×

প্রথম পাতা

গাজায় মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন ইসরায়েলের, আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের

Icon

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গাজায় মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন ইসরায়েলের, আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের
কাগজ ডেস্ক : গাজা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াশিংটন। গত শুক্রবার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাইডেন প্রশাসন। এ বিষয়ে ইসরায়েলের কার্যকলাপ পর্যালোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। বিবিসি এ খবর দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সরবরাহ করা অস্ত্রের অপব্যবহার করে থাকতে পারে ইসরায়েল। প্রতিবেদনটি কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সম্পূর্ণ তথ্য না থাকায় ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ আপাতত বন্ধ করছে না যুক্তরাষ্ট্র। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্রগুলো ইসরায়েলসহ অন্যরা কীভাবে ব্যবহার করেছে, তা পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। গাজায় ইসরায়েলের কিছু অভিযানের বিষয়ে স্পষ্টভাবে সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, কিছু হামলায় এসব অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে থাকতে পারে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে হামাসকে মোকাবিলা করার জন্য ইসরায়েলের ‘উন্নত সামরিক সক্ষমতার’ প্রয়োজন রয়েছে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আইন মেনে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে ইসরায়েল আশ্বাস দিয়েছিল। নথিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হামাস সামরিক উদ্দেশে বেসামরিক অবকাঠামো ও বেসামরিক নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। তাই সক্রিয় যুদ্ধ অঞ্চলে ইসরায়েলের বৈধ লক্ষ্যবস্তুগুলো নির্ধারণ করা কঠিন ছিল।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন অস্ত্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ইসরায়েল। তাদের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সম্পর্কে জানার কথা। বেসামরিক ক্ষতি কমানোর সর্বোত্তম চেষ্টাও হয়তো করেছিল। তবে গাজায় অসংখ্য বেসামরিক ফিলিস্তিনি নিহতের কারণে ওই আইন মেনে যথাযথভাবে এসব অস্ত্র ব্যবহার করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য ইসরায়েলকে বারবার অনুরোধ করে আসছে জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে এসব সংস্থার মতামতও নেয়া হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, বেসামরিক ক্ষতি কমানোর জন্য ইসরায়েল যে চেষ্টা করেছিল তা ‘অসংগত, অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত’। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধান বলছে, গত বছর সংঘাত শুরুর পর প্রথম কয়েক মাস গাজায় ত্রাণসহায়তা পাঠানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি সহযোগিতা করেনি ইসরায়েল। তবে বর্তমানে এই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। অন্যদের সঙ্গে প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন তুরস্কে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড স্যাটারফিল্ড। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনার আওতায় আসতে যাচ্ছে। আমরা পর্যালোচনার ফলাফল খুব খোলামেলা এবং বিশ্বাসযোগ্য করতে চাইছি। তাই সব দিকই বিবেচনায় নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ জিম্মিদের মুক্তি দিলে ‘কালই’ যুদ্ধবিরতি : বাইডেন এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, হামাস যদি আটক ১২৮ জিম্মিকে মুক্তি দেয়, তবে ‘আগামীকাল’ থেকেই যুদ্ধবিরতি সম্ভব গাজায়। গত শনিবার রাজধানী ওয়াশিংটনের সিয়াটলে মাইক্রোসফ্টের সাবেক নির্বাহীর বাড়িতে উপস্থিত ১০০ মানুষের সামনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে শুক্রবার অনুরূপ তিনটি অনুষ্ঠানে বিষয়টি এড়িয়ে যান বাইডেন। খবর টাইস অব ইসরাইল ও হিন্দুস্তান টাইমসের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইসরায়েল বলেছে এটি (যুদ্ধবিরতি) হামাসের ওপর নির্ভর করে। তারা যদি জিম্মিদের মুক্তি দেয় তাহলে আমরা আগামীকাল যুদ্ধ বন্ধ করতে পারব।’ গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের জিম্মি করা হয় এবং নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে হামাস যোদ্ধারা। হামাসের অতর্কিত সেই হামলার জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। হামলায় এ পর্যন্ত ৩৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং গোটা গাজা উপত্যকা কার্যত পরিণত হয়েছে ধ্বংস্তূপে। বাইডেন গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু ইসরাইলের যুদ্ধকালীন সরকার তাতে কর্ণপাত না করে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে রাফায় অভিযান শুরু করে। এবার সমাবর্তন বর্জন ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে : ইসরায়েলবিরোধী চলমান বিক্ষোভের মধ্যে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছুসংখ্যক ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থী তাদের সমাবর্তন অনুষ্ঠান বর্জন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া ব্যক্তিকে সমাবর্তনে বক্তা করায় শিক্ষার্থীরা ওই সমাবর্তন বর্জন করলেন। ওই বক্তা এর আগে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। স্থানীয় সময় শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে দেখা গেছে, ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভিসিইউ) শিক্ষার্থীরা গাউন ও ক্যাপ পরা অবস্থায় সমাবর্তন অনুষ্ঠানের কক্ষ থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নর গেøন ইয়ংকিন তখন সমাবর্তন অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখছিলেন। বস্তুতঃ ইয়ংকিনকে সমাবর্তনের বক্তা করার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। কারণ, তিনি গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি দেয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন। এছাড়া ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন বর্ণবাদবিষয়ক একটি পাঠ্যক্রম চালু করার কথা ভাবছিল, তখন সেটির বিরোধিতা করার কারণেও ইয়ংকিন সমালোচিত হয়েছিলেন। ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষার্থী সমাবর্তন বর্জন করেছেন, তাদের একজন শিরিন হাদাদ। গত শনিবার তিনি বিবিসিকে বলেন, সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্য শুরু করার পর বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা এত জোরে তালি বাজাতে শুরু করেন যে, অন্যরা ইয়ংকিনের কোনো কথাই শুনতে পাচ্ছিলেন না। এরপর অন্তত ১৫০ জন শিক্ষার্থী একসঙ্গে সমাবর্তন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান বলেও জানান হাদাদ। তাতে অবশ্য ইয়ংকিন তার স্বাগত বক্তব্য থামাননি। অনুষ্ঠান শেষে তিনি সমাবর্তনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টও দিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীরা যেভাবে সমাবর্তন অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন, সে বিষয়ে তাকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়নি। গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বিক্ষোভ-সমাবেশ করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। বিবিসি জানায়, দেশটিতে কমপক্ষে ১৩০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। ইসরায়েলের সঙ্গে থাকা আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিও জানাচ্ছেন ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীরা। গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হয়েছেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির হিসেবে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৫৭টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে প্রায় দুই হাজার ৯০০ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App