংকের একীভূত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসরকারি একটি ব্যাংকের সঙ্গে বেসিক ব্যাংক এবং অপর একটির সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংকের একীভূত হওয়ার কথা শোনা গেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App